মন্ত্রণালয়ই গৃহকর দিতে চায় না

0
85

সরকারের ২৬টি মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) বাবদ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পাবে ১৩২ কোটি ৮৯ লাখ ৭৯ হাজার ৯১৩ টাকা। এর মধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকেই সিটি করপোরেশনের পাওনা প্রায় ৮৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া আটটি মন্ত্রণালয়ের কাছে বকেয়ার পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। এত টাকা আটকে থাকায় উন্নয়নকাজে সমস্যা হচ্ছে, নাগরিক সেবার মান কমছে বলে জানান করপোরেশনের কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আয়ের প্রধান খাত গৃহকর। গৃহকর পরিশোধের তাগাদা দিয়ে মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের আবারও চিঠি দেওয়া হবে বলে জানান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এর আগে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর গৃহকর পরিশোধ করতে চিঠি দেন মেয়র।

সিটি করপোরেশনের পাওনা গৃহকর পরিশোধে মন্ত্রণালয়গুলো আইনগতভাবে বাধ্য বলে জানান স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোকে তাদের প্রতিবছরের বাজেটে গৃহকরের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। মন্ত্রণালয়গুলো যদি বরাদ্দ না রেখে থাকে, তাহলে তারা ভুল করেছে। গৃহকর না পেলে সিটি করপোরেশনগুলোর পক্ষে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ করতে সমস্যা হয়।

সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে (২০১৬-১৭) গৃহকর খাতে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩০ শতাংশ আদায় করতে পেরেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ৩৪৭ কোটি ৬২ লাখ ১২ হাজার টাকা আদায়ের লক্ষ্য থাকলেও আদায় করা গেছে মাত্র ১০৩ কোটি ৪৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আদায় করা গেছে ৫০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত গৃহকর পরিশোধ করলে নগরের উন্নয়নকাজে গতিশীলতা আসত বলে জানান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, উন্নয়নকাজ করার পরও ঠিকাদাররা বিল পান না। তাঁরা যদি নিয়মিত বিল পেতেন, তাহলে তাঁদের মধ্যে উৎসাহ থাকত। আর মন্ত্রণালয়গুলোর কাছ থেকে টাকা পাওয়া গেলে নাগরিক সেবা বৃদ্ধির ব্যাপারে আরও অনেক প্রকল্প নেওয়া যেত। কিন্তু এখন তা সম্ভব হচ্ছে না।

সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগ সম্প্রতি গৃহকর বকেয়া রাখা মন্ত্রণালয়গুলোর একটি তালিকা করেছে। এই তালিকা অনুযায়ী ২৬টি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে গৃহকর বাবদ পাওনার পরিমাণ ১৩২ কোটি ৮৯ লাখ ৭৯ হাজার ৯১৩ টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বকেয়া রয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কাছে। এর পরিমাণ ৮২ কোটি ৯৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭২০ টাকা। চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করে রেলওয়ে। ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছর থেকে গৃহকর দিতে গড়িমসি করছে রেলওয়ে। সর্বশেষ গত ৯ মে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে গৃহকর বাবদ ১০ কোটি টাকা দেওয়ার জন্য বরাদ্দ চেয়ে রেলওয়ের মহাপরিচালককে চিঠি দেন সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম।

জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুঠোফোনে বলেন, ‘রেলের কাছে টাকা পাবে সিটি করপোরেশন। রেলও সরকারি, সিটি করপোরেশনও সরকারি। আমরা দিয়ে দেব। কিন্তু সাংবাদিক হিসেবে আপনার মাথা ঘামানোর দরকার কী? আমি যা বলেছি, তা লিখে দেন।’

সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের তালিকা অনুযায়ী গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৬টি প্রতিষ্ঠানের কাছে গৃহকর বাবদ পাওনা ১২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, করপোরেশনের গৃহকর যদি বকেয়া থাকে, তাহলে তারা চিঠি দিক। তখন কর পরিশোধের বিষয়ে বিবেচনা করা যাবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো গৃহকর পরিশোধ না করায় সিটি করপোরেশনকে বেশি ভুগতে হয় উল্লেখ করে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের পাওনার ওপর অনেক উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের বিষয়টি নির্ভর করে। প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত কর না দেওয়ায় ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা যায় না। এতে অশান্তি সৃষ্টি হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ঠিকভাবে কর দেয়, তাহলে করপোরেশনের কাজে গতি আসবে এবং এর সুফল পাবে নগরবাসী।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here