বিদেশি নাগরিকদের আয়ে এনবিআরের নজর

0
37

বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সব বিদেশি কর্মীর আয়ের ওপর কর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এনবিআর। আজ রোববারের মধ্যে কর পরিশোধসহ অন্যান্য শর্ত পরিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এনবিআর এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে।

যথাসময়ে যথাযথভাবে কর না দিলে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান বা ওই বিদেশি নাগরিককে শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। আয়কর আইনে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ বা প্রদেয় করের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান আছে। এ ছাড়া তিন বছরের জেল দেওয়ার সুযোগ আছে।

আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকদের আয়ের ওপর কর হার ৩০ শতাংশ। কোনো বিদেশি ১০০ টাকা আয় করলে ৩০ টাকা কর দিতে হবে। এই কর যে প্রতিষ্ঠানে ওই বিদেশি চাকরি করেন, প্রতি মাসে বেতন-ভাতা দেওয়ার সময় কেটে রাখবে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান। বিদেশিদের ওপর কর পুরোটাই উৎসে কেটে রাখতে হবে।

এনবিআরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব কোম্পানি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, হোটেল, রেস্তোরাঁয় বিদেশি নাগরিক কাজ করেন কিংবা অদূর ভবিষ্যতে কাজ করার সম্ভাবনা আছে, সেসব প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে বিদেশি নাগরিক নিয়োগের ক্ষেত্রে আয়কর বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে।

বর্তমানে কত সংখ্যায় বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে কাজ করছেন, এর কোনো সঠিক তথ্য নেই। সম্প্রতি এনবিআরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের তথ্য, বেতনকাঠামো জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত এমন ২৮৬টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পেয়েছে এনবিআর। উল্লেখ্য, দেশের বায়িং হাউস, বস্ত্র, প্রযুক্তি, সেবা খাতে বিদেশিরা কাজ করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত আয় গোপন করে বিদেশিরা কর ফাঁকি দেন।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর গড়ে ১১ হাজার বিদেশি নাগরিকের কাছ থেকে আয়কর পায় এনবিআর। কিন্তু বাস্তবে এর অনেক বেশি নাগরিক এ দেশে কাজ করেন। এ দেশে ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। অনেকে পর্যটক ভিসায় এসে কাজ করে চলে যান। বস্ত্র খাতে ভারত ও শ্রীলঙ্কার নাগরিক বেশি। অনেক বিদেশি ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা নিয়ে এ দেশে প্রবেশ করেন। ভিসার মেয়াদ অনুযায়ী কয়েক মাস কাজ করে তাঁরা আবার দেশে ফিরে যান। কয়েক দিন থেকে আবারও একইভাবে ভিসা নিয়ে এ দেশে আসেন। এভাবেই বছরের পর বছর অনেক বিদেশি নাগরিক এ দেশে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু কর দিচ্ছেন না বলে এনবিআরের কাছে অভিযোগ আছে।

ইতিমধ্যে এনবিআর বিদেশিদের কাছ থেকে কর আদায়ে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশিদের কাছ থেকে কর আদায়ে গত বছর টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। আবার দেশে ফিরে যাওয়ার আগে যাতে কর পরিশোধ করতে পারেন, সে জন্য তিন বিমানবন্দর ও একটি স্থলবন্দরে বিশেষ বুথ স্থাপন করেছে এনবিআর। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরে এসব বুথ আছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here