‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরও আটজন নিহত হয়েছেন।

0
91
‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরও আটজন নিহত হয়েছেন।

দেশে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতের বিভিন্ন সময় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরও আটজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বরগুনায় ও দিনাজপুর থেকে দুই মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

দেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার ১২তম দিনে এখন পর্যন্ত বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৭১ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের প্রায় সবাই মাদক ব্যবসায়ী বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, গতকাল রাতে বন্দুকযুদ্ধের পর প্রতিটি ঘটনাস্থল থেকেই ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, পিস্তল, গুলিসহ দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

১৯ মে শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, সরকার মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) নীতি অবলম্বন করেছে।
গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যত দিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে, তত দিন এ অভিযান চলবে। আরও প্রত্যন্ত এলাকায় এ অভিযান ছড়িয়ে দেওয়া হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে , তাঁদের নাম অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ১৪ মে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে মাদক কেনাবেচায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

জয়পুরহাট: গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে জেলার পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুরের কে টি ইট ভাটাতে মাদক চোরাকারবারিরা একত্র হয়েছে এমন খবর আসে। এর ভিত্তিতে জয়পুরহাট র‌্যাব-৫ ক্যাম্পের টহল সদস্যরা সেখানে গেলে চোরাকারবারিরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রেন্টু শেখ ওরফে রিন্টু নামের একজনকে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয় বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়।

রিন্টুর বাড়ি উপজেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামে। তাঁর বিরুদ্ধে জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে ৯টি মামলা রয়েছে।

চাঁদপুর: কচুয়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধ বাবলু (৩৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টায় উপজেলার তারাগাও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, তাঁর বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

কুমিল্লা: পুলিশের ভাষ্য মতে ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া এলাকায় গতকাল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুলিশ মাদক উদ্ধার করতে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এ ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়। আহত হয় এএসপিসহ চার পুলিশ সদস্য।
পুলিশ বলছে, নিহত দুজন পুলিশের তালিকাভুক্ত চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এ সময় ।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির প্রথম আলোকে বলেন, মালেকের বিরুদ্ধে ১৬টি ও আলমাসের বিরুদ্ধে মাদকের ৮টি মামলা রয়েছে। তারা পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী।

বরগুনা: সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামান বলেন, ভোররাত তিনটার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নং কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়ন জাকিরতবক এলাকায় দুই দল মাদক ব্যবসায়ী টাকা ভাগাভাগি মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলি বিনিময় হচ্ছে খবর পায় পুলিশ। পরে সাড়ে চারটায় পুলিশ সেখানে গেলে একজনের লাশ পায়। নিহত ব্যক্তির নাম সগীর হোসেন। বাড়ি সদর উপজেলায়। তাঁর নামে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে আটটি মামলা রয়েছে।

দিনাজপুর: র‍্যাব দিনাজপুর ক্যাম্পের মিডিয়া কর্মকর্তা খন্দকার গোলাম মর্ত্তূজা বলেন, গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব ১৩ এর সদস্যরা বীরগঞ্জের মরিচা ইউনিয়নের বাসুদেবপুর এলাকায় অভিযানে যায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীদের একটি দল র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় সাবদারুল গুলিবিদ্ধ হয়। তাঁকে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। তাঁর বিরুদ্ধে দিনাজপুরের বিভিন্ন থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে করা ২৭টি মামলাসহ ডলার, অস্ত্রসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

অন্যদিকে দিনাজপুর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল রাতে সদর উপজেলার রামসাগর এলাকায় একদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গেলে সালামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পায়। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। নিহত সালামের বিরুদ্ধে দিনাজপুরে ৮টি মাদকের মামলা রয়েছে।

পাবনা: সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আব্দুর রহমান (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। তাঁর বাড়ি ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামে। পুলিশের দাবি, আব্দুর রহমান তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ৯টি মাদকের মামলা রয়েছে।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, শুক্রবার আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁকে নিয়ে রাতে মাদক বিরোধী অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় আগ থেকে ওত পেতে থাকা আব্দুর রহমানের সহযোগীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি গুলি বিনিময় হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আব্দুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঠাকুরগাঁও: পুলিশের ভাষ্য, সদর উপজেলার পশ্চিম বেগুনবাড়ি এলাকায় একদল মাদক ব্যবসায়ী অবস্থান করছে খবর পেয়ে ঠাকুরগাঁও থানা-পুলিশ অভিযান চালায়। সে সময় দু পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলি বিনিময় হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোবারক হোসেন ওরফে কুট্টি (৪৫) নিহত হন।
পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ জানান, কুট্টি ঠাকুরগাঁও রোড রেলস্টেশন এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর নামে বিভিন্ন থানায় মাদকের ১৫টি মামলা রয়েছে।

ময়মনসিংহ: ঈশ্বরগঞ্জের আঠারোবাড়ি ইউনিয়নের রায়ের বাজার পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক খন্দকার আল মামুন বলেন, তেলোয়ারি গ্রামের এক নির্জন রাস্তায় একদল মাদক ব্যবসায়ী মাদক ভাগাভাগি করছে—এ খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ ঘটনায় ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। একপর্যায়ে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হলে শাহজাহানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসক শাহজাহানকে মৃত বলে ঘোষণা করে। তাঁর বাড়ি উপজেলার উত্তর বনগাঁও গ্রামে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here