‘রোহিঙ্গা’-‘শরণার্থী’ বলবে না বাংলাদেশ

0
212

সেনাবাহিনীর সহিংসতার কারণে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘শরণার্থী’ হিসেবে বিবেচনা করতে চায় না সরকার।

এজন্য রোহিঙ্গাদের ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক’ হিসেবে অভিহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত সম্ভব মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু শরণার্থীর মর্যাদা দিলে সেটি দীর্ঘসূত্রিতায় আটকে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক’ বলার ক্ষেত্রে কিছু যুক্তি আছে।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা মিয়ানমারেরই নাগরিক। মিয়ানমারের সরকার ও সেনাবাহিনী মিলিটারি এ সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী। অতএব এর সমাধান তাদেরকেই করতে হবে। যারা এদেশে পালিয়ে এসেছে তাদেরকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এদিক থেকে আমাদের যুক্তিটা জোরালো।’

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক’ নামটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবহার করতে চায়। তবে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর এনিয়ে আলোচনা হবে।

শরণার্থী বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষর করেনি বাংলাদেশ।
কিন্তু তারপরেও এ দফায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার পর তাদের থাকার জন্য সরকার বনভূমির প্রায় তিন হাজার একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য দেশি বিদেশী ত্রাণ গ্রহণ করছে সরকার। ত্রাণ কাজে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের শরণার্থীর মর্যাদা না দিয়ে অন্য কোনো নাম দিলে বাংলাদেশের লাভ হবে কী না, এ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী শরণার্থী। কারণ রোহিঙ্গারা অত্যাচারিত হয়ে প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে এসেছে।

তিনি বলেন, তাদেরকে কেন অন্য নামে ডাকা হচ্ছে, তা বুঝতে পারছি না। তাদেরকে শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধিত করা উচিত। কারণ সময় লাগলেও শরণার্থীদেরই নিজ দেশে ফিরে যাবার অধিকার আছে।

শরণার্থী বিষয়ক গবেষণা সংস্থা রামরুর সি আর আবরার বলেন, রোহিঙ্গাদের ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক’ বললে পরিস্থিতির কোনো তফাৎ হবে না।

তিনি বলেন, শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেবার কিছু সুবিধা আছে। কারণ শরণার্থীরা নিজ দেশে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের দেখাশুনার দায়িত্ব শুধু আশ্রয় দানকারী দেশের উপর নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপরও বর্তায়।
রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি না দিলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দায়মুক্তি দেবার মতো হবে বলে মন্তব্য করেন সি আর আবরার। সূত্র: বিবিসি

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here