বেগম খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতই রইলো

0
27

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতই রইলো। সহসাই তার মুক্তি মিলছে না। অর্থাত্ কারাগারইে থাকতে হচ্ছে তাকে। এই মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল গ্রহণ করে ৮ মে পর্যন্ত জামিন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ওইদিন আপিল শুনানির দিন ধার্য করে মামলার উভয়পক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সারসংক্ষেপ দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল সোমবার সকালে এই আদেশ দেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, এটা আমাদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।

আদেশে প্রথমে ২২ মে আপিল শুনানির জন্য দিন ধার্য করে আদালত। পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি জয়নুল আবেদীন শুনানির দিন এগিয়ে আনার অনুরোধ করলে প্রধান বিচারপতি ২২ তারিখের পরিবর্তে ৮ মে ধার্য করেন।এদিকে, বিরতির পর বেলা সাড়ে ১১ টায় আপিল বিভাগে যান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, খালেদা জিয়া বয়স্কা মহিলা। শারীরিকভাবে অসুস্থ। সকল আইনজীবীর পক্ষ থেকে করজোড়ে অনুরোধ করছি ১২ এপ্রিল অবকাশ শুরুর পূর্বেই আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি করা হোক।

প্রধান বিচারপতি বলেন, এখনো লিভ টু আপিল মঞ্জুরের আদেশ লিখিনি। আমরা তো বলে দিয়েছি আপিল শুনানির জন্য কার্যতালিকার উপরের দিকে থাকবে এবং ৮ মে শুনানি হবে। শুনানি মুলতবি করা হবে না। ওইদিন না হলে পরদিন ৯ মে অবশ্যই শুনানি শেষ করা হবে। এ পর্যায়ে জমিরউদ্দিন সরকার অবকাশের পূর্বে শুনানির জন্য পুনরায় অনুরোধ জানালে প্রধান বিচারপতি বেঞ্চে থাকা অপর তিন বিচারপতির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করেন। পরামর্শ শেষে প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন ৮ মে আপিল শুনানি হবে। এরপরেই খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন।

আপিল বিভাগের এ আদেশকে কিছুটা নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, এটা কখনো শুনিনি প্রত্যাশাও করিনি। এখন আইনি লড়াই ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এ আদেশের ফলে খালেদা জিয়ার এখন আর মুক্তি পাওয়া সম্ভব না। তাকে কারাভোগ করতে হবে। তিনি বলেন. আদেশকে যারা নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন, তারা বিষয়টিকে রাজনীতিকরণের চেষ্টা করছেন। কারামুক্তির বিষয়টি এখন সুদূরপরাহত। আইনজীবীরা মনে করেন আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে কারাগারে থাকতে হবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করে। গতকাল ওই আপিলের ওপর আদেশের জন্য দিন ধার্য ছিল। সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতি এজলাসে আসেন। বেঞ্চের অপর বিচারকরা হলেন, বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। কার্যতালিকার দুই ও তিন নম্বর ক্রমিকে থাকা আপিল দুটি আদেশের জন্য ডাকা হয়।

এরপরই প্রধান বিচারপতি বলেন, লিভ টু আপিল মঞ্জুর এবং স্থগিতাদেশ বহাল। আদেশের পরই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ছিলেন নিশ্চুপ। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা ছিলেন হতাশ। অনেককে আবার আদেশে নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে দেখা যায়। এ অবস্থায় কেটে যায় দশ মিনিট। এ সময় কি যুক্তিতে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে সেটা নিয়ে আদালতে কিছু বলার জন্য পেছন থেকে বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরসহ কয়েকজন আইনজীবী সামনের সারিতে বসা সিনিয়র আইনজীবীদের অনুরোধ করেন। এ সময় সিনিয়র আইনজীবীরা তাদেরকে অপেক্ষা করতে বলেন। কিছুক্ষণ পর নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে আদালতে কথা বলতে ডায়াসে দাঁড়ান বার সভাপতি জয়নুল আবেদীন। এ সময় অন্য মামলার কার্যক্রম চলছিল। জয়নুল আবেদীন প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা দু:খিত আদালত কি আদেশ দেয়া হয়েছে সেটা বুঝতে পারিনি। আর কি যুক্তিতে লিভ মঞ্জুর করা হয়েছে সেটাও জানি না। প্রধান বিচারপতি বলেন, এটা আমাদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। বার সভাপতি বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত বলেই তা মানতে আমরা বাধ্য। সাধারণত এ ধরনের মামলায় লিভ টু আপিল মঞ্জুর করা হলে কি যুক্তিতে তা করা হয়েছে সেটা উল্লেখ করা হয়। প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা নথি পর্যালোচনা করেছি।

বার সভাপতি বলেন, আমারা তো মামলার বিষয়বস্তুতে গিয়ে শুনানি করিনি। প্রধান বিচারপতি বলেন, আপিলে সেই সুযোগ আপনাদের রয়েছে। বার সভাপতি বলেন, সর্বোচ্চ আদালত অতীতে অর্ন্তবর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেনি। যেহেতু এটাতে করা হয়েছে তাহলে অতীতের এ ধরনের সব মামলায় লিভ টু আপিল মঞ্জুর করা উচিত ছিল। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মোমতাজউদ্দিন ফকির, দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী, নিতাই রায় চৌধুরী, এম মাহবুবউদ্দিন খোকন ছাড়াও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here