খালেদা জিয়া তাঁর চারপাশে সৎ, নির্ভীক ও সাহসী লোক তৈরি করতে পারেননি: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

0
33
খালেদা জিয়া তাঁর চারপাশে সৎ, নির্ভীক ও সাহসী লোক তৈরি করতে পারেননি: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

আজ এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘একটি ব্যর্থতার’ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই ব্যর্থতার কথাটি তিনি আগে খালেদা জিয়াকে বলেছেন বলেও জানিয়েছেন।

গয়েশ্বরের ভাষায় খালেদা জিয়ার সেই ব্যর্থতা হলো তিনি বিএনপির মধ্যে সৎ, নির্ভীক ও সাহসী লোক তৈরি করতে পারেননি। খালেদা জিয়ার চারপাশে থাকা লোকগুলোর মধ্যে তাঁকে সৎ পরামর্শ দেওয়ার মতো লোক তৈরি হয়নি বলেও জানান বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকদের একজন গয়েশ্বর চন্দ্র।

আজ শুক্রবার রাজধানীতে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তাঁর চারপাশে সৎ, নির্ভীক ও সাহসী লোক তৈরি করতে পারেননি। যার জন্য নেতারা সংকট মোকাবিলা করতে ভয় পাচ্ছেন। আর সেই সুযোগ নিয়ে সরকার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে উসকানি দিচ্ছে।

গয়েশ্বরের এই বক্তব্য অনুষ্ঠানস্থলে থাকা নেতা-কর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনার জন্ম দেয়। এ ব্যাপারে গয়েশ্বর চন্দ্রের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কি ভুল কিছু বলেছি? নেত্রীর তো সমর্থক-কর্মী অনেক। কিন্তু তাঁর চারপাশে সব সময় অল্প কিছু মানুষ থাকে। সেই শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে নেত্রীকে সৎ পরামর্শ দেওয়ার লোক নেই। তাঁদের মধ্যে আমিও পড়তে পারি। সেটা যদি হতো তাহলে ওনার নেতৃত্বের ছায়া আমাদের মাঝে দেখা যেত। আর আমাদের নিজেদের মধ্যেও ঘাটতি আছে।’

খালেদা জিয়ার কারাবন্দী অবস্থা এবং আন্দোলন প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের রায় উপেক্ষা করা যাবে না। কিন্তু খালেদা জিয়া জনগণের নেত্রী, জনগণকে নিয়ে তাঁর মুক্তির আন্দোলন করতে হবে। বিএনপির এই নেতা বলেন, ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতের হত্যাকাণ্ডে ব্যাপক জনমত গড়ে উঠেছে। খালেদা জিয়ার সমর্থনেও জনমত রয়েছে। সেই জনমতকে সংগঠিত করে আন্দোলনে যেতে হবে।

দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৪ মাস কারাগারে আছেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁর মুক্তির দাবিতে বিএনপি সভা, সমাবেশ, গণ অনশন, মানববন্ধনের মতো নানান কর্মসূচি পালন করে। তবে এর কোনোটিই সরকারের ওপর তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিকে সামনে রেখেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। তবে নির্বাচনের পর বিএনপির নেতাদের মধ্যে আন্দোলনের ধরন, ঐক্যফ্রন্টের অধীনে নির্বাচনের যাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নেতাদের নানান সময়ে দেওয়া বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ পায়।

এবারের নির্বাচনে বিএনপির ছয় প্রার্থী নির্বাচিত হন। তাঁরা এখনো শপথ নেননি। তবে অনেকেই শপথ নিতে আগ্রহী। দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। এ প্রসঙ্গেও আজ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচিতরা বলছেন, জনগণের ইচ্ছে, সংসদে যেতে তাদের চাপ আছে। সুতরাং দল বললে তাঁরা প্রস্তুত এবং তাদের কাপড়-চোপড়ও প্রস্তুত রয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, তারা বলবেন দল বললে আমরা যাব, অন্যথায় যাব না। খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে আমরা সংসদে যাব, অন্যথায় যাব না। এই কথাগুলো শুনতে চেয়েছিলাম। তবে এরপরও যদি দল মনে করে সংসদে যাব না, তাহলে আমরা সংসদে যাব না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here