মুক্তামণির হাত পূর্বের ন্যায় বেড়ে যাচ্ছে

0
153

ভাল নেই মুক্তামণি। অস্ত্রোপচারের পর পুনরায় তার ডান হাতে ব্যথা ও চুলকানি অনুভব করছে সে। এমনকি তার হাতটি ফুলে আবারও আগের মতোই হয়ে যাচ্ছে। মুক্তার ডান হাতটি সবসময় কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা হলেও কাপড় খুললেই গন্ধ বের হচ্ছে। সে গন্ধে বিরক্ত হচ্ছে মুক্তাও। ‘আবারও আমার হাত চুলকাচ্ছে। অপারেশনের পর হাতটি হালকা লাগত। কিন্তু আবারও এটি ভার হয়ে গেছে। সঙ্গে ব্যথাও আছে। এখন একেবারেই আমি উঠতে পারি না। সারাদিন শুয়েই থাকতে হচ্ছে।’ কথাগুলো বলতে গিয়ে প্রায় হাঁপিয়ে উঠলো মুক্তামণি। কারণ সে শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল। স্কিন গ্রাফটিংয়ের পর মুক্তামণির হাতটি সুস্থ হওয়ার পথে থাকলেও তা ক্রমাগত কেন বাড়ছে তা নিয়ে সংশয়ে আছেন চিকিৎসকরাও। সোমবার মুক্তার হাতে পঞ্চমবারের মত অস্ত্রোপচার করা হবে বলে জানান ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের জাতীয় সমন্বয়ক ডাঃ সামন্তলাল সেন।

শনিবার ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ৬০৮ নম্বর কক্ষে গিয়ে দেখা গেল, মুক্তামণি শুয়ে মোবাইলে গেইম খেলছে। কিন্তু এক হাতে মোবাইলটি ধরে রাখতেও যেন কষ্ট হচ্ছে তার। শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল সে। তার শরীরটি প্রায় কঙ্কালসার দেখাচ্ছে। এ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্যানোলা লাগিয়ে স্যালাইন দেয়া হচ্ছে তাকে। তার দুই হাতের সব রগে ক্যানোলা দেয়া হয়ে গেছে। তাই এখন ক্যানোলা লাগানো হয়েছে তার পায়ে। এছাড়া স্কিন গ্রাফটিংয়ের সময় তার ডান পায়ের যেখান থেকে চামড়া নেয়া হয়েছিল সে জায়গাটিতে ব্যান্ডেজ করা রয়েছে। তবে সেখানে কোন ব্যথা নেই বলে জানায় মুক্তামণি। তবে হাতের চুলকানি মাঝে কমলেও তা পূর্বের ন্যায় বেড়ে যাওয়ায় ও হাত ফুলে ওঠায় দুশ্চিন্তায় আছে মুক্তাসহ তার পরিবার।

তবে চিকিৎসক সামন্তলাল সেন মুক্তার শারীরিক অবস্থা ঠিক আছে বলে মন্তব্য করে জনকণ্ঠকে জানালেন, ‘সে শারীরিকভাবে সুস্থ আছে। তবে তার সম্পূর্ণ হাতটি কিন্তু স্কিন গ্রাফটিং করা হয়নি। কিছু অংশে আমরা অস্ত্রোপচার করে নতুন চামড়া লাগিয়েছি। সম্ভবত বাকি যেসব অংশ খালি ছিল সেসব অংশ ফুলে যাচ্ছে এবং চুলকাচ্ছে। তবে মেডিক্যাল বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে সোমবার তার হাতে আবার অপারেশন করা হবে। তার শারীরিক অবস্থা ভাল আছে বলেই আমরা এ অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এর আগে গত ১৮ অক্টোবর হঠাৎ করেই মুক্তামণির শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর তাকে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেয়া হয়। মুক্তামণির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তখন ডাঃ সামন্তলাল সেন জনকণ্ঠকে জানান, ‘মুক্তামণির একটি ‘লাংস’ নষ্ট। আর এ কারণেই তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। আমরা অনেক আগেই বিষয়টি জেনেছি। তার চিকিৎসাও চলছে। ’

গত ১০ অক্টোবর মুক্তামণির হাতে প্রথম চামড়া লাগানোর (স্কিন গ্রাফটিং) পরদিনই তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। এর সাত দিন পর মুক্তার হাতের ব্যান্ডেজ খুলে দেয়া হয়। তখনই তার হাত দৃশ্যমান হয়। তখনও হাতটি প্রায় স্বাভাবিক আকারেই ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা আরও ফুলে উঠেছে।

এ বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে মুক্তামণির বাবা ইব্রাহিম হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম ওর হাতটি অস্ত্রোপচারের পর যেমন ছিল তেমনই থাকবে। কিন্তু ক্রমাগত তা বেড়েই চলছে। সেই সঙ্গে আবারও চুলকানি হচ্ছে। মেয়েটি সবসময়ই মন খারাপ করে থাকে। দিন দিন সে সুস্থ হওয়ার উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে। এর থেকে হাতটি কেটে ফেললেও আমার মেয়েটা মনে হয় ভাল থাকত!

মুক্তামণির সুস্থ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন জনকণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলেছি, মুক্তামণির বিষয়ে আমাদের কোন তাড়াহুড়ো নেই। ধীরে ধীরে আমরা ওর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সব দেখে-শুনে ওর শারীরিক অবস্থার কথা সবসময় বিবেচনা করেছি প্রতিটি অস্ত্রোপচারের আগে। আর ওতো এমনিতেই অপুষ্টিতে ছিল, নানা ধরনের জটিলতা ছিল। আর গত কয়েকটি অস্ত্রোপচারের এ্যানেসথেশিয়ার প্রভাবও রয়েছে তার শরীরে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি তাকে ভাল করার।’

‘হেমানজিওমা’ রোগে আক্রান্ত শিশু মুক্তামণির হাতে চামড়া প্রতিস্থাপনের প্রাথমিক ধাপ শেষ হয় ১০ অক্টোবর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। সেদিন প্রায় আড়াই ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে তার হাতের ৫০ শতাংশে নতুন চামড়া প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করা হয়।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here