বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস মহামারী আকার ধারণ করছে

0
120
বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস মহামারী আকার ধারণ করছে। বিশ্বে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সাড়ে ৪১ কোটি আর দেশে ৭১ লাখ। আরো ৭১ লাখ আছে যারা এখনো জানে না যে, তাদের ডায়বেটিস আছে। শুধুমাত্র ডায়াবেটিসের কারণে বিশ্বে প্রতি ৭ সেকেন্ডে একজনের মৃত্যু হচ্ছে। আর প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জন নারী ডায়বেটিসে আক্রান্ত। বাংলাদেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রতি দুইজনের মধ্যে একজন জানেন না যে তিনি এ রোগে আক্রান্ত এমন তথ্য জানান বিশেষজ্ঞরা। ডায়াবেটিসের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রতি বছর নভেম্বর মাসের ১৪ তারিখ সারাবিশ্বে ডায়াবেটিস দিবস পালিত হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বিশ্বে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে ৬৪ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, পরিমিত সুষম খাবার গ্রহণের মধ্য দিয়ে রোগী নিজেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সচেতনতার অভাবে অনেকেই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ ১৪ নভেম্বর পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—‘সকল গর্ভধারণ হোক পরিকল্পিত’। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
বাংলাদেশ ডায়বেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, ডায়বেটিস বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এ জন্যে এ বিষয়ে মানুষকে অবহিত করা, গণজাগরণ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ডায়বেটিস নিয়ে গর্ভধারণ করলে গর্ভের সন্তানেরও ডায়বেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আর যদি গর্ভাবস্থায় ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা না যায় তাহলে মা ও শিশুর ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। সমস্ত গর্ভধারণ পরিকল্পিত হতে হবে। যদিও আমাদের দেশে ৫০ভাগ গর্ভধারণ এখন অপরিকল্পিত। সে জন্যে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, কাজী ও ইমামদের মাধ্যমে আমরা নব-দম্পতিকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। মেয়ের ওজন বেশি আছে কি-না, এনিমিয়া আছে কিনা, ব্লাডপ্রেসার আছে কিনা তা চেক করে নিতে হবে। এজন্যে ৪০০ কাজীকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
বারডেম’র মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার বলেন, ডায়বেটিস একবার হলে তা আর ভালো হয় না। এটা শুধু নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়বেটিস এর কারণে শরীরের সমস্ত অঙ্গ আক্রান্ত হয়। যেমন কিডনি ও চোখ। তিনি বলেন, আমরা এবার গর্ভকালীন ডায়বেটিসকে গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ, পরিকল্পিত ভাবে গর্ভধারণ করলে শিশুর ডায়বেটিক হওয়ার ঝুকি থাকে না। মায়ের ডায়বেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করে গর্ভধারণ করলে সমস্যা নেই।
দিবসটি উপলক্ষে গতকাল সোমবার বারডেম হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতি’র সভাপতি অধ্যাপক ডা.এ কে আজাদ খান, বারডেম’র মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার, বারডেমের ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী এবং প্রকাশনা ও জনসংযোগ পরিচালক ফরিদ কবীর।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি—বাডাস পাঁচ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সমিতির অন্যান্য অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত অধিভুক্ত সমিতিগুলোও এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-আজ মঙ্গলবার সকাল ৮ টা ১৫ মিনিটে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে শোভাযাত্রা। সকাল ৮টা থেকে ১১টা জাতীয় জাদুঘরের সামনে, প্রেসক্লাব, ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবর এবং এনএইচএন ও এইচসিডিপি’র বিভিন্ন কেন্দ্র সংলগ্ন স্থানে বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা, বারডেম অডিটোরিয়ামে ১০ টা ৩০ মিনিটে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। দুপুর ১২ টায় বারডেম অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে ‘ডায়াবেটিসের ঝুঁকি এড়াতে গর্ভধারণ হোক পরিকল্পিত’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ। এ ছাড়াও ১৭ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ১০ টায় চারুকলা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে ফ্রি হার্ট ক্যাম্প।
image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here