বিনা মূল্যের টিকা দিতে তাঁকে ৫০ টাকা খরচ করতে হয়েছে।

0
109
বিনা মূল্যের টিকা দিতে তাঁকে ৫০ টাকা খরচ করতে হয়েছে।
  • শূন্য থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের সাতটি টিকা দেওয়া হয়।
  • ইপিআই বিনা মূল্যে সরবরাহ করার নিয়ম।
  • মালিটোলা নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিয়ে অভিযোগ।

আট মাসের মেয়েকে টিকা দিতে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার থেকে এসেছেন এক মা। শিশুটিকে বিনা মূল্যের টিকা দিতে তাঁকে ৫০ টাকা খরচ করতে হয়েছে। এই মা বলেন, ‘যতবার বাচ্চার টিকা দিয়েছি। ততবার ৫০ টাকা করে লেগেছে।’ টিকা দিতে টাকা লেগেছে বলে জানান আরও তিন শিশুর অভিভাবক।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বিনা মূল্যে সরবরাহ করার নিয়ম। শিশুমৃত্যুর হার কমাতে শূন্য থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের সাতটি টিকা দেওয়া হয়।

গতকাল রোববার রাজধানীর পুরান ঢাকার মালিটোলা এলাকার নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টাকার বিনিময়ে টিকা দেওয়ার এই অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতি রোববার ও বুধবার এখানে শিশুদের ইপিআই টিকা দেওয়া হয়। কয়েকজন অভিভাবক প্রথম আলোকে বলেন, বিনা মূল্যে টিকা দেওয়া যায়, এই বিষয়টি তাঁরা জানেন না।

টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক উম্মে আসমা সাকী বলেন, টিকা দিতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিশুদের অভিভাবকেরা ভুল বলেছেন বা ভুল বুঝেছেন। অনেক সময় শিশুদের টিকা দিতে এলে শিশু সুস্থ আছে কি না, জানার জন্য চিকিৎসককে দেখান। তখন ভিজিট লাগে।

এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পার্টনারশিপ এলাকা-২-এর অন্তর্ভুক্ত। এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. আবদুল হান্নান বলেন, ইপিআইয়ের আওতাভুক্ত টিকা বিনা মূল্যে দেওয়ার নিয়ম। টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও কেউ টাকা নিলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মূলত নারী-শিশু এবং শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস প্রকল্পের অধীনে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে আছে খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা (কেএমএসএস)। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সিটি করপোরেশন।

গতকাল বেলা আড়াইটা পর্যন্ত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩৬ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৬টি শিশু টিকা নিয়েছে। নারীদের পাশাপাশি ১১ জন পুরুষও সেবা নিয়েছেন। তবে ওজন মেশিন নষ্ট থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা কোনো রোগীর ওজন পরিমাপ করা যায়নি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওজন মেশিন না থাকায় দুই রোগী অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, কয়েক দিন থেকে মেশিনটি নষ্ট। চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে, শিগগিরই চলে আসবে।

এক কক্ষে একাধিক কার্যক্রম
মালিটোলার বাঁশপট্টিতে ছয়তলা ভবনের দোতলাজুড়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম চলে। চিকিৎসক ও কর্মীসংখ্যা ১৭ জন। চারটি ছোট কক্ষেই পুরো স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম। এমন একটি ছোট কক্ষে একই চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং কাউন্সিলর বসেন। এর মধ্যে চিকিৎসক এবং প্যারামেডিক একই টেবিলে বসে রোগীদের সেবা দেন। কাউন্সিলরের বসার জায়গা আলাদা করতে অবশ্য একটি কাঠের বোর্ডের পার্টিশন আছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবাদাতারা জানান, একটি কক্ষে বসে কয়েক ধরনের সেবা দেওয়ার বিষয়টি অস্বস্তিকর। মাঝেমধ্যে কাজে বিঘ্ন ঘটে। রোগীর সঙ্গে খুব সতর্কভাবে নিচু স্বরে কথা বলতে হয়, যাতে অন্যদের অসুবিধা না হয়। এমনকি রোগী বা সেবাদাতারা স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না।

অন্তঃসত্ত্বা নাসরীন আক্তার নয়াবাজার থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তিনি কাউন্সিলরের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান। এ সময় তাঁকে হাঁটাচলায় বেশ বেগ পেতে হয়। এমনকি তাঁর শারীরিক পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত বেডে উঠতে চেয়ার সরাতে হয়।

জায়গা-সংকটের বিষয়ে মো. আবদুল হান্নান বলেন, সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ভাড়ায় এ থেকে বড় বাসা পাওয়া যায়নি। আবার বাড়িঅলাকে বলার পরও আর কোনো ফ্লোর দিতে চাননি। ভাড়া কেন্দ্রগুলোর জন্য বরাদ্দ কত সেটি জানাতে পারেননি প্রকল্প পরিচালক।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here