স্বামীর কোলে মারা গেলেন

0
92

আরমান্ডো ও কারমেন বেরিজের ভাড়াবাড়িটি ছিল পাহাড়ের ওপর। দাবানল যখন তাঁদের বাড়িতে হানা দিল, তখন বাঁচার জন্য নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছিলেন এই বৃদ্ধ দম্পতি। কিন্তু রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগুন থেকে বাঁচতে বাড়ির সুইমিং পুলে ডুব দিলেন তাঁরা। সারা রাত সেখানে কাটানোর পর আরমান্ডো বাঁচতে পারলেও, টিকতে পারেননি কারমেন। স্বামীর কোলেই চোখ বোজেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সাম্প্রতিক দাবানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একদিকে যেমন প্রচুর বাড়িঘর পুড়ে গেছে, অন্যদিকে নিভে গেছে অনেক প্রাণ। তাঁদেরই একজন হলেন কারমেন (৭৫)। ৫৫ বছর আগে আরমান্ডোকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময়ের সেই বন্ধন এবার ছিঁড়ে গেছে। তাঁর মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে পুরো পরিবারে।

আরমান্ডোর মেয়ে মনিকা ওকন সিএনএনকে বলেন, ‘সবাই মাকে ভালোবাসত। তাঁর মৃত্যু বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা পরিবারের অন্য সদস্যদেরও প্রভাবিত করেছে।’

অথচ আরমান্ডো ও কারমেনের জন্মদিন পালন করতে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা রোজাতে ছুটি কাটাতে এসেছিলেন ছেলেমেয়েরা। সুইমিং পুলের পাশে বসে গল্প করতে খুব পছন্দ করতেন এই দম্পতি। সবাইকে নিয়ে সময় কাটাতে খুব পছন্দ করতেন তাঁরা। মনিকার স্বামী লুই ওকন বলেন, ‘তাঁরা আমাদের নিয়ে থাকতে ভালোবাসতেন। সে জন্যই এবার ছুটি কাটাতে এখানে আসা।’

যেদিন দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল, সেদিন রাত একটার দিকে জানালা দিয়ে প্রথম আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান লুই ওকন। তিনি বলেন, ‘এটি দেখতে বিস্ফোরণের মতো ছিল। আমি আরেকটু ভালোভাবে দেখার জন্য জানালার কাছে গেলাম। মাত্র ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে এটি আমাদের ভাড়া বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে।’

এ অবস্থায় লুই চটজলদি একটি গাড়িতে উঠে বসেন। স্ত্রী মনিকা ও ছেলেমেয়েদের ওঠান অন্য একটি গাড়িতে। আর আরমান্ডো ও কারমেনকে আরেক গাড়িতে উঠতে বলেন। গাড়ির বহর নিয়ে তাঁরা দ্রুত পাহাড়ের নিচে নেমে আসার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু পাহাড়ের নিচে পৌঁছানোর পর দেখা যায়, বেরিজ দম্পতির গাড়ি নেই। মেয়ে মনিকা বাবা-মাকে খুঁজতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ ও আগুনের জন্য তা আর সম্ভব হয়নি।

পরে দমকলকর্মীরা খুঁজে বের করেন বেরিজ দম্পতির গাড়ি। রাস্তায় গাছ ভেঙে পড়ায় তাঁদের গাড়ি আটকে গিয়েছিল। কাছাকাছি আর কোনো বাড়িঘর না থাকায় শেষে নিজেদের ভাড়া বাড়িতেই ফিরে যান আরমান্ডো ও কারমেন। আগুনের তাপ থেকে বাঁচতে সেখানকার সুইমিং পুলে আশ্রয় নেন তাঁরা। আর সকাল সাতটার দিকে সেখানেই মৃত্যু হয় কারমেনের।

আরমান্ডোর বয়স এখন ৭৬ বছরে। মারাত্মক মানসিক আঘাত পেয়েছেন তিনি। স্ত্রীর মৃত্যু মানতে পারছেন না তিনি। উদ্ধার করার পর আরমান্ডোকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই মেয়ে ও জামাতার সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। আরমান্ডো তাঁদের জানান কারমেনের শেষ সময়ের কথা। মেয়ে মনিকা বলেন, ‘বাবা খুব শক্ত প্রকৃতির মানুষ। তিনিই উল্টো আমাদের সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন।’

এরই মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন আরমান্ডো। তিনি বাড়ি ফিরেছেন পাঁচ দশকের সঙ্গীকে হারানোর ব্যথা বুকে নিয়ে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here