বিএনপির সঙ্গে কোন ধরনের সমঝোতা নেই : ওবায়দুল কাদের

0
54

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে কোন ধরনের সমঝোতা নেই। কারণ বিএনপিই সমঝোতার দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। সম্প্রতি ফেনীর ঘটনা বিএনপির উস্কানিমূলক। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিএনপি ফেনীতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনা সংঘাতেরই উস্কানি। তাই সংঘাতের উস্কানি দিয়ে কখনও সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি হয় না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনের দ্বিতীয় তলায় সেমিনার কক্ষে ‘নির্বাচন কমিশনের কাছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১১ দফা প্রস্তাবনা জনগণেরই প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে আমরা (আওয়ামী লীগ) যে প্রস্তাব দিয়েছি তা জনস্বার্থে, আর বিএনপি যা দিয়েছে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বার্থে। আমরা চাই বিএনপি নির্বাচনে আসুক। নির্বাচনের মাধ্যমে তারা যে জনপ্রিয়তা দেখাতে চাচ্ছে তা যাচাই করুক। আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন চাই অন্য কিছু চাই না। নির্বাচন কমিশনের কোন দলের পক্ষ নেয়ার দরকার নেই। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুক।

সেতুমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন কোন দলের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হোক তা আমরা চাই না। কিন্তু বিএনপি এমন একটা নির্বাচন কমিশন চায় যাতে তারা যেনতেনভাবে ক্ষমতায় আসতে পারে। বিএনপির রাজনীতি করে পরের নির্বাচনের জন্য, পরবর্তী জেনারেশনের জন্য নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ পরবর্তী জেনারেশনের জন্য রাজনীতি করে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটা যে একটা সাজানো নাটক তা এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে। তারা চেয়েছিলেন যেন একটা নিউজ হোক। সাংবাদিকদের ওপর হামলা করলে নিউজটা বড় পরিসরে হয়। পরিকল্পিতভাবে ২টি গাড়ি রং সাইটে রাখা হয়েছিল এবং সে গাড়িগুলোই জ্বালানো হয়। এটা ছিল মূলত ফেনীর সাজানো ঘটনা এবং সংঘাতের উস্কানি।

‘আমরা সংঘাত চাই না সমঝোতার মাধ্যমে সংলাপের ব্যবস্থা করুন’- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব, আপনাদের মুখের সংলাপের কথা ও মনের কথার সঙ্গে যোজন যোজন দূরত্ব। আপনারা যখন সমঝোতার কথা বলেন, তখন আমাদের ভাবতে হয় এটা কি আপনাদের মনের কথা, নাকি মুখের কথা?’ তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্যে একটা কাজের সমঝোতা আমরা চেয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী গণভবনে বেগম জিয়াকে ডেকেছিলেন। এরপর খালেদা জিয়া ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মৃত্যুর পর তাঁকে সমবেদনা জানাতে আপনার বাড়িতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেদিন আপনারা যে আচরণ করেছেন, যারা এসব করতে পারে তারাতো সমঝোতায় বিশ্বাস করে না। এ দরজা কি করে খুলব তা আপনারা ভাবুন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে সংলাপে অংশ নিয়ে বিএনপি নেতারা বলেছিলেন, তারা আশাবাদী কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই ফখরুল ইসলাম বলেছেন, যে এটা সাজানো সংলাপ। আসলে তারা কী বলতে চান তা স্পষ্ট নয়।

ফেনীতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার বিষয়ে ফাঁস হওয়া টেলিফোনালাপের কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘থলের বিড়াল অবশেষে মিউ ডেকেছে। আর গাড়ি পোড়ানো তো বিএনপির পুরনো অভ্যাস। এটা আওয়ামী লীগের ট্র্যাক রেকর্ডে নেই। পরিকল্পিতভাবে রং সাইডে বাস রাখা হয়েছিল এবং পরিকল্পিতভাবে হামলার নাটক করেছে। তা পুলিশের রিপোর্টেই এসেছে।’ এ ঘটনায় দুই একটি পত্রিকার রিপোর্টের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এসব পত্রিকা আমাদের বিরুদ্ধে নেমেছে। তাঁরা বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে আদাজল খেয়ে নেমেছে। ঠিক আছে তারা তা করতেই পারে। তারা কোন দলকে সমর্থন করতেই পারে। কিন্তু রাতকে দিন, দিনকে রাত কিংবা তিলকে তাল বানানো বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নয়। ফেনীর ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপানো হয়েছে।’

‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা’ মর্মে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাম্প্রতিক এক উক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন কোন দলীয় বক্তব্য দিয়ে রাজনীতির চর্চা করে নিজেদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করুক তা আমরা চাই না। জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার হন্তারকদের পুরস্কৃত ও পুনর্বাসন করে তিনি বহুদলীয় প্রবর্তন করেন? শত শত সেনাবাহিনীর অফিসার জোয়ানদের হত্যা করে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেন? বাংলাদেশের উচ্চ আদালত যাকে বলেছে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক? এমনকি প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের যে পযবেক্ষণ দিয়েছেন সেখানেও তাঁকে (জিয়াউর রহমান) অবৈধ ক্ষমতা দখলদার বলেছেন।’

প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে সেমিনারে সূচনা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব) আব্দুর রশীদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবীর কাওছার, উপ-কমিটির সদস্য সাংবাদিক কাশেম হুমায়ূন, সুভাস সিংহ রায় প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here