প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হকের পদত্যাগ চেয়ে মুখে কাফনের কাপড় বেঁধে অনির্দিষ্টকালের জন্য মহাসড়ক অবরোধ

0
50
প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হকের পদত্যাগ চেয়ে মুখে কাফনের কাপড় বেঁধে অনির্দিষ্টকালের জন্য মহাসড়ক অবরোধ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হকের পদত্যাগ চেয়ে মুখে কাফনের কাপড় বেঁধে অনির্দিষ্টকালের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল ১১টা থেকে এই অবরোধ কর্মসূচি চলছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার কলাবাগান লিয়াজোঁ অফিসে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল এই সিন্ডিকেট সভায় উপাচার্যকে পদত্যাগ করার জন্য বাধ্য করা হবে। কিন্তু সিন্ডিকেট সভায় শেষে এ ধরনের কোন ফলাফল দেখতে না পেয়ে গভীর রাতে তিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা আলোচনায় বসে। তারা সিদ্ধান্ত নেয় বুধবার সকাল ১১ টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাস্তা অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বুধবার সকাল ১১ টা থেকে ঢাকা-পটুয়াখালি মহাসড়ক অবরোধ করেন । এতে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বরিশালের সাথে পটুয়াখালি, বরগুনা, ভোলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে । এসময় শিক্ষার্থীরা জরুরি পরিবহন, যেমন অ্যাম্বুলেন্স, বিভিন্ন এনজিও, ওষুধের গাড়িগুলো চলাচলে বাধা দিচ্ছে না। অবরোধ কর্মসূচির আগে সকাল ৯ টা থেকেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলায় অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করে। উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন বলেন, ‘আজ ১৬ দিন ধরে উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছি। কার্যত অচল রয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা দুই দুই বার উপাচার্যকে আন্টিমেটাম দিয়েছি। দুঃখের বিষয় তিনি আমাদের কথা আমলেই নিচ্ছেন না। মঙ্গলবার সিন্ডিকেট সভায় আমরা আশা করেছিলাম উপাচার্যকে পদত্যাগের জন্য বাধ্য করা হবে। কিন্তু তা করা হয়নি। তাই আমরা আজ কাফনের কাপড় মুখে বেঁধে অনির্দিষ্টকালের কালের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছি। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ছি না। হয় উপাচার্য স্যার ববিতে থাকবেন। না হয় আমরা থাকবো।’

প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে উপাচার্যে চা চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে বিইউডিএস এর এক অনুষ্ঠানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী দের ‘রাজাকার’ বললে আন্দোলন বেগমান হয়।বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসনে গত শনিবার বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা ভেস্তে যায়। উপাচার্যকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর আশ্বস্ত করা হলেও শিক্ষার্থীরা তা লিখিত চেয়ে আন্দোলনে অনড় রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here