মারাকানায় জার্মানির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ।

0
100
মারাকানায় জার্মানির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ।
২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল। মারাকানায় জার্মানির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ। এরপর টানা দু’টি কোপা ফাইনালে টাইব্রেকারে হার। হতাশা আর ক্ষোভে আন্তর্জাতিক ফুটবল ছেড়েই দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। আবার ফিরেছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের (এএফএ) অনুরোধে। আর বলা হচ্ছে ৩০ বছর বয়সী মেসির এটাই শেষ বিশ্বকাপ। আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপে তিনি কি পারবেন আর্জেন্টিনার ৩২ বছরের বিশ্বকাপ আক্ষেপ ঘুচাতে? – এই প্রশ্নের উত্তর লিওনেল মেসি দিয়েছেন এক সাক্ষাত্কারে। সাক্ষাত্কারটি প্রকাশিত হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ায়।
মারাকানার হার কি এখনো পোড়ায়?
-এটা দীর্ঘস্থায়ী এক ক্ষত। আমরা স্বপ্ন পূরণের একদম কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু, এটাই ফুটবল। সবসময় এখানে সেরা দল জেতে না। এটা মেনে নিয়েই আমাদের সামনে এগোতে হবে। আমরা কেঁদেছি, আমি কেঁদেছি। বাকি আর্জেন্টাইনদের মতই কষ্টটা এখনো আছে।
 দুয়ারে আরেকটা বিশ্বকাপ। আপনাদের ওপর আকাশ সমান চাপ…
-আমরা চেষ্টার কমতি রাখিনি, কিন্তু এখনো আমরা আর্জেন্টিনার হয়ে কিছুই জিততে পারিনি। আমরা ১৯৮৬ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে পারিনি, সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ তাই থাকবেই। সব আর্জেন্টাইনদের মত আমিও চাই দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিতে, সেই আনন্দটা উপভোগ করতে। সব আলবিসেলেস্তে ফুটবলারই ২০১৪ সালে নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলেছেন, কিন্তু তারপরও আমরা পারিনি!
এবার কি পারবে আর্জেন্টিনা?
-স্বপ্নটা এখনো আগের মতই আছে – আমরা ফাইনালের ট্রফি তুলে ধরতে চাই। এত কাছে গিয়ে ফিরে আসার কষ্টটা বলে বোঝানো যাবে না, যে অভিজ্ঞতা আমাদের ২০১৪ সালে হয়েছে। আমরা এবারো সেই একই খেলাটা খেলতে চাই, সাথে ফাইনালের ফলাফলটা পাল্টে দিতে চাই। এবার আমরা বিশ্বকাপ ট্রফিটা চাই, আর সম্ভবত এটাই আমাদের প্রজন্মের বিশ্বকাপ জয়ের শেষ সুযোগ।
গোটা একটা জাতির স্বপ্ন, সেটা কি আপনার জন্য বড় চাপ নয়?
-না, তা ঠিক নয়। আপনি যদি আর্জেন্টাইন হন, আর ফুটবল ভালোবাসেন, তাহলে আপনি চাইবেন সবচেয়ে বড় সাফল্য পেতে। এখানে ভুল কিছু নেই। এমনকি আমিও এভাবেই ভাবি। আমরা সবাই জানি, বিশ্বকাপ জেতা কতটা চ্যালেঞ্জিং। তবু আমরা এটা চাই, আর্জেন্টিনা এটা চাই। ফলে, এই স্বপ্নটা খুবই স্বাভাবিক।
আমাদের প্রজন্মের সবাই বিশেষ করে আপনাকে প্রায়ই আর্জেন্টিনার ফলাফলের জন্য দায়ী করা হয়। এটা আপনার জন্য কতটা যন্ত্রণাদায়ক?
