ঈদের ছুটিতে মাতৃবাগান নিধনের শঙ্কা

0
37

আগারগাঁওয়ের ৭৩৯টি ফলদ বৃক্ষের মাতৃবাগানের জায়গায় মেট্রোরেলের সাইট অফিস নির্মাণ করা হলে এটি ধ্বংস হয়ে যাবে। ঈদুল আজহার ছুটি চলাকালীন গাছগুলো কেটে ফেলার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনসহ ছয়টি সংগঠন।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, মেট্রোরেলের জন্য ফলবাগানের আশপাশের খালি জায়গায় এই অফিস নির্মাণ করা হলে বাগানটিও বাঁচবে, মেট্রোরেলের কাজও হবে।

গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), তরুপল্লব, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা), ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট) এবং গ্রিন ভয়েস আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই আশঙ্কার কথা বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘মাতৃবাগানটি ধ্বংস করে মেট্রোরেলের অস্থায়ী কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড করা হলে তা হবে অবিবেচনাপ্রসূত, চরম নিষ্ঠুর কাজ। মনে হচ্ছে প্রতিহিংসা করে কেউ কাজটি করছে। বুঝেশুনে কেউ করেছে বলে মনে হয় না। আশপাশে আরও অনেক জায়গা আছে, যে জায়গা ব্যবহার করা যায়।’

আবুল মকসুদ বলেন, বাগানটি ধ্বংস করা হলে দেশের হর্টিকালচার গবেষণায় বড় ক্ষতি হবে। এই বাগানের ওপর হাত দেওয়া যাবে না। সরকারের কাছে আবেদন, বাগানটি যেন ধ্বংস করা না হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমান বলেন, ‘ফলবীথি জার্মপ্লাজম সেন্টারের জায়গায় অস্থায়ী ইয়ার্ড নির্মাণের সিদ্ধান্তে আমরা বিস্মিত। আমরা চিঠি চালাচালি করেছি, কিন্তু কাজ হয়নি। মেট্রোরেলের কাজ বাগান ঠিক রেখেই করা যায়।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন বলেন, ‘উন্নয়নের কথা এলেই নজর যায় গাছের দিকে। সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকদের ভয়, ঈদের ছুটির মধ্যেই মাতৃবাগানের গাছগুলো কাটা হয়ে যায় কি না।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘অনেক গৃহিণী বাগান বা ছাদে বাগান করতে এই মাতৃবাগান থেকে চারা কিনতেন। এখন তাঁরা কোথা থেকে কিনবেন? বাগানটি না থাকলে শিশুরা গাছ চেনার সুযোগও পাবে না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি, এই বনবীথি নষ্ট করা যাবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৯০ সাল থেকে প্রায় ২৭ বছরের ব্যবধানে এখানে দেশি-বিদেশি ফলদ গাছের জার্মপ্লাজম গড়ে উঠেছে। রাষ্ট্রের ফল গবেষণা ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে যতগুলো উদ্ভিদ ভান্ডারের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল, আগারগাঁওয়ের ৭৩৯টি ফলদ বৃক্ষের এই গবেষণা উদ্যান তারই একটি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফলবীথি জার্মপ্লাজম সেন্টারের বাগানটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে ১৯৯০ সালের দিকে যাত্রা শুরু করে। তখন রাষ্ট্রপতির সচিবালয় থেকে একটি নির্বাহী আদেশে আগারগাঁও-সংলগ্ন জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের পশ্চিম-দক্ষিণ অংশে একটি কেন্দ্রীয় ও প্রতিনিধিত্বমূলক বাগান স্থাপনের জন্য পাঁচ একর জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নকশার মাধ্যমে জায়গাটির যে অবস্থান চিহ্নিত করা হয়, তা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বর্তমান জাদুঘরের উত্তর পাশ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মাতৃবাগান-সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চিঠির ভাষ্য অনুযায়ী মেট্রোরেলের অস্থায়ী কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড নির্মাণের সময় বাগানের প্রায় ৮০ শতাংশ গাছ কাটা পড়বে। বাকি ২০ শতাংশ নির্মাণযজ্ঞের ধকলে ধ্বংস হবে।

এই ফলবীথি মাতৃবাগানে মোট ৬৭ প্রকার ফলের ২৬৫ জাতের ৭ শতাধিক গাছ আছে। এর মধ্যে দুর্লভ ও সুলভ মিলিয়ে একাধিক জাতের আম, লিচু, পেয়ারাসহ ২২টি ফলের জাত আছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন শাহজাহান মৃধা। এতে আরও বক্তব্য দেন, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন, হর্টিকালচার সোসাইটির আফজাল হোসেন প্রমুখ।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here