বিএনপির নেতা-কর্মী ৯ দিনে গ্রেপ্তার তিন হাজার ৩৭ জেলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৯৭৯ জন

0
44
বিএনপির নেতা-কর্মী ৯ দিনে গ্রেপ্তার তিন হাজার ৩৭ জেলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৯৭৯ জন

বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ধরতে সারা দেশে পুলিশ তল্লাশি ও অভিযান আরও জোরদার করেছে। এতে বেড়ে গেছে গ্রেপ্তারের সংখ্যাও। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী গতকাল রাজধানীতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৩৩ জন। আর ঢাকার বাইরে ৩৭ জেলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৯৭৯ জন। সব মিলে গতকাল এক দিনে সারা দেশ গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১২ শ ছাড়িয়ে গেছে। এই ধরপাকড় শুরুর পর থেকে গত ৯ দিনে বিএনপির তিন হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলো।

গত ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্ট এলাকায় প্রিজন ভ্যানে হামলার পর থেকে দেশব্যাপী ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। এরপর আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়েছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। মুঠোফোন ব্যবহারেও সাবধান হন তাঁরা।

ঢাকায় পুলিশের হিসাব অনুযায়ী গ্রেপ্তার হওয়া ২৩৩ জনের মধ্যে বিএনপির নেতা-কর্মী ২০ জন, পুরোনো মামলায় ১১৯ জন, নিয়মিত মামলায় ৭৬ জন এবং ডিএমপি আইনে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরোনো মামলা ও নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তারদের মধ্যেও বেশির ভাগ বিএনপির নেতা-কর্মী। আটকের পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের পুরোনো জ্বালাও-পোড়াও মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। গতকাল বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ১২১ জনকে ঢাকার আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ২০ জনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।

বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, গতকাল বিকেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একান্ত সচিব মোহাম্মদ ইউনুছকে পুলিশ গুলশান থেকে ধরে নিয়ে গেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাসায় পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। এ সময় সেখান থেকে তিনজনকে ধরে নিয়ে যায়। দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বাসায়ও অভিযান হয়েছে।

আগের দিনের মতো গতকালও ঢাকাসহ সারা দেশে চৌকি বসিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। পথচলতি মানুষ, মোটরসাইকেল, বাস থামিয়ে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে। সব বাস টার্মিনালে দিনভর পুলিশ যানবাহন থামিয়ে লোকজনকে তল্লাশি করেছে। আজ রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হবে এবং সাজার পরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সহিংস হয়ে উঠতে পারেন—এই আশঙ্কা নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

এদিকে দেশব্যাপী গণগ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র। গতকাল তারা এক বিবৃতিতে এই নিন্দার কথা জানায়।

সারা দেশে গ্রেপ্তার ৯৭৯ জন

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদ তালুকদার, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, শহর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সখীপুর পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মোর্শেদ আলমসহ টাঙ্গাইলে আটক হয়েছেন ৪৫ জন।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্যসচিব জাহিদ হাসান, কালীগঞ্জ থানা জামায়াতের রুকন আবদুর রশিদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নওগাঁ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফারুকুজ্জামান, মান্দা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হেলালুজ্জামানসহ ৫৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

পিরোজপুর জেলায় আটক হয়েছেন বিএনপির ১২ নেতা-কর্মী।

হবিগঞ্জে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে আছেন জেলা জাসাসের সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৈয়দ মুশফিক আহমদ, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম, বাহুবল উপজেলা যুবদলের সভাপতি সামছুল আলম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবদুল আহাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল আহমেদ, শায়েস্তাগঞ্জ পৌর যুবদলের সাহিত্য সম্পাদক রুবেল মিয়া প্রমুখ।

খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রবসহ বিএনপির ৬ নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৫৪।

পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের আমির আবদুল খালেকসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাগেরহাটে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৫০। নড়াইল সদর উপজেলার হবখালি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদসহ ৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আটক হয়েছেন বিএনপির তিন কর্মী। এ ছাড়া জেলার বালিয়াকান্দিতে গ্রেপ্তার ১৩ জনের মধ্যে আছেন নবাবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান, নবাবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজির হোসেন প্রমুখ।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম, খাগরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, বাজালিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মো. খলিলুর রহমানসহ ৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ছাড়া পটিয়া, চন্দনাইশ ও কর্ণফুলী উপজেলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৯ জন আর বোয়ালখালীতে আটক হয়েছেন ৮ জন।

জয়পুরহাট সদরের ধলাহার ইউনিয়ন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজার রহমানসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মাদারীপুরে আটকের সংখ্যা ১০ জন। তাঁদের মধ্যে আছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রাসেল খাঁ, কালকিনি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল হাই, রাজৈর পৌর বিএনপির সভাপতি বাদশা মীর প্রমুখ।

নীলফামারীতে বিএনপির ১৫ জন ও জামায়াতের ৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডোমার উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহিন আলম, গোমনাতি ইউনিয়ন জামায়াতের সদস্য রবিউল আলম (৪৮), জলঢাকা পৌর বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন।

ঢাকার ধামরাইয়ে আটক হন বিএনপির ৫ কর্মী। নেত্রকোনায় গ্রেপ্তার হন বিএনপির ৩৮ নেতা-কর্মী। চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন পাঁচজন। ৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন মুন্সিগঞ্জের লৌহজং ও শ্রীনগরে। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনজন। সিরাজগঞ্জে আটক হয়েছেন বিএনপির ১০ জন। ঝিনাইদহে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৭৯। নরসিংদীতে আটক হয়েছেন ৬৩ জন।

ফেনীতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২১ জন। মানিকগঞ্জে ১২ জন। তাঁদের মধ্যে আছেন সাটুরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা ও জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে ৪৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাসিরুল ইসলাম, পীরগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির রেজাউল করিম, কোষারাণীগঞ্জ জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়েজ ইবনে আজিজ।

কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৫৬ জন। ৩১ জন আটক হয়েছেন মাগুরায়। রংপুরে বিএনপি-জামায়াতের ৮৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে আছেন পীরগঞ্জের মদনখালি ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম, বদরগঞ্জ জামায়াতের সম্পাদক আবদুল আল মহাদ্দেশ ও তারাগঞ্জের হাড়িয়ালকুঠি ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবুল হোসেন।

কক্সবাজারে বিএনপি-জামায়াতের ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে আছেন মহেশখালী উপজেলা জামায়াতের (দক্ষিণ শাখার) সাধারণ সম্পাদক শামীম ইকবাল, শাপলাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন প্রমুখ।

রাজশাহীর তানোর পৌরসভা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান আটক হয়েছেন। এ ছাড়া মতিহার ও শাহ মখদুম থানা-পুলিশ আটক করেছে চারজনকে। লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৭ জন। এর মধ্যে রামগতি উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম, চররমিজ ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. মনির উল্লাহ রয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির ১২ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here