রোহিঙ্গাদের জন্য সোচ্চার হেফাজতে ইসলামের আমীর

0
104

হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা আহমদ শফী সমাবেশে বলেছেন, মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের সম্মানের সঙ্গে সে দেশে ফেরত নিতে হবে। তাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। জাতিসংঘের উচিত রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধে চাপ সৃষ্টি করে মিয়ানমারকে বাধ্য করা। কিন্তু জাতিসংঘ সেই ভূমিকা রাখতে পারছে না।

শুক্রবার বিকালে নগরীর লালদীঘি মাঠে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আয়োজিত সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন। মিয়ানমারের আরাকানে মুসলমানদের ওপর গণহত্যা বন্ধ, মিয়ানমার সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ এবং নাগরিক অধিকার দিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার দাবিতে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে জাতিসংঘের দিকে। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার জন্য ‘সেফ জোন’ ঘোষণা করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী পৃথিবীতে বিপন্ন জাতিতে পরিণত হবে।

হেফাজতের নায়েবে আমীর মহিবুল্লাহ বাবুনগরী ছাড়াও সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- হেফাজত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী, নুর হোসেন কাশেমী, সেলিম উল্লাহ, জোনায়েদ আল হাবিব, আল্লামা হাফেজ তাজুল ইসলাম, আল্লামা লোকমান হাকিম, আবদুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহি, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, জুনাইদ আল হাবিব, আল্লামা ইসহাক নূর, মাওলানা আনাস মাদানি, মাওলানা সরোয়ার কামাল আজিজী, মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, মাওলানা ইসহাক মেহরিয়া, মাওলানা হাবিবুল্লাহ আজাদী প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন- রোহিঙ্গারা মজলুম, নির্যাতিত। মিয়ানমারের মুসলমানরা সন্ত্রাসী নন। যারা মিয়ানমারের মুসলমানদের সন্ত্রাসী বলবে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া মানবিক ও ইমানি দায়িত্ব। ১৯৭১ সালে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের হিন্দুরা আমাদের অনেক ভাই-বন্ধুদের আশ্রয় দিয়েছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হামলার সময় আমাদের অনেক ভাই-বন্ধু, মুক্তিযোদ্ধা ভারতে আশ্রয় পেয়েছিলেন হিন্দুদের কাছে। মানবিক কারণে হিন্দুরা যদি আশ্রয় দিতে পারেন তবে আমরা মুসলমান ভাইদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিতে পারব না কেন।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here