মাথাপিছু আয় বেড়ে ১৬১০ ডলার

0
34

দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাবে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে ৮ ডলার বাড়ল।

অন্যদিকে বেড়েছে প্রবৃদ্ধির হারও। গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। এর আগে বিবিএসের সাময়িক হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হয়েছিল।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন। পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সভাটি হয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জিডিপির আকার ২৪ হাজার ৯৬৮ কোটি ডলার। জিডিপির আকার ১০ হাজার কোটি ডলার ছাড়াতে স্বাধীনতার পর ৩৪ বছর লেগেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া ও কম্বোডিয়া শুধু এই তিনটি দেশেই পরপর দুই বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি হলো। তিনি মনে করেন, জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়ানোর পেছনে দেশের কৃষক, শ্রমিক, বেসরকারি খাতসহ সবার অবদান আছে।

মন্ত্রী আরও জানান, এবারই প্রথমবারের মতো জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। গত অর্থবছরে জিডিপির সাড়ে ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ হয়েছে। এর আগের বছর এই হার ছিল ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

বিবিএসের হিসাব অনুসারে, চূড়ান্ত হিসাবে গত অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৯৮৬ কোটি ডলার বা প্রায় ২০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। জিডিপির আকার ১০০ বিলিয়ন ডলার ছুঁতে বাংলাদেশের ৩৪ বছর লেগেছে। বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে ইথিওপিয়া ও কম্বোডিয়া ৭ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বলে জানান পরিকল্পপনামন্ত্রী।

হিসাব অনুসারে, কৃষি খাতে ২ দশমিক ৯০ শতাংশ, শিল্প খাতে ১০ দশমিক ২২ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য থাকলেও এখন যে গতিতে রয়েছে তাতে ২০১৯ সালের মধ্যে লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, অক্টোবরে সার্বিক গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক ১২ শতাংশ। এর পেছনে চালের দাম কমা ও শীতকালীন শাকসবজির আগমনের কারণে কাঁচাবাজারে জিনিসের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমেছে।

এর আগে এপ্রিলে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬০২ ডলার ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাজেটের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হবে বলে প্রাক্কলন করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

প্রায় এক দশক ৬ শতাংশের বৃত্তে ‘আটকে’ থাকার পর গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। এরপর গত জুনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করা হয়।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here