সাত জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০ জন নিহত হয়েছেন

0
106
সাত জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০ জন নিহত হয়েছেন

সাত জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গাইবান্ধায় নৈশ কোচের চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ১৬ জন নিহত হন। এ ছাড়া রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় বিকল বিআরটিসি বাসের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় ছয়জন নিহত হন। নাটোর শহরে বালুবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার দুই আরোহী এবং সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় বাসের চাপায় মারা নিহত হয়েছেন এক যুবক। নরসিংদীর রায়পুরার মরজালে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন এক ব্যক্তি।

রংপুরের দুর্ঘটনা ঘটে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে। অন্য দুর্ঘটনাগুলো ঘটে আজ শনিবার ভোর, সকাল ও দুপুরের মধ্যে।

গাইবান্ধা: গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতারুজ্জামান জানান, ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলের উদ্দেশে ছেড়ে আসে আলম এন্টারপ্রাইজ নামক যাত্রীবাহী নৈশ কোচটি। ভোর চারটার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলার ব্র্যাক মোড়ের অদূরে বাঁশকাটা (গরুরহাট) এলাকায় পৌঁছানোর পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের বা পাশে এক বিশাল রেইনট্রিগাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এতে গোটা বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে মারা যান সাতজন আর পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান নয়জন।

ওসি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন লাশ উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানায় নিয়ে গেছে। আহত ব্যক্তিদের পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং রংপুর ও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পলাশবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ফরিদপুর: বরিশাল থেকে রাজশাহীগামী তুহিন পরিবহনের একটি বাস পথে ভাঙ্গায় এলে বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে গাছসহ সড়কে পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে দুজন নিহত ও ১৯জন আহত হয়েছে। আজ সকাল ৮টার দিকে ভাঙ্গার চুমরদি ইউনিয়নের পূর্ব সদরদী এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্য সাতজনকে ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। আর অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন ।

রংপুর: পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের একটি চাকা ঠাকুরটারী এলাকায় রাত দেড়টার দিকে ফেটে যায়। চাকাটি বদল করছিলেন বিআরটিসির চালক ও তাঁর সহকারী। মহাসড়কে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন কয়েকজন যাত্রী। রাত দুইটার দিকে রংপুরগামী একটি ট্রাক পেছন থেকে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীসহ বিআরটিসির বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত হন। আহত হন ১৩ জন। খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে তারাগঞ্জ ও রংপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন দিনাজপুর সদর উপজেলার নিমতলী গ্রামের নিশাদ আলী (২০) ও সাজ্জাদ হোসেন (১৯)। লাশ ও গাড়ি দুটি তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মী বলেন, নিহত ব্যক্তিদের শরীরের অবস্থা এতটাই ছিন্নভিন্ন যে তাঁদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। সবাই বাসটির যাত্রী ছিলেন।

নাটোর: সদর থানার উপপরিদর্শক রুবেল হোসেন প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানান, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নাটোর স্টেশন এলাকা থেকে একটি অটোরিকশা চার যাত্রী নিয়ে হরিশপুর এলাকার মিশন হাসপাতালে যাচ্ছিল। আলাইপুর মসজিদ এলাকায় বালুবোঝাই একটি ট্রাক পেছন থেকে ওই অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার যাত্রী জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার পূর্ব সোনাপাতিল এলাকার সুদিস্মা দেবনাথ (৪৫) ও তাঁর প্রতিবেশী কানাই চন্দ্রের (৩৫) মৃত্যু হয়। আহত হন সুদিস্মা দেবনাথের স্বামী মঙ্গল দেবনাথ (৫০) ও মেয়ে আঁখি দেবনাথ (১৬)। আহত ব্যক্তিদের প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

রুবেল হোসেন জানান, পুলিশ ট্রাকটি আটক করলেও এর চালক ও সহকারী পালিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ: ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে ঢাকা থেকে বগুড়াগামী যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত ১১ জন। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় রায়গঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের ভুঁইয়াগাঁতী এলাকার জসিম উদ্দিন ফকিরের ছেলে শফি উদ্দিন ফকির (৪৫) ও একই ইউনিয়নের শ্যামনাই গ্রামের দুহা শেখের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৫)। নিহত দুজনই ট্রাকের যাত্রী ছিলেন।

রায়গঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মোজাম্মেল হকের ভাষ্য, ঘটনাস্থল থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। আহত ১১ জনকে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় বাসের চাপায় মাথা থেঁতলে এক যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। চালকসহ বাসটিকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে আজ শনিবার সাড়ে ১১টায় ভরাডোবা নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে।

নিহত যুবকের নাম মাহমুদুল হাসান (৩০)। তাঁর বাবার নাম আব্দুল ওয়াহিদ। তাদের বাড়ি নলসিটি থানার নাঙ্গুলী গ্রামে। তিনি ভরাডোবা এলাকায় ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি সুতা তৈরির কারখানায় চাকরি করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ঢাকাগামী শাহজালাল পরিবহনের একটি বাস মাহমুদল হাসানকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

নরসিংদীর রায়পুরার মরজালে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আবু তাহের (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে মরজাল পার্কের কাছাকাছি সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবু তাহের ভৈরবের শ্রীনগরের নতুনবাজারের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে।

রায়পুরা থেকে মরজাল যাওয়ার পথে মরজাল পার্কের কাছাকাছি স্থানে আবু তাহেরকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় মোটরসাইকেলটি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক মো. আরফান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নিহতের লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here