রক্তদান কর্মসূচি নিরাপদ ও জোরাল করার তাগিদ

0
143
দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ রক্ত দান করলে রক্তের নিয়মিত চাহিদা পূরণ সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞগণ। এ ছাড়া নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্থা আরও জোরদার করে শতভাগ রক্তের চাহিদা মেটাতে স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা জরুরি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর একটি হেটেলে ২ দিনব্যাপী রক্ত পরিসঞ্চালন বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এ সব কথা জানান।

 

এশিয়ান অ্যাসোশিয়েশন অব ট্রান্সফিউশান মেডিসিন (এএটিএম) ও ব্ল্যাড ট্রান্সফিউশান সোসাইটি অব বাংলাদেশ (বিটিএসবি) আয়োজিত এ সেমিনারে অন্যান্যে মধ্যে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহীউদ্দীন, বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল আহসান খান, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সালান ও এশিয়ান অ্যাসোশিয়েশন অব ট্রান্সফিউশান মেডিসিন (এএটিএম) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ডা. এম বদরুল ইসলাম।

 

সেমিনারে জানানো হয়, নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কর্মসূচির পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা গত ১০ বছরে ১০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কায় স্বেচ্ছায় রক্তদানের হার শতভাগ। ভারতেও এই হার ৬৫ শতাংশ। এই জায়গায় বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে।

 

আমাদের দেশে মূলত ২০০০ সাল থেকে রক্ত পরিসঞ্চালন সার্ভিস এর নতুন করে পুনর্বিন্যাস শুরু হয়। উদ্দেশ্য ছিল আমাদের দেশের রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন সাধন করা। জনগণের দ্বারপ্রান্তে রক্ত পরিসঞ্চালন সেবা পৌঁছানের উদ্দেশ্য নিয়ে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন প্রোগ্রাম এর উন্মেষ ঘটে। আজ দেশে ১৮৫টি পরিসঞ্চালন কেন্দ্র বেসরকারিভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে হাসপাতালগুলোর সাথে একত্রে জনগণের সেবায় কাজ করছে। বেসরকারিভাবে সেসব রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র কাজ করছে তারাও নিয়মাবলীর মধ্যে থেকে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

 

২০০২ সালে তদানীন্তন জাতীয় সংসদে ‘নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন’ আইনটি পাস হয়। আর ২০০৪ সালে হতে এই আইনটি দেশে কাজ করা শুরু করে। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১৭ জুন এই আইনের বিভিন্ন আইন কানুন তৈরি হয়। পরবর্তীতে ‘ন্যাশনাল ব্ল্যাড পলিসি’ তৈরি হয়, যা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে।

 

কালের প্রবাহে এশিয়ান অ্যাসোশিয়েশন অব ট্রান্সফিউশান মেডিসিন (এএটিএম) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার গঠন করা হয় এবং সেটা ব্ল্যাড ট্রান্সফিউশান সোসাইটি অব বাংলাদেশ (বিটিএসবি) দ্বারা অনুমোদন লাভ করে। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ৭তম সাউথ এশিয়ান অব ট্রান্সফিউশান মেডিসিন-এর আয়োজন করা হয় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেশন সেন্টারে। এএটিএম বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উদ্দেশ্যে প্রতিবছর দুবার বিভিন্ন প্রকাশনা করা ছাড়াও আমাদের দেশে রক্ত পরিসঞ্চালন সার্ভিস বিষয়ে বিভিন্ন কার্যকর ভূমিকা পালন করা।

 

দেশে রক্তের বিভিন্ন উপাদান পৃথকীকরণ’র ৩০টি রক্ত পরিঞ্চালন সার্ভিস কেন্দ্র কাজ করছে। ৯৯৮৪ জন রোগীর উপর একটি বড় গবেষণা করা হয়। এর আওতায় আমাদের দেশের রক্ত পরিসঞ্চালন সার্ভিস এর জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এর কার্যক্রম হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট অনেক রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র পরিচালনা করে থাকে।

 

এশিয়ান অ্যাসোশিয়েশন অব ট্রান্সফিউশান মেডিসিন (এএটিএম) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার প্রক্রিয়াধীন জাতীয় রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র চালু নিশ্চিত করা এবং পর্যায়ক্রমে বিভাগ, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে ব্ল্যাড ব্যাংক আন্দোলন আরো বেগবান করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here