সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্র বানাতে একটুও দেরি করবে না

0
37
সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্র বানাতে একটুও দেরি করবে না

আপাতত পরমাণু কর্মসূচির লাগাম টেনে রাখা ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র বানায়, তবে সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্র বানাতে একটুও দেরি করবে না, গত বৃহস্পতিবার এমন মন্তব্য করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সিবিএস টেলিভিশনকে দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকারের যে অংশবিশেষ প্রকাশ করা হয়, সেখানে তাঁকে এমন মন্তব্য করতে শোনা যায়। যুক্তরাষ্ট্র সফরের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ আগামীকাল রবিবার তাঁর পূর্ণ সাক্ষাৎকার প্রচার করা হবে।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, ‘সৌদি আরব কোনো পরমাণু বোমা অর্জন করতে চায় না। কিন্তু ইরান যদি পরমাণু বোমা বানায়, তবে নিঃসন্দেহে আমরা অবিলম্বে একই পথ ধরব।’

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে প্রয়াত নািস নেতা অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করে মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, ‘তিনি (খামেনি) মধ্যপ্রাচ্যে নিজের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে চান, যেমনটা হিটলার চেয়েছিলেন সে সময়। যা ঘটেছে, সেটা ঘটে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সারা বিশ্বের এবং ইউরোপের অনেক দেশ বুঝতেই পারেনি হিটলার কতটা বিপজ্জনক ছিলেন। আমি মধ্যপ্রাচ্যে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না।’ এবারই প্রথম নয়, গত নভেম্বরে খামেনিকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের নতুন হিটলার’ অ্যাখ্যা দেন সৌদি সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী বিন সালমান।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ পরমাণু শক্তিধর ছয়টি দেশের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করে ইরান। ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)’ শীর্ষক চুক্তি অনুযায়ী ইরান পরমাণু কার্যক্রম সীমিত রাখতে রাজি হয় এবং বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেসিপিওএকে সবচেয়ে বাজে চুক্তি অ্যাখ্যা দিয়ে তা বাতিলের হুমকি দিয়েছেন। এরই মধ্যে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান চুক্তি মানছে না, যদিও চুক্তি থেকে তিনি এখনো সরে আসেননি। এ ব্যাপারে আগামী ১২ মের মধ্যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ চুক্তি বাতিল করা হলে ইরান পূর্ণমাত্রায় পরমাণু কর্মসূচি চালু করবে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে হঠাৎ বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন সৌদি যুবরাজ বিন সালমান। সুন্নিপ্রধান দেশের এ যুবরাজ আগামী মঙ্গলবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে সোমবার ওয়াশিংটন যাচ্ছেন। ওয়াশিংটনের দিকে রওনা হওয়ার আগে তাঁর এমন মন্তব্যের ফলে যে প্রশ্নটা নতুন করে উসকে উঠেছে, সেটা হলো যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বাতিল  করলে এর ভবিষ্যৎ ফল কী হতে পারে। না বললেই নয়, সৌদি আরবের পরমাণু কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে শঙ্কিত খোদ তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র।

সৌদি যুবরাজের মন্তব্যকে অবশ্য আমলে নিচ্ছে না ইরান। শিয়াপ্রধান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম ঘাসেমি বলেন, ‘ওই সব কথাবার্তা অর্থহীন। তিনি একজন মোহাচ্ছন্ন অন্তঃসারশূন্য ব্যক্তি, যাঁর মুখে শুধু মিথ্যা আর তিক্ততা। তাঁর কোনো রাজনৈতিক জ্ঞান নেই, অথচ দূরদর্শিতার অভাবে তিনি অসময়ে কড়া কথা বলেন।’ সূত্র : এএফপি, সিএনএন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here