স্কুলশিক্ষককে বেধড়ক মারধর

0
306

লোহাগড়া উপজেলায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে গাছের সঙ্গে বেঁধে এক স্কুলশিক্ষককে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। সোমবার উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের জেলেপাড়ায় এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটায়। স্কুলশিক্ষক মনি কুমার বিশ্বাসের পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং বাকি সাড়ে চার লাখ টাকার চেক ও একশ’ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে সন্ত্রাসীরা তাকে ছেড়ে দিয়েছে। সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির মুখে নির্যাতিত স্কুলশিক্ষক মনি কুমার বিশ্বাস চিকিৎসা নিতে পারেননি। ঘটনার চার দিন পর শুক্রবার রাতে পুলিশ তাকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী শুক্রবার রাতে ছয়জনকে আসামি করে লোহাগড়া থানায় মামলা করেছেন। শনিবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি রবিউল ইসলামকে (৪১) গ্রেফতার করে। আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের মরিচপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনি বিশ্বাস সোমবার রাতে লাহুড়িয়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মারধরের শিকার হন। লাহুড়িয়া ইউপি সদস্য আকবর ওরফে মিলিটারি আকবরের নেতৃত্বে মনিরুল, আনিসুর, রবিউল, আমিনুর রহমান ও সুদে আমিনুর মনিকে ধরে নিয়ে মনিরুলের বাড়িসংলগ্ন মেহগনি গাছের সঙ্গে বেঁধে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার জন্য তাকে বেদম মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিতে তার স্ত্রী বাসনা রানী বিশ্বাসকে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে প্রতিবেশী ত্রিনাথ ও পরিমল স্বর্ণকারকে সঙ্গে নিয়ে বাসনা ঘটনাস্থলে যান। ৫০ হাজার টাকা দিয়ে স্বামীকে ছাড়িয়ে আনেন। এ সময় বাকি সাড়ে চার লাখ টাকার একটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে মনিকে ছেড়ে দেয়া হয়। বাকি টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে না দিলে এবং এ নিয়ে মামলা বা জানাজানি হলে তাদের হত্যা ও দেশ ছাড়ার হুমকিও দেয় সন্ত্রাসীরা।

শুক্রবার বিকালে সাংবাদিকরা এ ঘটনা জানতে পারেন। তারা পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করলে নড়াইলের পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আহত মনিকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।

পুলিশ সুপার রকিবুল যুগান্তরকে জানান, স্কুলশিক্ষক মনি বিশ্বাসকে তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তার ওপর নির্যাতনের ঘটনায় শুক্রবার রাতে লোহাগড়া থানায় মামলা হয়েছে এবং ছয় আসামির মধ্যে শনিবার একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে।

বাসনা রানী ও প্রতিবেশী গৌরাঙ্গ বিশ্বাস জানান, ঘটনার পর সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির কারণে মনিকে তারা হাসপাতালে নিতে পারেননি। তবে বাড়িতে রেখে তাকে গ্রাম্য ডাক্তার ওবায়দুর রহমান প্রাথমিক চিকিৎসা করেছেন। এ ঘটনার পর শিক্ষকসহ পরিবারের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে সন্ত্রাসীরা। এ কারণে তারা মামলা করতে পারেননি।

নগদ টাকা ও চেক নেয়ার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত মনিরুল ও মিলিটারি আকবর সাংবাদিকদের জানান, মনির বিরুদ্ধে ডহরপাড়া গ্রামের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে সালিশি সভার মাধ্যমে ওই টাকা ও চেক নেয়া হয়েছে।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে এজাহারভুক্ত আসামি রবিউলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here