মাকসুদুর রহমান ওরফে টিপু চাকরি ছেড়ে দিয়ে জড়িয়ে পড়েন ছিনতাইয়ে।

0
72
মাকসুদুর রহমান ওরফে টিপু চাকরি ছেড়ে দিয়ে জড়িয়ে পড়েন ছিনতাইয়ে।

পরিসংখ্যানে স্নাতকোত্তর পাস করেন তিনি। চাকরি নেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। এক বছর আগে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে জড়িয়ে পড়েন ছিনতাইয়ে। তাঁর নাম মাকসুদুর রহমান ওরফে টিপু। ছিনতাই করে পালানোর সময় তিন সহযোগীসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

গত বুধবার নগরের সিআরবি এলাকা থেকে মাকসুদুর ও তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বহনকারী অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে ১টি বন্দুক, ৪ রাউন্ড গুলি, ২টি চাপাতি, ১টি ছুরি এবং ছিনতাই করা ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার বাকি তিনজন হলেন ওয়াহিদুল ইসলাম, মো. জয়নাল ও ইকবাল হোসেন।

ছিনতাইয়ের শিকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মিঠু ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা ব্যাংকের নগরের জুবিলি রোড শাখা থেকে গত বুধবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা তুলে বাসায় ফিরছিলেন। তাঁকে বহনকারী রিকশাটি নুর আহমদ সড়কের নেভাল ক্রসিং এলাকায় এলে গতি রোধ করে তাঁকে জোর করে একটি অটোরিকশায় তোলার চেষ্টা করেন ছিনতাইকারীরা। পরে তাঁর হাতে থাকা টাকার ব্যাগটি নিয়ে অটোরিকশা করে পালিয়ে যান ছিনতাইকারীরা। ওই সময় তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, লোকজন জড়ো হয়েছে দেখতে পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অটোরিকশা করে পালানো ছিনতাইকারীদের ধাওয়া দেয়। সিআরবি এলাকায় গিয়ে গাড়িটি থামিয়ে মাকসুদুর রহমানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই গাড়ি থেকে অস্ত্র, বন্দুকসহ ছিনতাই করা টাকা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের কর্মকর্তা শহীদুল্লাহ আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পর চার ছিনতাইকারী দীর্ঘদিন অটোরিকশা করে ছিনতাই করার কথা স্বীকার করেছেন। ধরা পড়ার আগের দিনও তাঁরা একই স্থানে ছিনতাই করেছিলেন। গত দুই মাসে তাঁরা ১২টি ছিনতাইয়ের তথ্য পুলিশকে দিয়েছেন। কিন্তু এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করেননি। নগরের রেয়াজউদ্দিন বাজার, আমতলা, গণি বেকারী, আলমাস সিনেমা মোড়, ওয়াসা মোড়, সিআরবি এলাকায় তাঁরা ছিনতাই করে থাকেন। তাঁদের দলে চালকসহ চারজন থাকেন।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মোবাশ্বের হোসেন বলেন, মাকসুদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় হত্যা ও মাদক আইনে দুটি মামলা রয়েছে। ছিনতাই করলেও এত দিন ধরা পড়েননি। এবার হাতেনাতে ধরা পড়েন। গ্রেপ্তার আরেকজন ওয়াহেদ কাঠ ব্যবসায়ী। জয়নাল তাঁদের দলনেতা। কিছুদিন আগে সে ছিনতাইয়ের মামলায় কারাভোগ করে আসেন। চার ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here