সাড়ে চার লাখ টাকার শ্রাদ্ধ করছেন ওয়েডসন

0
114

ওয়েডসন এনসেলমে কি মাঠে ছিল? খেলা শেষে এমন প্রশ্ন শুনেও অবাক হওয়া গেল না। কেননা ওয়েডসন মাঠে থাকলেও, মনে হয়েছে ওটা তাঁর ছায়া। যে হাইতিয়ান ওয়েডসনকে চেনে না ঢাকার দর্শক। ওয়েডসন নিষ্প্রভ থাকার সন্ধ্যায় খুঁজে পাওয়া গেল না ইংলিশ স্ট্রাইকার চার্লি শেরিংহামকেও। ফলে গোলমুখ খুলতে না পারায় আরামবাগের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো উড়তে থাকা সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবকে।

লিগের দ্বিতীয় পর্বে ১১ ম্যাচের জন্য ৫০ লাখের বেশি টাকা দিয়ে দলে ভেড়ানো হয়েছে ওয়েডসনকে। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার বেশি। কিন্তু ঢাকার ফুটবলে ফেরা ওয়েডসনকে চেনাই যাচ্ছে না। শেষ ম্যাচে আবাহনীর মতো আজ আরামবাগের বিপক্ষেও মাঠ থেকে তুলে নিতে হলো তাঁকে। ভাবা যায়!
ওয়েডসন মানেই উইং দিয়ে গতির ঝড় তুলে প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেওয়া। শেখ জামালের জার্সিতে এই ওয়েডসনকেই দেখে এসেছেন সবাই। দুই মৌসুমে হয়েছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতাও। অথচ সাইফ স্পোর্টিংয়ের জার্সিতে কোথায় সেই বারুদে ওয়েডসন!
আজ বেশ কয়েকবার স্টেপ ওভার দেখালেন। কিন্তু তা শুধু দেখতেই ভালো, প্রতিপক্ষের ভয় ধরানোর কিছু নেই। উপায় না দেখে দ্বিতীয়ার্ধে তুলেই নেওয়া হলো তাঁকে।
আবাহনীর বিপক্ষে যে ধার দেখা গিয়েছিল সাইফের, আজ অর্ধেকও পাওয়া যায়নি। আরামবাগ কোচ মারুফুলের ট্যাকটিকসের প্রশংসাও করতে হয়। শেরিংহাম-ওয়েডসনকে ঠেকাতে বিদেশি কোটায় দুই সেন্টারব্যাক ইকাঙ্গা ও কিংসলেকে নামিয়েছিলেন তিনি। তাদের মাঝে সাইফের আগের ম্যাচে গোল করা নম্বর নাইন শেরিংহাম থাকল বোতল-বন্দী হয়েই।
ম্যাচে সবচেয়ে ভালো সুযোগটি পেয়েছিল ইংলিশ এই স্ট্রাইকার। ২২ মিনিটে রহমত মিয়ার ক্রস গোলমুখ থেকে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে হেড করে পোস্টেও রাখতে পারেননি। আরামবাগের সোহেল রানাও পেয়েছিলেন মুখে চামচ তুলে খাইয়ে দেওয়ার মতো সুযোগ। ৩৫ মিনিটে রাজন মিয়ার বাড়ানো বল গোলের সামনে থেকেও কোনোভাবে পা লাগাতে পারলেন না। এই গোল করার চেয়ে মিস করাই কঠিন। দুই দলের স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র।
এই ড্রয়ের ফলে ১৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে সাইফ স্পোর্টিং। আর আরামবাগের পয়েন্ট ১১।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here