শ্রমিক লীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী ও সন্তানরা শ্রীঘরে

0
72

বরিশালে শ্রমিক লীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের চরবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্বজনদের অভিযোগ, স্ত্রী ও মেয়ের উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরায় বাধা দেওয়ার কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়। তবে অভিযুক্ত স্ত্রীর দাবি, তাঁর স্বামী মেয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ করতেন। এ কারণে তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম মোক্তার হোসেন বেপারী (৪০)। তিনি রাজমিস্ত্রির জোগালি ছিলেন। তিনি চরবাড়িয়া গ্রামের অফেজউদ্দিন ওরফে লেদু বেপারীর ছেলে এবং ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। অভিযুক্ত স্ত্রী মনিরা বেগম (৩৫) গৃহিণী, মেয়ে তানজিলা আক্তার মিলি বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী এবং ছেলে আফিজুল ইসলাম চরবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। পুলিশ তাদের আটক করেছে।

গতকাল ভোরে চরবাড়িয়া গ্রামের বাড়ি থেকে মোক্তার হোসেনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা হাসপাতালে আনা হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টায় তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযুক্ত স্ত্রী-সন্তানরা প্রাথমিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে।

চরবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহিদুল আলম তুহিন বলেন, ‘ভোর রাত ৪টার দিকে খুনের ঘটনাটি ঘটে। খুন করার পর সকাল ৬টায় আমার মোবাইল ফোনে কল করে মনিরা বেগম তাঁর স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার কথা জানায়। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে মোক্তারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। এরপর আমরা মোক্তারের স্ত্রী-সন্তানকে আটকে রেখে পুলিশকে জানাই। তারা এসে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে থানায় নিয়ে যায়। ’

নিহত মোক্তারের বাড়ির ভাড়াটিয়া আনোয়ার শেখ ও মাকসুদা বেগম দম্পতি জানান, ‘বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত মোক্তার ও তাঁর স্ত্রী মনিরা বেগমের মধ্যে ঝগড়া চলে। আমরা ওদের ঝগড়ার কারণে রাতে ঘুমাইনি। রাত ২টার দিকে মোক্তারের ঘরের দরজা বন্ধ করে দেওয়ায় আমরাও শুয়ে পড়ি। ভোর রাতে হঠাৎ করে আমরা মোক্তারের চিৎকার শুনে তার ঘরের দরজা খুলতে বলি। কিন্তু তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা আমাদের চলে যেতে বললে সন্দেহ হয়। এরপর জোর করে আমরা ঘরের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করি। পরে দেখি মোক্তার সামনের বারান্দায় মাটির ওপর পড়ে রয়েছে। আর তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা দা ও লাঠি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমরা তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করলে আমাদের ওপর চড়াও হয়। পরে ভোরের আলো ফুটলে আমরা চিৎকার দিই। তখন স্থানীয় লোকজন আসে। ’

নিহত মোক্তার হোসেনের ছোট বোন শিল্পী বেগম বলেন, বছর তিনেক ধরে সন্তানদের পড়ালেখা ও অন্যান্য খরচের টাকার জন্য রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজ করতে মোক্তারকে চাপ দিতে থাকে মনিরা বেগম। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত।

কাউনিয়া থানার ওসি নুরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে  মোক্তার বেপারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে আটককৃতরা।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here