সব শক্তি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

0
95
সব শক্তি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

ক্রিকেট মাঠের কেন্দ্রে থাকে ২২ গজ দীর্ঘ পিচ। খুলনা এখন বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠের পিচে পরিণত হয়েছে। দেশের মানুষের দৃষ্টি খুলনার দিকে। ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। সব শক্তি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

নির্বাচন ঘিরে খুলনা শহরে নতুন মুখের ছড়াছড়ি। অচেনা অনেক মুখ। তাঁদের একটি অংশ এসেছে দুটি দলের কেন্দ্র থেকে, তাঁরা কেন্দ্রীয় নেতা। অন্য অংশটি এসেছে খুলনা শহরের আশপাশের বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, গোপালগঞ্জ থেকে। সবচেয়ে বড় অংশটি এসেছে আশপাশের ২০টি উপজেলা থেকে। তাদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মী-সমর্থক। বিএনপির খুব কম।

৬ মে সকালে শহরের ময়লাপোতা এলাকার একটি হোটেলে দেখা হয় খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবুল হোসেনের সঙ্গে। নাশতা খেতে খেতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘খালেক ভাইয়ের (আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী) ইলেকশনের কাজে লোকজন নিয়ে আসছি।’ গতকাল মঙ্গলবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হানিফ ভাইয়ের জনসভা আছে বটিয়াঘাটায়। জনসভা শেষে দাকোপ যাব। কাল (বুধবার) আবার খুলনা আসব।’

শুধু তিনিই নন, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অনেক কর্মী এখন খুলনা শহরে। দাকোপ-বটিয়াঘাটা (খুলনা-১) আসনের সাবেক সাংসদ ননী গোপাল মণ্ডলও একই কাজে খুলনায় অবস্থান করছেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত যুবলীগের এক নেতা বলেন, নৌকা প্রতীকের জন্য কাজ করতে বেশি নেতা-কর্মী আসছেন রূপসা উপজেলা এবং বাগেরহাট জেলার রামপাল, সদর, মোরেলগঞ্জ ও মোংলা থেকে। আর দাকোপ, তেরখাদা, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, বটিয়াঘাটা, কয়রা, ফুলতলা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, তালা, অভয়নগর-এসব উপজেলা থেকেও নেতা-কর্মীরা আসছেন, থাকছেন।

শহরের প্রবীণ বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরের বর্তমান বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ এসেছে নদীর ওপার বাগেরহাট থেকে। সাবেক মেয়র তৈয়েবুর রহমান ও তালুকদার খালেকের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটে। শিল্পনগরী হওয়ায় অনেকে কাজের জন্য শহরে এসে এখানকার বাসিন্দা ও ভোটার হয়েছেন। নগরবাসীর বড় অংশের পরিবারের একটি অংশ আশপাশের উপজেলার গ্রামের। সিডর ও আইলার পর অনেক মানুষ গ্রাম ছেড়ে খুলনায় বসবাস করছে। তাদের মধ্যে অনেকে নগরের ভোটারও হয়েছেন।

শহরের দক্ষিণের এক রাজনৈতিক নেতার ছেলের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আছে নগরের নতুনবাজার এলাকায়। কাল সেখানে গিয়ে অনেকগুলো বিছানা দেখা যায়। প্রতিষ্ঠানের মালিক বললেন, নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে গ্রাম থেকে মানুষ আসছে। তাদের থাকার জন্য এই গণবিছানা।

তবে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অভিযোগ, প্রচারে অংশ নিতে আসা তাঁর কর্মীরা খুলনা শহরে অবস্থান করতে পারছেন না। এ ক্ষেত্রে ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে পুলিশ। নির্বাচনী প্রচার শেষে নিজ নিজ জেলা বা উপজেলায় ফেরত যাওয়ার পথে তাঁদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। গত তিন দিনে এ রকম ৫৪ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের একজন বাগেরহাট জেলা যুবদল সভাপতি মেহবুবুল আলম।

খুলনা মহানগর পুলিশ কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, শহরে নতুন মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) সোনালী সেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে হঠাৎ শহরে নতুন মুখের আনাগোনা বেড়েছে, এটা ঠিক। কিন্তু রাত হলে তাদের দেখা যাচ্ছে না। আমরা এসব মানুষের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছি।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের দিন ভোটার ও এই শহরের স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া অপ্রয়োজনে কেউ শহর এলাকায় থাকতে পারবেন না।

উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের অনেকেরই জেলার নেতাদের মন রক্ষা করে চলতে হয়। তাই খালেক ও মঞ্জুর নির্বাচনে তাঁরা পাড়ায় পাড়ায় নেতাদের সঙ্গে হাঁটছেন। সেলফি তুলে ফেসবুকে ছেড়ে দিচ্ছেন। ফাঁকে আত্মীয়স্বজনদের নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে বলছেন।

তাঁদের বাইরে শহরে দুই দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এসেছেন। তাঁদের কারও কারও নাম ভোটাররা জানেন। বিএনপি বলছে, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন বিএনপির একদল কেন্দ্রীয় নেতা। তাঁদের মধ্যে আছেন জয়নুল আবদিন ফারুক, শহীদউদ্দিন চৌধুরী, মশিউর রহমান, হাবিবুল ইসলাম, বিলকিস জাহান প্রমুখ। এসেছেন চলচ্চিত্রশিল্পীরাও।

আর আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে এসেছেন সুজিত রায় নন্দী, এনামুল হক শামীম, এস এম কামাল হোসেন, সাইফুজ্জামান শিখর, আমিরুল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন প্রমুখ।

মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ খুলনা শহরে না এলেও গতকাল নিজ নির্বাচনী এলাকা ডুমুরিয়ায় ছিলেন। আর দলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ খুলনা শহরের আশপাশে কয়েক দিন ধরে অবস্থান করছেন।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here