১০ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি হবে

0
44

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে যত্রতত্র বাড়ি নির্মাণ করার কারণে প্রতিদিন প্রায় ২৩৫ হেক্টর কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। সবার জন্য আবাসনসুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ প্রায় সাত হাজার অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করেছে। সরকার ভবিষ্যতে এ সংকট সমাধানে আরও ১০ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করবে।’ মন্ত্রী ব্র্যাকের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলো আবাসন সমস্যার সমাধানে ভবন তৈরিতে সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

আজ রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ব্র্যাক আয়োজিত নগরের দরিদ্রদের জন্য গৃহায়ণে অর্থায়নবিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ব্র্যাকের নগর উন্নয়ন কর্মসূচি দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, মিউনিসিপ্যাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ম্যাব), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট।
অনুষ্ঠানে গৃহায়ণমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট গৃহের ৮১ ভাগ গ্রামে অবস্থিত। তার মধ্যে ৮০ ভাগের নিম্নমানের কাঠামো দিয়ে তৈরি। ফসলি জমি বাঁচাতে হলে গ্রামে যত্রতত্র বাড়ি তৈরি বন্ধ করতে হবে। ইতিমধ্যে সরকারের নগর অঞ্চল পরিকল্পনা আইনের আলোকে যেখানে-সেখানে বাড়ি করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গ্রামেও বাড়ি করতে হলেও পৌরসভার চেয়ারম্যান, মেয়র বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুমতি নিতে হবে। গ্রামে ভবন তৈরি করতে হলে তা গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) প্রকৌশলীর কাছ থেকে পাস করিয়ে নিতে হবে এবং ভূমিকম্প-সহনীয় হতে হবে।
মন্ত্রী বাড়ি তৈরিতে ইটভাটায় মাটির তৈরি পোড়ানো ইট ব্যবহার বন্ধ করার কথা বলেন। কারণ, এ ভাটাগুলোর কারণে মাটি পলি হারিয়ে উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। সেসব ক্ষেত্রে বালির তৈরি সিমেন্টের ইট (স্যান্ড সিমেন্ট ব্লক) তৈরি করার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, পরিকল্পিত আবাসন তৈরিতে এবং আবাসনসংকট মোকাবিলায় ছোট টিনের বাড়ির পরিবর্তে বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হবে। এতে দারিদ্র্যসীমার নিচের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
মেয়র বলেন, নগর উন্নয়নে যেসব দেশ বা শহরগুলো মডেল হিসেবে বিবেচিত, ৫০ বছর আগে সেসব দেশের পরিস্থিতিও ঢাকার মতো ছিল। ঢাকা শহরও সে অবস্থায় যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিবছর সারা দেশ থেকে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ বসবাসের জন্য ঢাকায় আসে। এই শহরের লোকসংখ্যা বাড়লেও ঢাকার প্রতি তিনজনে একজন মানুষ মৌলিক সুযোগ-সুবিধাহীন বস্তিতে বাস করে। সারা দেশের শহরাঞ্চলের প্রায় ৬০ লাখ গৃহের সংকট রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে টেকসই উন্নয়ন (এসডিজি-১১) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার জন্য নগরের দরিদ্রদের আবাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
ব্র্যাকের স্ট্র্যাটেজি, কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক আসিফ সালেহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজশাহীর মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কুমিল্লার মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, বরিশালের মেয়র আহসান হাবিব কামাল, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ আক্তার মাহমুদ প্রমুখ।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here