অনেক ঈদগাহ পানিতে তলিয়ে

0
35

মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি ও হাকালুকি হাওরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যাকবলিত এলাকার প্রায় অর্ধশত ঈদগাহ পানিতে তলিয়ে আছে। এসব ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজ পড়ার সুযোগ নেই। বিকল্প হিসেবে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে। এদিকে রাস্তাঘাট ডুবে থাকায় ঈদের দিন অনেকের পক্ষেই ঈদগাহ বা মসজিদে যাওয়া সম্ভব হবে না।

জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুন মাস থেকেই কাউয়াদীঘি ও হাকালুকি হাওরাঞ্চলে বন্যার প্রকোপ চলছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করে। কিন্তু সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দুটি হাওর এলাকাতেই পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ভেসে ওঠা রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর আবারও পানিতে তলিয়ে যায়। ঈদুল আজহার আর মাত্র দুই দিন বাকি। কিন্তু কাউয়াদীঘি হাওরপারের সদর ও রাজনগর উপজেলা এবং হাকালুকি হাওরপারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার প্রায় অর্ধশত ঈদগাহ পানিতে তলিয়ে আছে।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুরা ইউনিয়নের জগৎপুরে দেখা গেছে, এলাকার ঈদগাহে প্রায় হাঁটুপানি ঢেউ খেলছে। ঈদগাহে যাওয়ার রাস্তায় প্রায় কোমরপানি। রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের মুনিয়ারপার ও ফতেহপুর এলাকায় দেখা গেছে, অনেক মসজিদেও পানি উঠেছে।

জগৎপুর শাহি ঈদগাহ কমিটির সহসভাপতি মিছবাহ মিয়া মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের ঈদগাহে এলাকার দুর্গাপুর, জগৎপুর, পাগুড়িয়া ও সানন্দপুরের পাঁচ-ছয় শ মানুষ অংশ নেন। ঈদগাহ পানিতে ডুবে গেছে। অনেক মসজিদে পানি। এলাকার প্রায় সব রাস্তাই ডুবে আছে। শুকনো এলাকার মসজিদে ঈদের নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ তবে বন্যাকবলিত এলাকার অনেকে জানিয়েছেন, বেশির ভাগ মানুষেরই নৌকা নেই। হাঁটুপানি, কোমরপানি ভেঙে অনেকের পক্ষেই ঈদের দিন ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হবে।

আখাইলকুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ বলেন, ‘ঈদগাহে নামাজ পড়ার অবস্থা নাই। কোনোটাতে পানি, কোনোটার রাস্তায় পানি। মসজিদেই নামাজ পড়তে হবে। প্রচুর পানি বেড়েছে।’

বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওরপারেও একই অবস্থা। তবে কিছু ঈদগাহ পানিতে ডোবেনি। ঈদগাহ পানিতে না ডুবলেও অনেক গ্রামের মানুষ ঈদগাহে আসতে পারবেন না। রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে আছে। উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের পাটনা, ভোলারকান্দি, দশঘড়ি, রাঙ্গিনগর, বাড্ডা, কটালপুর, উত্তর বাঘমারা, বাঘেরকোনা, তেরাকুরি, পাচলিয়াসহ বিভিন্ন গ্রাম এখন পানিতে ভাসছে।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এখন বিচ্ছিন্ন দ্বীপবাসী হয়ে গেছি। পানির খুব খারাপ অবস্থা। কী যে হবে!’

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here