বাবা-মায়ের খেদমতে গোনাহ মাফ হয়

0
148

বাবা-মায়ের খেদমত কোনো করুণার বিষয়বস্তু নয়। এটি সবার জন্য অবশ্যপালনীয় কর্তব্য। বাবা-মায়ের খেদমত মোমিনদের জন্য জান্নাতের পাথেয়। যে ব্যক্তির ওপর তার বাবা-মা রাজি-খুশি থাকেন, ওই ব্যক্তির ওপর আল্লাহ খুশি থাকেন। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমার প্রভু নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে উত্তম আচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়ই যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের ‘উফ’ বলো না এবং তাদের ধমক দিও না। আর তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বল। আর তাদের উভয়ের জন্য দয়াপরবশ হয়ে মমতা ও নম্রতার ডানা বিছিয়ে দাও এবং বল, ‘হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন, যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালন-পালন করেছেন।’ (সূরা বনী ইসরাইল : ২৩-২৪)।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছন, ‘যে ব্যক্তি তার বাবা-মা উভয়কে অথবা দুইজনের যে কোনো একজনকে বৃদ্ধ অবস্থায় পেল এবং তাদের খেদমত করে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না, সে ধ্বংস হয়ে যাক।’ (মুসলিম : ৬২৭৯)।
বাবা-মা অমূল্য সম্পদ, যার কোনো বিনিময় মূল্য নেই। যে ব্যক্তির বাবা-মা দুনিয়ায় বেঁচে আছেন, তিনিই সবচেয়ে বেশি ধনী। কারণ সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের দোয়া আল্লাহ কখনও ফেরত দেন না। বাবা-মা সন্তানের সবচেয়ে বেশি হিতাকাক্সক্ষী তথা মঙ্গল কামনাকারী। তাদের আদর, স্নেহ ও ভালোবাসার কোনো তুলনা জগতের কোনো বস্তুর সমপরিমাণ হবে না। শৈশবে যারা বাবা-মাকে হারিয়ে এতিম হয়েছেন, তারাই শুধু বাবা-মায়ের অভাব বুঝতে পারে। যারা হারিয়েছেন, তারাই কষ্টটা অনুভব করতে পারেন। তাই বড় হয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানকে অবশ্যই ভালো ব্যবহার করতে হবে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছেন। আর দুই বছর পর্যন্ত স্তন্যদান করেছেন।’ (সূরা লোকমান : ১৪)।
হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা তোমাদের বাবা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না। কেননা যে ব্যক্তি আপন বাবা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল, সে কুফরি করল।’ (বোখারি : ৬৩১১)।
বাবা-মায়ের খেদমত জান্নাতের পথ প্রশস্ত করে। মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত। হজরত আবু উমামা (রা.) বর্ণিত, হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘বাবা-মা হলো তোমার জান্নাত ও জাহান্নাম।’ (ইবনে মাজাহ-মিশকাত : ৪২১)।
মা-বাবার সঙ্গে ভালো আচরণ করা, সালাম বিনিময় করা, শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেয়া, অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া, সময়মতো পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন করা, তাদের নিয়ে একসঙ্গে খাওয়া, একসঙ্গে বেড়াতে যাওয়া, ভালো জামা-কাপড় পরিধান করানো ও তাদের বিছানাপত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা নেক আমলের পর্যায়ভুক্ত। বাবা-মায়ের খেদমত করলে সন্তানের নিত্যদিনের গোনাহ মাফ হয়ে যায়।
সন্তানের আমলনামায় নেকির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ভালো কর্মগুলো আমলনামা থেকে মন্দ কাজগুলো ধুয়ে-মুছে সাফ করে দেয়। কোরআনে এরশাদ হয়েছেÑ ‘যারা ভালো দ্বারা মন্দ দূরীভূত করে, তাদের জন্যই শুভ পরিণাম।’ (সূরা রা’দ : ২২)। ‘যারা ঈমান আনে এবং নেক কাজ করে, আমি নিশ্চয়ই তাদের সেসব ত্রুটি দূর করে দেব এবং তারা যেসব নেক আমল করে আমি তাদের সেসব কর্মের উত্তম ফল দেব।’ (সূরা আনকাবুত : ৭)। হজরত আবু বাকরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সব গোনাহ যতটুকু ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। কিন্তু বাবা-মায়ের অবাধ্যতা ক্ষমা করেন না।’ (বায়হাকি-মিশকাত : ৪২১)।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here