১৩ বছরের মেয়েকে অপহরণ করে গণধর্ষণ : প্রশাসন নিরব

0
233
১৩ বছরের মেয়েকে অপহরণ করে গণধর্ষণ : প্রশাসন নিরব

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশনিউজ২৪

ঢাকা মোহাম্মদপুর তুরাগ হাউজিং রোডের একটি বাড়ী থেকে গত ৯/০৫/২০১৮ইং তারিখ সকাল ১০টার দিকে তাহমিনা আক্তার (১৩) নামের একটি মেয়েকে মোবাইলযোগে তার পিতার দূর্ঘটনার কথা বলে বাড়ী থেকে বের করে নিয়ে আসে মোঃ সাইদুল (২৫), পিং- পান্না আকন তানু, ৮৯, সিটি করপোরেশন টাউন মার্কেট, মোহাম্মদপুর, ঢাকা নামক এক প্রতিবেশী। বাড়ী থেকে বাবার দূর্ঘটনার কথা শুনে মেয়ে তাহমিনা দৌড়ে ৩নং রাস্তার মোড়ে এলে সেখানে সে শুধু সাইদুলকেই দেখতে পায়। পরে বাবার কথা জিজ্ঞাসা করলে সাইদুল বলে তোর বাবা এখানে না মিরপুরে এক্সিডেন্ট করেছে চল আমার সাথে সিএনজিতে উঠ। এই বলে পূর্বের থেক অপেক্ষমান একটি সবুজ রঙ্গের সিএনজিতে উঠে এবং মিরপুর ১ নাম্বারের দিকে নিয়ে যায়। তাহমিনা গাড়ী থেকে নামতেই দেখতে পায় তাদের পূর্বের দীর্ঘ পরিচিত ও একই বাসায় ১৫ বছর এক সাথে থাকতো সেই আকলিমা (৪৫) (স্বামী : মৃত নুরুল ইসলাম, হোল্ডিং নং-৫৪৫, বাড়ী-৩, থানা- মোহাম্মদপুর, জেলা- ঢাকা) আন্টিকে। তাকে দেখেই আশার আলো দেখতে পায় তাহমিনা। চিৎকার দিয়ে দৌড়ে গিয়ে তাহমিনা আকলিমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে বলে আন্টি বাবা এক্সিডেন্ট করেছে। আকলিমা বলে চল আমার সাথে আমি বলছি বলে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নেয় এবং কাকে যেন ফোন করে বলে আমার কাজ শেষ এবার বাকিটা আপনার কাজ কি করবেন করেন। তখন তাহমিনা নাম উচ্চারণ করতে শুনে মনিরুজ্জামান মনির, আজাদ ও মিরাজের। তারপর ফোন রেখে তাহমিনাকে বলে শোন তোর বাবা এক্সিডেন্ট করেনি তোর বাবা আমার কাছথেকে নেয়া চেকের পাতা ফেরত দিবে আর মনিরুজ্জামানের দোকানের ব্যপারে কি করবে সেটা করার পর তোকে ছেড়ে দিব। এই কথা শুনে মেয়ে তাহমিনার আর বুঝতে বাকি রইল না। এদিক ওদিক তাকিয়ে চিতকার দিতেই গলা টিপে ধরে গাড়ীর মেঝেতে শুয়ে মারধর করতে থাকে আর বলে কোন প্রকার চিৎকার করলে তোকে মেরে ফেলবো। তোর বাবা ১বার স্ট্রোক করেছে তোকে খুব ভালবাসে আর এবার তোর ঘটনা শুনে আবার স্ট্রোক করলে মারা যাবে আর তোর বাবার মৃত্যুর পর তোকেও মেরে ফেলবো নয়তো তুই সব পুলিশকে বলে দিবি। ততক্ষণে তাহমিনার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। জ্ঞান ফিরে দেখতে পায় তাহমিনা একটি রুমের মধ্যে যেখানে কয়েকজন লোক রয়েছে। কিছুক্ষণ পরপর তাকে বিভিন্নভাবে দৈহিক নির্যাতন চালায়। চিৎকার চেচামেচি করলে আবার মারধর করে গলা টিপে ধরে প্রাণ নাশের ভয় দেখিয়ে নিশ্চুপ করে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ চালায়। ধর্ষণের এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যায় আবার জ্ঞান ফিরে দেখে অন্য একজন নির্যাতন চালাচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে ১) মাঃ সাইদুল (২৫), পিং- পান্না আকন তানু, ৮৯, সিটি করপোরেশন টাউন মার্কেট, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, ২) আব্দুর রহিম ওরফে শুক্কুর, পিং- মৃত নুরুল ইসলাম, হোল্ডিং নং-৫৪৫, বাড়ী-৩, থানা- মোহাম্মদপুর, জেলা- ঢাকা। ৩) মনিরুজ্জামান মনির, ৮৯, সিটি করপোরেশন টাউন মার্কেট, মোহাম্মদপুর, ঢাকাসহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫জন। এভাবে ৯/০৫/২০১৮ইং তারিখ হইতে ১১/০৫/২০১৮ইং তারিখ পর্যন্ত পালাক্রমে পৈচাশিক নির্যাতনের শিকার হতে থাকে তাহমিনা। পরে তাকে ১১/০৫/২০১৮ইং তারিখ রাতে অসুস্থাবস্থায় আকলিমা (৪৫) নিজের কাঁেধ তাহমিনার মাথা রেখে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ তাহমিনা সচেতন হয়ে যায় এবং বুঝতে পারে সে লোক সমাবেশে হাটছে এবং তাৎক্ষণিক আকলিমাকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাওয়ার সময় কিছু দূর গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে যায়। তখন লোকজন জড়ো হয়ে গেলে আকলিমা পালিয়ে যায় এবং জ্ঞান ফিরে তাহমিনা দেখতে পায় সে থানায় পুলিশ এবং তার বাবার সামনে। ১১/০৫/২০১৮ইং তারিখ তাহমিনার বাবা মোঃ বেল্লাল (৪০), পিং- মৃত: মীর বক্স মন্ডল, বাড়ী-২০৪, প্লট- ৪, নুরুল ইসলাম স্মরণী, তুরাগ হাউজিং, মোহাম্মদপুর, ঢাকা তিনি মেয়ে তাহমিনাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি বিভাগে ভর্তি করেন এবং পরের দিন ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতালে কর্তব্যরত এস.আই নাসরিন এর পরামর্শে মামলা করার জন্য মোহাম্মদপুর থানায় যান। কিন্তু এই ব্যপারে প্রশাসন কোন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ তাহমিনার বাবা বেল্লালের। এ ব্যপারে তাহমিনার জবানবন্দী ও প্রয়াজনীয় এভিডেন্স সংগ্রহে রয়ছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here