হাঁস-মুরগির খামারের বর্জ্য | পরিশোধন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করুন

0
227

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের গবেষকেরা ময়মনসিংহের পাঁচটি কৃষি খামারে উৎপন্ন বেশ কিছু শাকসবজির নমুনা পরীক্ষা করে সেগুলোতে সালমোনেলা ও ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করেছেন। এই দুটি জীবাণু থেকে মানুষ যথাক্রমে টাইফয়েড ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। প্রশ্ন হচ্ছে খামারের শাকসবজিতে এসব জীবাণু কী করে এল? ওই গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁরা যে ৩৬টি মুরগির খামার নিয়ে গবেষণা করেছেন, সেগুলোর অপরিশোধিত বর্জ্য ওই পাঁচটি কৃষি খামারে শাকসবজির খেতে সার হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। ওই সব কৃষি খামারের শাকসবজিতে সালমোনেলা ও ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উৎস অপরিশোধিত পোলট্রি বর্জ্য।

পোলট্রি একটা শিল্প, কিন্তু এই শিল্পের বর্জ্য পরিশোধনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তাই দেশের পোলট্রি খামারগুলো তাদের বর্জ্য শোধন করে না, সেগুলো নিষ্কাশনেরও কোনো ব্যবস্থা তাদের নেই। তারা সেসব বর্জ্য ফেলে নদী–নালায় কিংবা অন্য কোনো জলাশয়ে। অথবা রাস্তার পাশেই ফেলে রাখে। তবে সব বর্জ্য তারা ফেলে দেয় না, কিছু বিক্রি করে কৃষিতে সার ও মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহারের জন্য। কিন্তু অপরিশোধিত পোলট্রি বর্জ্য সার ও মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করার অর্থ যে শাকসবজি ও মাছকে মারাত্মক জীবাণুসমৃদ্ধ করা, এই সচেতনতার অভাব প্রকট। অপরিশোধিত পোলট্রি বর্জ্য কৃষিতে সার ও মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয় উদ্বেগজনক মাত্রায়। ময়মনসিংহের চিত্র আসলে সারা দেশেরই সাধারণ চিত্র।

পোলট্রি শিল্প নতুন ও বিকাশমান বলে এর সঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সম্পর্ক হালকাভাবে দেখা উচিত নয়। পোলট্রি বর্জ্য পরিশোধন ও তার সঠিক ব্যবস্থাপনা অবশ্যই নিশ্চিত করা প্রয়োজন, সে জন্য প্রয়োজন আইনি বিধান। আবার শুধু আইন-বিধান করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, সেগুলো যেন সবাই মেনে চলে, তা-ও নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here