জয়পুরহাটে প্রথম সাংস্কৃতিক উৎসব উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর

0
295

‘সন্ত্রাসের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান, সঙ্কটের কল্পনাতে হোয়ো না ম্রিয়মান, মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বাণীকে ধারন করে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে উত্তরবঙ্গের প্রথম সাংস্কৃতিক উৎসব শনিবার শুরু হয়েছে। তিন দিন ব্যাপি এই উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

প্রদীপ প্রজ্জলনের মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন করে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ২০০৪ সালে উত্তরবঙ্গের এক জেলায় ক্ষুধা সইতে না পেরে নবকান্ত রায় নামে এক ব্যাক্তি আত্মহত্যা করেছিল। অভাব তখন মানুষের নিত্য সঙ্গী ছিল। উত্তরবঙ্গে মঙ্গার ধ্বনি ছিল সার্বক্ষণিক। অথচ এ কয়েক বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে দেশ এগিয়ে চলেছে। শেখ হাসিনা দেশে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। মানুষ আর এখন অভাবগ্রস্ত নয়। তাই দেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠেছে।

আসাদুজ্জামান নূর আরো বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজামে দেশের কয়েকজন তরুণ জঙ্গিবাদের তকমায় এক হত্যাযজ্ঞ্য চালিয়ে বিদেশিসহ প্রায় ২২জনকে হত্যা করে। ৭১ এর পূর্ব থেকে যারা এদেশে জঙ্গীবাদের আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন হত্যাকান্ড চালিয়ে আসছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিদেরকে সহায়তা করে নারী নির্যাতন ও ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে। সেই ধারায় দেশে জঙ্গিবাদ আজ তরুণ সমাজের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছে। এইসব তরুণদের সঠিক পথে আনতে গেলে সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাটক, গান, খেলাধুলাসহ নানা আয়োজন করে এই ধারার পরিবর্তন করতে হবে। সংস্কৃতির আলো দিয়ে তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। দেশে এখন কোচিং বানিজ্য শুরু হয়েছে। ভাল ফলাফলের জন্য সন্তানদের উপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হচ্ছে। চলছে জিপিএ-৫ নির্যাতন। তিনি বলেন যুব সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনতে আমাদের কাজ করতে হবে। শনিবার পাঁচবিবি স্টেডিয়ামে জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডঃ সামছুল আলম দুদুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উৎসবের পাঁচবিবি পৌরসভার মেয়র ও উৎসব কমিটির সচিব হাবিবুর রহমান সংস্কৃতিক উৎসবের বিভিন্ন দিক নিয়ে সূচনা বক্তব্য দেওয়ার পর ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. অজয় রায়, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন মোল্লা, পরমানু শক্তি কমিশনের সাবেক কমিশনার ফায়েজুর রহমান আল সিদ্দিক, ধরিত্রী বাংলাদেশের সম্পাদক অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ, উৎসব কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হক বাবুল বক্তব্য রাখেন। পাঁচবিবি স্টেডিয়ামে ৩ দিন ব্যাপি চলমান এই অনুষ্ঠানে উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার এক হাজার প্রতিযোগী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করে।

১৬ জেলা থেকে আগত প্রতিযোগী ছাড়াও কয়েক হাজার সংস্কৃতিমনাদের আগমনে পাঁচবিবি স্টেডিয়াম মিলন মেলায় পরিনত হয়। উৎসব অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পীরা শতকণ্ঠে গেয়ে ওঠে “ধনধান্যে পুষ্পে ভরা, আমাদের এ দেশ বসুন্ধরা”। এরপর উৎসব সঙ্গীত ও সম্প্রীতির গান উপস্থিত দর্শকদের মোহিত করে তোলে। সত্যের ছন্দে, প্রাণের আনন্দে গেয়ে ওঠে উৎসবে আগত নীলফামারি জেলা সাংস্কৃতিক দল। এদিকে উৎসবে প্রতিদিন একজন বিশিষ্ট গুনিজন ব্যক্তিত্বকে সন্মাননা প্রদান করা হবে। শনিবার পাঁচবিবি উপজেলার বংশিবাদক মুক্তিযোদ্ধা রাজশাহী বেতার শিল্পী মন্টু দাসকে উত্তরীয় পড়িয়ে সন্মাননা প্রদান করেন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here