স্ত্রী মোশের্দাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা, আসামী গ্রেপ্তার, ফাঁসির দাবী স্বজনদের

0
252
স্ত্রী মোশের্দাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা, আসামী গ্রেপ্তার, ফাঁসির দাবী স্বজনদের

মোঃ মেহেদী হাসান, বাংলাদেশ নিউজ২৪

মিরপুর থানাধীন কাজীপাড়া এলাকায় ঘটলো একটি মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা! জানাযায় কাজীপাড়া নিবাসী মোঃ হেলাল উদ্দিন (২৮) দীর্ঘদিন যাবত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার করে আসছিলেন। তাদের ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। গত গয়েক মাস যাবৎ মোবাইল ফোনে পরকিয়া প্রেমে লিপ্ত এবং একাধীক মেয়ের সাথে ফোনে নানানভাবে ভিডিও ও অডিও কলে কথা বলার প্রমাণ পান স্ত্রী মোশের্দা খাতুন (২৪) পিতা- মোঃ মোসলেহ উদ্দিন। যা নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই কলহ লেগেই থাকতো। গত ৬ই এপ্রিল ২০২১ইং তারিখে আনুমানিক রাতের ২টার দিকে চিৎকার চেচামেচি শুনতে পেলে এলাকার জনগণ এগিয়ে আসেন এবং দেখতে পান বিছানায় পড়ে আছে স্ত্রী মুর্শিদার মরদেহ। বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর সাংবাদিককে মুর্শিদার মা জানান যে উক্ত হেলাল আমার মেয়েকে সর্বদাই নানান ভাবে অত্যাচার করে থাকে। কিছুদিন যাবৎ কোন এক মেয়ের সাথে কোন ভিডিও আমার মেয়ে দেখে ফেলেছে। এই ব্যপারে তারা প্রায় সময়ই ঝগড়া করতে শুনতাম। কিন্তু বিষয়টা এই পর্যন্ত যাবে বুঝতে পারি নাই। তাহলে আমার মেয়ের মৃতদেহ আমার সামনে আসতো না বলতে বলতেই কান্নায় ঢলে পারেন মুর্শিদার মা। তিনি আরও জানান আমাদের রুমের ফ্যান নষ্ট হয়ে যায় আর আমরা ভিতরের রুমে থাকায় গরমও বেশি লাগে। কোন মতে আমরা জানালা খুলে সবাই ঘুৃমিয়ে পরি। হঠাৎ উক্ত হেলাল আনুমানিক রাত ১:৪০ মি. এর দিকে আমাকে ডেকে উঠায় আর বলতে থাকে আম্মা দেখেনতো মুর্শিদার কি হইছে? আমি দৌড়ে চিৎকার দিয়ে মুর্শিদাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকি আর জিজ্ঞাসা করতে থাকি কি হইছে আমার মেয়ের? তখন হেলাল বলেন আম্মা আমি ২টা ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে দেখি মুর্শিদা ফাঁসি দিয়েছে। আমি তাকে নামিয়ে আপনাকে ডাক দিয়েছি। মুর্শিদার মায়ের বয়ান অনুযায়ী তখন ফ্যান চলমান ছিল। এমনকি ফ্যান বন্ধ করে দেখা যায় ফ্যানের সহিত দড়ি কিংবা ফাঁস লাগানোর কোন কিছু ঝুলে নেই। এমনকি ফাঁসি দিতে গিয়ে ফ্যানের কোন যায়গায় ময়লা পরিস্কার হয়েছে এমন প্রমানও পাওয়া যায়নি। অতপর: রাতের আনুমানিক ৩:৪৫মি. এর দিকে দায়িত্বরত পুলিশ এসে বিষয়টি তদন্ত করেন এবং আসামীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান। পরে সকাল আনুমাানিক ৬:১০ মি. সিআইডি অফিসার সাইফুরসহ আরও ৩জন সহযোগী এসে বিষয়টির বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন মেরী নামক মহিলা পুলিশের মাধ্যমে। তাৎক্ষনিক একটি জিডি হয় যার নং-৪০৬/০৬ এবং পরে একটি মামলা দায়ের হয় যার নং-১২/৬ তারিখ। হত্যার ঘটনাটি শুনতে পেয়ে পেয়ে ছুটে আসেন মিরপুর থানার এসি. মোমেন, ওসি মোস্তাফিজুর রহমান ও অন্যান্য সহযোগীরা। সুরতহাল অনুলিপি করে এস.আই নাছির লাশটি ময়না তদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দি হাসপাতাল পাঠান। মুর্শিদার মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মনে নেমে আসে গভীর শোক। স্বজনদের আহাজারী একটাই খুনির ফাঁসি চাই, খুনির ফাঁসি চাই। এব্যপারে এসআই নাছির বাংলাদেশ নিউজ২৪ কে জানান আসামী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এখনও স্বীকার করেনি যে আসামী খুন করেছে। তবে আসামীর বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর হলে রিমান্ডে আসামীর মুখ খুলতে পারে বলে এসআই নাছির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিকাল ৫টার পর লাশ ময়না তদন্ত করে এলাকায় নিয়ে আসেন স্বজনেরা। তারপর গোসল দিয়ে ময়মনসিংহের ধোবাউড় থানায় মোর্শেদার নিজ গ্রামে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here