-অবশ্যই এটা আমাকে কষ্ট দেয়। তবে, ব্যাপার হলো আমাদের মত তাদেরও যন্ত্রণা হয়। আর্জেন্টিনার মানুষ খুবই ফুটবল পাগল। মিডিয়া যেভাবে আক্রমণ করে, সেটাও খুবই স্বাভাবিক। আসলে তিনটা ফাইনালে পৌঁছানো আমাদের জন্য এখন অর্থহীন। আর্জেন্টিনা এমন এক জায়গা যেখানে রানারআপদের কোনো জায়গা নেই।
আইসল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও নাইজেরিয়াকে নিয়ে কঠিন গ্রুপে আছে আর্জেন্টিনা। আপনার কি মতামত…
-আসলে আপনাকে সেরাদের সেরা নিয়ে আয়োজিত টুর্নামেন্টে সবসময়ই আপনাকে সেরাটাই খেলতে হবে। এখানে প্রতিটি দলই এখানে আপনাকে অনারামদায়ক পরিস্থিতির মুখোমুখি ফেলতে পারে, তাই সবসময় যেকোনো কিছুর জন্য এখানে প্রস্তুত থাকতে হয়। এখানে বিনা চেষ্টায় কোনো কিছু মেলে না। শুধু সেরারাই এখানে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়। ম্যাচগুলো শক্ত হবে, আমরা পারফর্ম করতে প্রস্তুত।
আপনার চোখে এই বিশ্বকাপে ফেভারিট কারা?
-ফুটবলের বড় শক্তিগুলো ফেভারিট হিসেবে শুরু করবে বিশ্বকাপ। এরমধ্যে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ থাকবে অবশ্যই। স্পেনের দলটাও অনেক ভালো। ব্রাজিল ও পর্তুগাল বাছাই পর্বে বেশ ভালো করেছে, ভালো করেছে ফ্রান্সও।
বিশ্বকাপে এবার ইতালি কিংবা নেদারল্যান্ডসের মত দল নেই। এটা কি আপনার কাছে একটু অবাক করার মত?
– এটাই প্রমাণ করে যে বিশ্বকাপটা এখন কতটা চ্যালেঞ্জিং। ইতালিকে ছাড়া বিশ্বকাপ কল্পনাই করা যায় না। আর নেদারল্যান্ডস তো গত আসরেও ব্রাজিলে গিয়ে সেমিফাইনাল খেললো আমাদের বিপক্ষে। আপনার পেনাল্টিতে ওদের হারালাম। রাশিয়া নিশ্চয়ই এই দু’টো দলকে মিস করবে।
রাশিয়া বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে আর্জেন্টিনার বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। ইকুয়েডরের বিপক্ষে আপনার হ্যাটট্রিকেই রাস্তা পরিষ্কার হয়।
-আমাদের শেষ ম্যাচে জয়টা দরকার ছিল। যা করেছি, সেটাই পরিকল্পনার অংশ ছিল। দলের সবাই মিলে আমরা এটা সম্ভব করেছি। আসলে সবাই বিশ্বকাপ জিততে উদগ্রীব ছিল। এটা ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর, সবাই চায় এটার অংশ হতে। আমরা সবাই খুবই আনন্দিত ছিলাম যে, বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়ে গেছে, আর প্লে-অফের টেনশনে যেতে হবে না।
যখন জানলেন ক্রোয়েশিয়র সাথে গ্রুপ পর্বে আপনার দেখা হবে, তখন ইভান রাকিটিচকে (বার্সা সতীর্থ) কি বলেছিলেন-
-না, কিছুই তেমন কিছুই বলিনি। ইভান আমার খুব ভালো একজন সতীর্থ। ও একজন যোদ্ধা, ওর খেলা আমার দারুণ পছন্দ। ও জাতীয় দলে ওর যোগ্য সঙ্গী লুকা মড্রিচকে পাচ্ছে। অনুশীলনের ফাঁকে ম্যাচ নিয়ে টুকটাক কথা হয়েছে। এর বেশি কিছু না!
image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here