রনিকে চাঁদাবাজির মামলায় এখন কারাগারে।

0
86
রনিকে চাঁদাবাজির মামলায় এখন কারাগারে।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম ওরফে রনিকে চাঁদাবাজির মামলায় এখন কারাগারে। আজ সোমবার বেলা ১২ টার দিকে চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ ওসমান গণি শুনানি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নগরের একটি কোচিং সেন্টারের পরিচালককে রাগে ফুঁসতে থাকা নুরুলের চড় মারতে থাকার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে দেশব্যাপী আলোচিত হয়। এ কারণে গত ১৯ এপ্রিল তাঁকে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেয় সংগঠনটি।

সরকারি কৌঁসুলি আবিদ হোসেন বলেন, ২০ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলায় নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাঁর আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, নুরুল আজিমসহ সাত নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহেদ খান গত ৪ এপ্রিল নগরের চকবাজার থানায় মামলাটি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম গত ৩১ মার্চ বিজ্ঞান কলেজে তাঁর দলবল নিয়ে হইচই শুরু করেন। তাঁর নির্দেশে তানভীর ও নেওয়াজ তাঁদের হাতে থাকা পিস্তল অধ্যক্ষের ঘাড়ে ঠেকিয়ে গুলি করতে চায়। এ সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেন তাঁকে। প্রাণে রক্ষা পেতে কলেজের পিয়নসহ অন্যদের সহযোগিতা চাইলে নুরুল আজিম তাঁকে (অধ্যক্ষ) কিলঘুষি মারতে থাকেন।

তবে প্রত্যক্ষদর্শী অনেকে ওই ঘটনার ভিন্ন তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, প্রবেশপত্রের সঙ্গে উন্নয়ন ফি বাবদ পাঁচ হাজার টাকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে ২৯ মার্চ বিজ্ঞান কলেজে আন্দোলন করেন নুরুল আজিমের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা। সেদিন কলেজ কর্তৃপক্ষ ৩১ মার্চ বাড়তি ফি ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এরপর কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করায় ৩১ মার্চ দুপুরে নুরুল আজিম আবারও ওই কলেজে যান। তখন টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে নুরুল আজিম ও তাঁর কর্মীরা অধ্যক্ষকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

নুরুলের চড় থাপ্পড়ের যে ভিডিও ভাইরাল হয় 
ভিডিওতে দেখা যায়, নুরুল আজিম রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে এক ব্যক্তির চুল ধরে কখনো টানাহেঁচড়া করছেন, কখনো সমানে চড়-থাপ্পড় মারছেন। ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার ওই ব্যক্তি এরপরও শান্ত—এ রকম একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের জিইসি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির এক কোচিং সেন্টারের পরিচালক রাশেদ মিয়াকে তাঁর কার্যালয়ে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি ধরা পড়ে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায়। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে গত ১৯ এপ্রিল। ছয় মিনিটের এই ফুটেজে দেখা যায়, ছাত্রলীগ নেতা ১৩টি চড় মেরেছেন। শেষের দিকে রাশেদের গলাটিপে ধরেন তিনি। ওই সময় হাতজোড় করে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করেন রাশেদ।

ছাত্রলীগ নেতার ক্ষোভের কারণ কী, তা ফুটেজে বোঝা যায়নি। তবে পরে রাশেদ মিয়া পাঁচলাইশ থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, নুরুল আজিম তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। টাকা না দিলে তাঁকে মেরে ফেলারও হুমকি দিয়েছিলেন আজিম।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here