হেলমেটের যত্ন

0
86

হেলমেট এর প্রকারভেদ:
বাইক হেলমেট ৩টি মৌলিক রকমের। সকল ধরনের হেলমেট আরামদায়ক ও যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা থেকে মাথা রক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়।

সাধারন হেলমেট: বিনোদন, কমিউটার, রোড এবং মাউন্টেন রাইডারদের জন্য একটি  লাভজনক হেলমেট। এই হেলমেট স্কেটারস ও স্কেট বোর্ড খেলোয়ারদের জনপ্রিয়। সুর্য থেকে চোখ রক্ষা করার জন্য এই হেলমেট এ ভিসরস যুক্ত করা থাকে।

রোড-বাইক হেলমেট: এই ধরনের হেলমেট ওজনে হালকা, স্বাভাবিক বায়ু চলাচল এবং অতি মনোরঞ্জিত নকশাকৃত। এতে ভিসরস বসানো থাকে, যা হেল্মেট এর ওজন কমিয়ে রাখে।

মাউন্টেন-বাইক হেলমেট: (প্রায় সাইক্লোক্রস রাইডার্স দ্বারা ব্যবহৃত হয়) কম গতিতে ভাল মুক্ত বায়ু সেবনের জন্য এই ধরনের হেলমেট ডিজাইন করা হয়ে থাকে। এটি ভিসরস দ্বারা পৃথক, পিছনের দিকের মাথা রক্ষা করার জন্য রয়েছে উন্নত শক্তিশালী ডিজাইন।

মাউন্টেন অতিক্রম করার জন্য এই ধরনের হেলমেট নিরাপদ। এগুলোর কিছু ডিজাইন পুরো মুখমন্ডল সুরক্ষার জন্য, যা পার্ক রাইডার্স ও মাউন্টেন রাইডার্সদের বৈশিষ্ট্য।

মোটরসাইকেলচালকদের অনেকে তাঁর জুতাজোড়ার যতটুকু যত্ন করেন তার সিকিভাগ মনোযোগও পায় না মাথার ওপরে থাকা হেলমেটটায়। সকালে উঠে কার চকচকে জুতো আর নোংরা হেলমেট পরতে ভালো লাগে! হেলমেট পরার উপকারিতা আর এর যত্নটা জানলে অভ্যাসটা গড়তে সহজ হয়।

যারা মাথায় হাওয়া লাগিয়ে ঘুরতে চান তাঁদের জন্য বলতে হচ্ছে, হেলমেট যে শুধু দুর্ঘটনায় জীবন বাঁচায় তা-ই নয়, এটি আপনার চোখ-মুখ-নাককেও সুস্থ-স্বাভাবিক রাখে। হেলমেট পরলে কাচটা নামিয়েই চালানোর অভ্যাস করুন। জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরামর্শক ইশরাত জাহান বললেন, হেলমেটের কাচটা নামিয়ে পরলে ধুলোবালি সরাসরি চোখে-নাকে ঢুকতে পারে না। ধুলোবালি চোখে নানা জটিলতা তৈরি করে। বিশেষ করে শীতের আগে আর শীতের শেষে ধুলার মৌসুমটাতে চোখ ওঠার প্রকোপ বাড়ে। ধুলোবালির কারণে চোখ ওঠা রোগটা আরও জটিল আকার ধারণ করছে, সংক্রমণ চোখের রেটিনা পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। এ ছাড়া যারা একটু ধুলোবালির বিষয়ে সংবেদনশীল তাদের ক্ষেত্রে হেলমেটটা হতে পারে কার্যকর প্রতিরক্ষা।

আবার কাচ নামিয়ে হেলমেটের ব্যবহার ত্বক আর চুলের উজ্জ্বলতাটাও নাকি বাড়িয়ে দেয়! হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালালে বাতাসের দাপটে অনেকের চুল উড়ে যায়, ধুলোবালিতে ভর্তি হয় মাথা। আর যাদের হেলমেট পরলে মাথা ঘামে তাদের জন্য হেলমেটের ভেতরের স্তরটি পরিষ্কার রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

হেলমেটের যত্নআত্তি

হেলমেট কেনার সময় কেবল মাথার মাপটা বুঝে কিনবেন। মোটামুটি মানের হেলমেটগুলোর চারটা স্তর। সবার ওপরে প্লাস্টিক বা ফাইবারের শক্ত খোলস, তার নিচে কর্কশিটের আবরণ, এর নিচে ফোম, সবার নিচে থাকে কাপড়ের আচ্ছাদন। অনেক হেলমেটের এই ফোমসহ কাপড়ের আচ্ছাদন খুলে ধুয়ে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা আছে। যেগুলোয় নেই সেগুলোর ক্ষেত্রে সুযোগ হলে হেলমেটটা নিয়মিত রোদে দিতে পারেন। এভাবে ঘামে ভেজা মাথার ত্বকের সংক্রমণ ঠেকানো যায়। এ ছাড়া হেলমেটের ভেতরটা সরাসরি ডিটারজেন্টে ডুবিয়ে, ডেটল বা স্যাভলন দিয়ে ধুয়ে দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ব্যবহারের আগে ভেতরটা খুব ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। হেলমেটের সামনের কাচ পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিন একবার মুছলেই যথেষ্ট। সপ্তাহে এক দিন হাতে সামান্য সাবান লাগিয়ে কাচটার দুই পাশে পরিষ্কার করে আবার শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিতে পারেন।

এভাবে করতে পারলে আপনার হেলমেটের কাচটি দীর্ঘদিন স্বচ্ছ থাকবে, রাতের বেলায়ও এই কাচ আপনাকে সুরক্ষা দেবে। যদি ভেতরটা পরিষ্কার করাটা ঝামেলার মনে হয় সে ক্ষেত্রে হেলমেটের নিচে পাতলা রুমাল বা সুতি কাপড় ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে হেলমেটের একেবারে নিচের আচ্ছাদনটা আপনার মাথার সংস্পর্শে থাকবে না। আর ঘেমে গেলে বা ময়লা হলে রুমাল নিয়ে ধুয়ে ফেললেই হলো।

কখন হেলমেট পরিবর্তন করবেন? 
একটি হেলমেট দুর্ঘটনাজনিত কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। যে জায়গায় ক্ষতিগ্রস্থ, সেটি ঠিক করুন এবং এটি যেন নতুনের মত থাকে। এছাড়াও, প্রতি ৫ বছর পর পর হেলমেট পরিবর্তন করুন। দূষণ, UV রশ্মি ও আবহাওয়া জনিত কারনে হেলমেট এর উপাদান নষ্ট হয়ে যায়। মাথার সাথে মিলিয়ে একুরেট সাইজের হেলমেট কিনুন এবং মৃত্যু কিম্বা এক্সিডেন্ট প্রতিহত করা যায় কেবলমাত্র একটি ভালোমানের বাইক হেলমেট পরিধান করে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here