ভারতের জিএসটির প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি কম

0
112
ভারতে জিএসটি (পণ্য ও পরিষেবা কর) নিয়ে আলোচনা এতদিন সরগরম থাকলেও এখন তাতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে যে প্রত্যাশা নিয়ে এটি চালু হয়েছিল সেখানে প্রাপ্তির হিসাব-নিকেষ কমে গেছে। গত জুলাইয়ে জিএসটি চালু হয়, আগস্টে লাফিয়ে কমে মোট রাজস্ব আয়। সেপ্টেম্বরে তা সামান্য বাড়লেও প্রত্যাশার তুলনায় বৃদ্ধি অনেক কম।
পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি রাজ্যই ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে দ্বারস্থ হচ্ছে কেন্দ্রের। দু’শোটির বেশি পণ্যে জিএসটি কমানোয় এমনিতেই ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় কমার কথা। সব মিলিয়ে চাপে পড়েছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ও রাজস্ব দফতরের কর্মকর্তারা।
এতদিন ভাবা হয়েছিল, জিএসটি চালু হলে যে সব রাজ্যে কলকারখানা বেশি সেখানে কর বাবদ আয় কমবে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মতো যে সব রাজ্যে পণ্য উৎপাদন হয় কম, ভোগ এবং লেনদেনই বেশি সেখানে আয় লাফিয়ে বাড়বে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, জিএসটি জমানায় প্রায় সব রাজ্যেরই আয় হয়েছে প্রত্যাশার তুলনায় কম। এদিকে রাজ্যগুলোর প্রত্যাশা মতো আয় না হলে, আগামী পাঁচ বছর কেন্দ্রকেই সেই ক্ষতি পূরণ করে দিতে হবে।
২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে রাজ্যগুলোর যা রাজস্ব আয় ছিল, তার তুলনায় প্রতি বছর রাজস্ব আয় ১৪ শতাংশ হারে বাড়বে ধরে নিয়ে প্রতিটি রাজ্যের প্রত্যাশিত বা আনুমানিক আয় হিসেব করা হয়। আয় তার থেকে কম হলে, সেটাই কেন্দ্রের মিটিয়ে দেওয়ার কথা। জুলাই-আগস্টে রাজস্থান ছাড়া সব রাজ্যকেই ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশ প্রক্রিয়াগত জটিলতায় ক্ষতিপূরণ পায়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, ক্ষতিপূরণ মেটানো হচ্ছে দু’মাস অন্তর। জুলাই-আগস্ট বাবদ রাজ্যগুলো ৮ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে ৪২৬ কোটি টাকা।
সেপ্টেম্বরে অবশ্য জিএসটি বাবদ আয় ২ শতাংশ হলেও বেড়েছে, রাজ্যগুলোর জিএসটি বাবদ ঘাটতিও কিছুটা কমেছে। কিন্তু মোট আয় বাড়েনি। অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, আগে ভ্যাট থেকে যতটা আয় হতো, তার চেয়ে বেশি হলেও সেপ্টেম্বরে দিল্লি ছাড়া আর কোনও রাজ্যেরই প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আয় হয়নি। পুদুচেরি, উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যে জিএসটি বাবদ আয় তো প্রত্যাশিত আয়ের প্রায় অর্ধেক।
কী ভাবে মেটানো হবে এই ক্ষতি? রাজস্ব দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ মেটানো হয় বিলাসদ্রব্য বা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর পণ্যে যে ২৮% জিএসটি বসে, তার উপর সেস চাপিয়ে। প্রথম দু’মাসে সেই সেস থেকে ১৫ হাজার ৬০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। ফলে ৮ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা মেটানোর পরেও তহবিলে অর্থ রয়েছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ঘাটতি হিসেব করে নভেম্বরে ক্ষতিপূরণ মেটানো হবে।’
image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here