বিএনপি পারলে আওয়ামী লীগ কেন তত্ত্বাবধায়কে ফিরতে পারবে না?

0
94

আওয়ামী লীগের দাবির প্রেক্ষিতে বিএনপি যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা করতে পারে তাহলে এখন কেন আওয়ামী লীগ সংবিধান পরিবর্তন করে ওই প্রক্রিয়ায় ফিরতে পারবে না এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, সংবিধান পরিবর্তন করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে, তাহলেই দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে মওলানা ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল ন্যাপ ভাসানী আয়োজিত ‘বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে মওলানা ভাসানীর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।

মওদুদ বলেন, সংবিধান সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা হতে পারে না। তাই প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। আওয়ামী লীগ যদি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফিরে আসে তাহলে দেশের মানুষের কাছে তারা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, বিএনপি চায় সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সভ্যতা ও গণতন্ত্র ফিরে আসুক, যাতে দেশের মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পায়।

মওদুদ বলেন, এখন সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশ্বাস করে না আর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও সরকারকে বিশ্বাস করে না। তবে দেশের স্বার্থে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে হবে। রাজনৈতিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে। তা না হলে গণতন্ত্র চরম হুমকির মুখে পড়বে।

মওদুদ বলেন, আগামীতে একদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগ যদি এত জনপ্রিয় হয় তাহলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেখুক, কার জনপ্রিয়তা বেশি। সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার দেশের সব রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশ এখন চরম সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। এর জবাব দেশের জনগণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেবে।

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, জাতীয় পাটির্র (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, কৃষক দল নেতা শাহজাহান মিয়া স¤্রাট, ঢাকা মহানগনগর দক্ষিণ বিএনপির সহসভাপতি ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ।

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতারে বিএনপি মহাসচিবের নিন্দা ॥ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানকে গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সারা দেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ধারাবাহিকতায় ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চলমান ভয়াবহ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদী তরুণ নেতৃত্বকে ধ্বংস করতেই সরকার তাকে গ্রেফতার করেছে। অবিলম্বে সকল মামলা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তি দেয়ার দাবি করছি। তাকে মুক্তি না দিলে ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আরও বলীয়ান হয়ে সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠবে।

তারেকের বিরুদ্ধে মিথ্যে সমালোচনা করা হচ্ছে- নজরুল ॥ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মিথ্যে সমালোচনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে তারেক রহমানের ৫২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্র ফোরাম ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, তারেক রহমান চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন তার বিরুদ্ধে যত অপপ্রচার চলছে তা প্রমাণ করতে পারলে তিনি আর রাজনীতি করবেন না। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ কেউ নেয়নি। তবে নিজ দেশ থেকে দূরে বসেও তারেক রহমান তার রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক আগে থেকেই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সমালোচনা করছেন। বিএনপির এত নেতা থাকতে কেন তার বিরুদ্ধে এত সমালোচনা তা এখন বুঝতে পারছি। তারেক রহমানের জনপ্রিয়তাকে ভয় পান বলেই এ সমালোচনা করা হচ্ছে।

আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সাজানো হয়েছে, তা কেউ প্রমাণ করতে পারেনি, পারবেও না। তারেক রহমানকে কারাগারে রেখে মেরুদ- ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। এরপরও কেন তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এত ক্ষোভ? প্রতিহিংসার কারণেই তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। আইনের পথে হেঁটে এক বিচারক তারেক রহমানের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। এ কারণে তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। একটি ছেলে জাতীয়তাবাদের চেতনা নিয়ে এগিয়ে যাবে সেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ্য করতে পারছেন না।

রিজভী বলেন, দেশে কোন বিচারক সত্য কথা বললে তাকে এস কে সিনহার মতো দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়। বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও পার্লামেন্ট শেখ হাসিনার দখলে। কেউ শেখ হাসিনার কথার বিপরীতে গেলে তিনি আর স্বস্থানে টিকতে পারবেন না।

সভাপতির বক্তব্যে বিজেপির চেয়ারম্যান ও ছাত্র ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, দেশের ভবিষ্যত রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের প্রতি অত্যাচার বন্ধ করে পেঁয়াজের দাম কমানোতে নজর দিন। আওয়ামী লীগের পতন হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ পতনের কথা দেশের মানুষ স্মরণ রাখবে। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল,দলের নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সদস্য কামরুজ্জামান বাবু প্রমুখ।

সেনা মোতায়েন ছাড়া নির্বাচনে গেলে বিপদ হবেÑখসরু ॥ সেনাবাহিনী মোতায়েন ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গেলে বিপদ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘জাতীয় নাগরিক সংসদ’ নামক একটি সংগঠন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নির্বাচনকালীন সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামানোর দাবি জানিয়ে আমির খসরু বলেন, যদি সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা না হয়, তাহলে সুষ্ঠু নির্র্বাচন হবে না। সেই নির্বাচন দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। এবারের নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় কিছু সংগঠন ও সংস্থাও জড়িত রয়েছে। ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচনের দিকে যেতে চায় না, তারা ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি খালেদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ প্রমুখ।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here