দোকানি তার শুঁড়ে কিছু টাকা গুঁজে দিতেই সে সরে গেল।

0
29
দোকানি তার শুঁড়ে কিছু টাকা গুঁজে দিতেই সে সরে গেল।

একটি দোকানের সামনে গিয়ে শুঁড় তুলে দাঁড়াল হাতিটি। মুখে হুংকার দেওয়ার মতো শব্দ। যেন কিছু একটা বলছে। তার অর্থ হতে পারে—টাকা দে! কারণ দোকানি তার শুঁড়ে কিছু টাকা গুঁজে দিতেই সে সরে গেল। গিয়ে দাঁড়াল আরেক দোকানে। এভাবে টাকা তোলা চলতে লাগল। হাতির পিঠে বসা মানুষটি এই টাকা নিয়ে গুঁজতে লাগলেন তাঁর ট্যাঁকে।

গতকাল রোববার বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজারে বিশাল এক হাতি দিয়ে বিভিন্ন দোকান থেকে টাকা আদায় করতে দেখা যায়। হাতির বিশাল লম্বা শুঁড় উঁচিয়ে টাকা আদায়ের দৃশ্য অনেকে কৌতূহল নিয়ে দেখতে থাকেন, বিশেষ করে শিশুরা। তারা হাতির পেছন পেছন ছুটতে থাকে। তবে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছিল বলে ছোটদের মতো বড়রা তত আনন্দ পাননি। অনেকে স্পষ্টই বিরক্তি প্রকাশ করেন।

হাতির পিঠে বসে থাকা মাহুত জানান, হাতিটির নাম ‘বীর বাহাদুর’।

গতকাল বিকেলে গোয়ালন্দ বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, হঠাৎ করে বাজারে বিশাল আকারের এক হাতির আগমন ঘটে। এরপর প্রতিটি দোকানঘরের সামনে দাঁড়িয়ে তার লম্বা শুঁড় দোকানের ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে টাকা দাবি করছে। টাকার পরিমাণও হতে হবে মানসম্মত। সহজে ৫-১০ টাকা নিতে চায় না।

বাজারের আলম লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘শুঁড় উঁচু করে যেভাবে দোকানে ঢুকিয়ে দেয়, দেখলেই ভয় করে। টাকা না দিয়ে উপায় নেই। প্রথমে পাঁচ টাকা দিয়েছিলাম, নেয়নি। পরে আরও বাড়িয়ে দিতে হয়েছে।’

ডে-নাইট ফার্মেসির কর্মী আব্বাস উদ্দিন বলেন, ফার্মেসিতে রোগী এসেছে। ওই সময় হঠাৎ হুংকার দিয়ে ওষুধের দোকানের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে হাতিটি। এ সময় রোগীর সঙ্গে থাকা ছোট এক শিশু ভয় পেয়ে যায়। বাধ্য হয়ে হাতিকে টাকা দিয়ে বিদায় করতে হয়েছে।

আব্বাস উদ্দিন বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, এভাবে বাজারের দোকান থেকে জোর করে টাকা আদায় করা তাঁর কাছে চাঁদাবাজি মনে হয়েছে।

হাতির এমন টাকা তোলার ছবি ধারণ করা শুরু করলে মাহুত দ্রুত সটকে পড়ার চেষ্টা করেন সেখান থেকে। তাঁর পেছনে পেছনে ছুটে যতটুকু জানা যায়, মাহুতের নাম নীলকমল। গাজীপুর থেকে বেশ কিছুদিন আগে ফরিদপুর এসেছেন। এখন যাত্রাপালা বা সার্কাস না থাকায় বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে এভাবে দিন পার করছেন। ফরিদপুর থেকে এসে ফের মাদারীপুরের টেকেরহাটের দিকে রওনা দিচ্ছেন।

টেকেরহাট যাওয়ার রাস্তা তো এদিকে না। উল্টো দিকে আসার কারণ জানতে চাইলে জানান, দু-এক দিন গোয়ালন্দ ঘাট ও মোড়ে অবস্থান করবেন। এরপর টেকেরহাটের দিকে রওনা দেবেন।

এভাবে টাকা নেওয়া কি ঠিক—এমন প্রশ্ন করলে বলেন, ‘আমরা এটাকে অন্যায় মনে করি না। কারণ, হাতির তো জীবন আছে। তার তো খাবারের প্রয়োজন হয়। তাই বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে দিন শেষে চার-পাঁচ হাজার টাকা তোলা হয়।’ এর প্রায় অর্ধেক টাকাই হাতির পেছনে খরচ হয় বলে তিনি দাবি করেন।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে হাতি দেখে কেউ যদি খুশি হয়ে কিছু দেয়, তাহলে কী করার আছে। তারপরও খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখব।’

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here