পুলিশের হয়রানীর প্রতিবাদে নির্যাতন, চাঁদা দাবী অত:পর মাদক মামলা

0
23
পুলিশের হয়রানীর প্রতিবাদে নির্যাতন, চাঁদা দাবী অত:পর মাদক মামলা

রাস্তা থেকে ধরে গাড়িতে আটকে রাখার প্রতিবাদ করায় নির্যাতন। এরপর মাদক মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়ে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি। সেই টাকা না পেয়ে কলেজছাত্রকে মাদক মামলায় হাজতে পাঠিয়েছে রাজশাহী মহানগরের চন্দ্রিমা থানা পুলিশ। শুধু তাই নয়, সেই ছাত্রের বাবাকে নিয়ে রাতভর নগরজুড়ে ঘুরেও বেড়িয়েছে পুলিশ। চন্দ্রিমা থানার ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।

মাদক মামলায় হাজতে পাঠানো ছাত্র ফয়সাল আলী সাগরের (১৭) মা রোকসানা পারভীন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন, চন্দ্রিমা থানার উপ-পরিদর্শক শাহীনুর ইসলাম, সহকারী উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম, মামুনুর রশীদ, কনস্টেবল রেজাউল করিম ও রায়হান ফকির।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাগর নগরীর শহীদ বুদ্ধিজীবী সরকারি কলেজের (বরেন্দ্র সরকারি মহাবিদ্যালয়) বাণিজ্য বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। গত ৭ সেপ্টেম্বর শনিবার খেলাধুলা করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ি ফিরছিল সে। এসময় শিরোইল কলোনির ৩ নম্বর গলির খোদাবক্স মোড়ের কাছে অবস্থানরত একদল পুলিশ সাগরকে থামায়। সেখানে তার দেহ তল্লাশি করে। কিছু না পেয়েও তাকে আটকে রাখেন তারা। অকারণে আটকে রাখায় বিরক্ত হয়ে প্রতিবাদ করে কলেজছাত্র সাগর। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই শাহীনুর ইসলাম তার জামার কলার ধরে গাড়ির নিচে ফেলে দেয়। এরপর সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয়।

রোকসানা পারভীন আরও জানান, রাত ৯টার দিকে সাগরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও দ্বিতীয় দফায় সাগরকে নির্যাতন করা হয়।

এরপর পুলিশ সাগরকে বলে, ‘বাবা-মাকে ফোন দিয়ে ২ লাখ টাকা নিয়ে চন্দ্রিমা থানায় দেখা করতে বল। টাকা না দিলে হেরোইন মামলায় হাজতে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তারা।’

কিন্তু সাগরের গরীব মা-বাবার পক্ষে ২ লাখ টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে পুলিশ মাদক মামলায় সাগরকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়।

সাগরের বাবা হোটেল কর্মচারী সাহেব আলী বলেন, ‘ছেলেকে ছাড়ানোর জন্য গেলে পুলিশ তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে সারারাত এখানে সেখানে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ায়, আর টাকা দিতে বলে। এ সময় আমাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। আমার ছেলে কোনওভাবেই মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের মূখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না। যদি অভিযোগ আসে তাহলে আমরা তদন্ত করার নির্দেশ দিই। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here