পেঁয়াজের দাম পাঁচ টাকা

0
92

কয়েক মাস আগেই রাজধানীর বাজারে এক কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ কেনা যেত ২০ টাকায়। ১০০ টাকার পেঁয়াজেই একটি মাঝারি পরিবারের পুরো মাস চলে যেত। আর এখন ২০ টাকায় মিলছে এক হালি পেঁয়াজ। গড়পড়তা আকৃতির একটি ভারতীয় পেঁয়াজের দাম পড়ছে ৫ টাকা।
ক্রেতারা পেঁয়াজ কেনেন কেজি দরে, সেখানে হালির হিসাব কেন? এর কারণ, বাজারে পেঁয়াজের দাম সকাল-বিকেল বাড়ছে। দর এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কেজি হিসাবে পেঁয়াজ কেনার সামর্থ্য সবার না-ও থাকতে পারে। ঢাকার বাজারে গতকাল রোববার প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম উঠেছে ৮৫-৯০ টাকায়। এ তুলনায় ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কমই বলা যায়, প্রতি কেজি ৭০ টাকা।
রাজধানীর ছোট বাজার বা মুদি দোকানে কোনো বিক্রেতা নতুন কেনা দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৯০-১০০ টাকাও চাইছেন। অবশ্য গতকাল কারওয়ান বাজারের পাইকারি দোকানগুলোতে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৭৮ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৮ টাকায় বিক্রি হয়।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের তালিকা অনুযায়ী, এক মাসে বাজারে পেঁয়াজের দাম ৭১ শতাংশ বেড়েছে। এক বছর আগে এক কেজি পেঁয়াজের দাম ২০ থেকে ৩৫ টাকা ছিল বলে জানায় টিসিবি।
একটি পরিবারে মাসে গড়পড়তা পাঁচ কেজি পেঁয়াজ লাগে। আপনি যদি দেশি পেঁয়াজের ক্রেতা হন, তাহলে এক বছর আগে পণ্যটির পেছনে আপনার মাসে খরচ ছিল ১৭৫ টাকা। এখন একই পরিমাণ পেঁয়াজ কিনতে আপনার খরচ হবে ৪২৫ টাকা।
কারওয়ান বাজারে গতকাল মামুন হোসেনের দোকানে গিয়ে মেপে দেখা যায়, আধা কেজিতে ভারতীয় পেঁয়াজ উঠেছে সাতটি। এ হিসাবে একটি পেঁয়াজের দাম পড়ছে পাঁচ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজের আকার মোটামুটি বড়। একটি ভারতীয় পেঁয়াজের সমান হবে তিনটি বড় আকৃতির দেশি পেঁয়াজ। একটি দেশি পেঁয়াজের দাম পড়বে দুই টাকা।
মামুন হোসেনের দোকানে মিনিট দশেক দাঁড়িয়ে থেকে দেখা গেল, ক্রেতারা পেঁয়াজের দাম জিজ্ঞেস করে সামনে হাঁটা দিচ্ছেন। দু-একজন কিনলেও পরিমাণে কম। মামুন বলেন, ‘শনিবার সারা দিনে মাত্র ২১ কেজি বিক্রি হয়েছে। এত খারাপ অবস্থা কখনো হয় না। যখন বিক্রি কম হয়, তখনো ১০০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করি।’
মামুনের দোকানেই আধা কেজি পেঁয়াজ কিনতে গিয়েছিলেন আবদুল মান্নান। পেঁয়াজের দাম শুনে কষ্টের সুরে তিনি বলেন, ‘চাউল কিনমু, না পেঁয়াজ কিনমু।’ কথা বলে জানা যায়, মান্নান একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ছোট চাকরি করেন। ঢাকায় মেসে থাকেন। গত সপ্তাহে তিনি একই পেঁয়াজ ৫০ টাকায় কিনেছিলেন।
বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৭ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। এর বাইরে ৫ থেকে ৬ লাখ টন আমদানি করা হয়। যার বেশির ভাগ আসে ভারত থেকে। বছরের শেষ দিকে এসে প্রতিবারই পেঁয়াজের দাম বাড়ে। তবে এবার অনেক বেশি বেড়েছে। গত আগস্ট মাসে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৫ টাকায় উঠেছিল। এরপর ভারতের সঙ্গে মিলিয়ে দেশেও দাম কমে যায়। ভারতের বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতি মাসের শুরু থেকে আবার দাম বাড়তে থাকে।
ভারতীয় পত্রিকা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর এক খবরে গত বুধবার বলা হয়, দেশটির সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার লাসালগাঁওয়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৮ রুপিতে উঠেছে, যা দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দর।
এদিকে পেঁয়াজের দাম নিয়ে ভারতীয় সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব কনজ্যুমার অ্যাফেয়ার্স গত মঙ্গলবার একটি বৈঠক করেছে। এতে জানানো হয়, অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে নতুন খরিফ মৌসুমের পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়বে। এতে দাম কমে যাবে। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর আরেক খবরে এসব তথ্য জানানো হয়।
দেশের বাজারে নতুন মৌসুমের ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ ওঠার কথা ডিসেম্বরের শুরু থেকে। রাজধানীর শ্যামবাজারের একজন পেঁয়াজ আমদানিকারক বলেন, এবার বৃষ্টিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারতীয় নতুন পেঁয়াজ নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে আমদানি শুরু হবে। তখন দাম কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বগুড়ায় পেঁয়াজের দাম চড়া
বগুড়া থেকে প্রথম আলোর প্রতিনিধি আনোয়ার পারভেজ জানান, বগুড়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়।
উত্তরাঞ্চলে পেঁয়াজের অন্যতম পাইকারি আড়ত বগুড়ার রাজাবাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলে পেঁয়াজের বাজার নির্ভরশীল আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহের ওপর। ভারত থেকে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর হয়ে এই পেঁয়াজ আসে বগুড়ার রাজাবাজার আড়তে।
রাজাবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী সুলতান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, সাত দিন আগে বগুড়ার এই পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ এবং ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে শনিবার এই বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৮০ এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৬ টাকায় উঠেছে।
হিলি স্থলবন্দরের রবিউল ইসলাম নামের একজন আমদানিকারক বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার মেট্রিক টন। অক্টোবর মাসে পেঁয়াজের সেই আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here