বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচকে নিম্নমুখী

0
80
অক্টোবরে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে এসেছে।
এতে বলা হয়েছে, এ সময় খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক কমার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে দুগ্ধজাত পণ্য, ভোজ্য তেল, চিনি, মাংসের মূল্য হ্রাস। তবে এ সময় খাদ্যশস্যের দাম বেড়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে সেপ্টেম্বরের তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ। যদিও তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। অক্টোবরে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্যের গড় সূচকমান ছিল ১৭৬ দশমিক ৪ পয়েন্ট।
এর আগে কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে মূল্যসূচক কমলেও তা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১০ পয়েন্ট বা ৬ শতাংশ বেশি ছিল।
এফএও ফুড প্রাইস ইনডেক্স (এফএফপিআই) শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা যায়, অক্টোবরে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্যের গড় সূচকমান ২ দশমিক ২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৭৬ দশমিক ৪ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কম। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। জুলাইয়ে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্যের গড় সূচকমান ছিল ১৭৯ দশমিক ১ পয়েন্ট, যা এর আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়েছিল। এ সময় বৈশ্বিক খাদ্যমূল্যের গড় সূচকমান গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৬ পয়েন্ট বা ১০ দশমিক ২ শতাংশ বেশি হয়েছিল। ২০১৫ সালের জানুয়ারির পর এটাই বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের সর্বোচ্চ গড় দাম।
এফএফপিআই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে দুগ্ধজাত পণ্যের। এ সময় দুগ্ধজাত পণ্যের গড় মূল্যসূচকমান ৪ দশমিক ২ শতাংশ বা ৯ দশমিক ৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২১৪ দশমিক ৮ পয়েন্টে- যা চলতি বছরের মে মাসের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।
গত জুলাইয়ে দুগ্ধপণ্যের গড় মূল্যসূচকমান ৭ দশমিক ৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ২১৬ দশমিক ৬ পয়েন্টে। জুনে দুগ্ধপণ্যের গড় মূল্যসূচক ছিল ২০৯ পয়েন্ট। সেই হিসাবে জুলাইয়ে মূল্যসূচক বেড়েছে আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আর আগস্টে বেড়েছে আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ।
আগস্টে দুগ্ধপণ্যের গড় মূল্যসূচক ছিল ২০১৪ সালের পর সর্বোচ্চর কাছাকাছি। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোয় চাহিদা কমার কারণে পনির, ননিযুক্ত ও ননিমুক্ত গুঁড়ো দুধের দাম কমেছে।
টানা দুই মাস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর অক্টোবরে ভোজ্য তেলের বৈশ্বিক দাম কমেছে। এ সময় এফএওর ভোজ্য তেলের গড় মূল্যসূচক ১ দশমিক ৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৭০ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ কম।
এর আগে জুলাইয়ে এ তেলের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক ছিল ১৬০ দশমিক ৪ পয়েন্ট, যা আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৮ পয়েন্ট কম। ২০১৬ সালের আগস্টের পর এটাই এ তেলের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান।
জুন-জুলাইয়ে শীর্ষ উৎপাদনকারী হিসেবে পরিচিত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের উৎপাদন ও দেশ দুটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির সরবরাহ ছিল বাড়তির দিকে। এ কারণে পণ্যটির দাম ছিল নিম্নমুখী। আগস্টে পণ্যটির রফতানি বাড়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে।
অন্যদিকে এ সময় আন্তর্জাতিক বাজারে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে দাম ছিল নিম্নমুখী। আগের মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে গড় মূল্যসূচক কমেছে চিনির। এ সময় পণ্যটির মূল্যসূচক ১ দশমিক ৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২০৩ পয়েন্টে। মূলত উৎপাদনকারী দেশগুলো বিশেষ করে ব্রাজিল, ভারত ও থাইল্যান্ডে পণ্যটির উৎপাদন কমার সম্ভাবনা এবং একই সঙ্গে চীন ও ভারতে চিনি আমদানির ক্ষেত্রে বাড়তি শুল্কারোপের ফলে পণ্যটির দাম কমেছে।
গত মাসে খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক বেড়েছে। এ সময় খাদ্যশস্যের গড় মূল্যসূচকমান ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বা ১০ দশমিক ৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫২ দশমিক ৮ পয়েন্টে- যা গত বছরের একই মাসের চেয়ে বেশি। গত মাসে খাদ্যশস্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ভুট্টার।
image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here