এই কিশোরীই কি সেই শিশুর মা?

0
93

রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া এক নবজাতকের মা ১৪ বছরের এক কিশোরী কি না, এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। আজ সোমবার আদালতে এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন থাকলেও তা জমা পড়েনি। ২ অক্টোবর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন ঢাকার শিশু আদালতের বিচারক হাফিজুর রহমান।

আদালত থেকে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাকিল নামের এক যুবক গত ১৬ জুলাই মাছ কিনতে রাজধানীর আবদুল্লাহপুর মাছের আড়তের দিকে যাচ্ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কের উত্তর পাশে এসে দেখেন, একটি হলুদ রঙের শপিং ব্যাগ পড়ে আছে। সেখান থেকে শিশুর কান্নার আওয়াজ আসছিল। ব্যাগের ভেতর থেকে এক দিন বয়সী এক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করেন তিনি। সেই নবজাতককে নিয়ে যান বাসায়। পরে তিনি শিশুটিকে নিয়ে যান উত্তরা-পশ্চিম থানায়। অভিভাবক না পাওয়ায় পুলিশ নবজাতকটিকে তাঁর জিম্মায় দেন। দুই ছেলেসন্তানের জনক শাকিল কন্যাশিশুটির লালন-পালন করতে থাকেন। ১৫ দিন পর ১৪ বছরের এক কিশোরী এসে হাজির তাঁর বাসায়। সেই কন্যাশিশুর মা বলে দাবি করে সে। শাকিল তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসতে বলেন। পরে সে আদালতে এক লিখিত আবেদনে দাবি করে, কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটি তার গর্ভজাত সন্তান। আদালত এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। আজ সোমবার সেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রতিবেদন দেননি তদন্ত কর্মকর্তা।

বেলা ১১টার দিকে ঢাকার শিশুর আদালতের বারান্দায় গিয়ে দেখা যায়, শিশুটির মা বলে দাবি করা কিশোরী তার এক খালাতো বোনের সঙ্গে কথা বলছেন। কিশোরীর দাবি, দুই বছর আগে সাগর নামের এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয়। তার বাড়ি ভোলায়। সে তখন একটি মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। থাকত বাড্ডা এলাকায়। সাগরের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছুদিন পর কাজি ডেকে এনে বাড্ডার একটি বাসায় তাদের বিয়ে হয়। এরপর সে অন্তঃসত্ত্বা হয়। ১৫ জুলাই বাড্ডায় নিজের মায়ের বাসায় তিনি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। এরপরের দিন যুবক সাগর এসে তাকে বলে, বাচ্চাসহ তাকে নিয়ে যাবে ভোলায় তার গ্রামের বাড়িতে। তার কথামতো আশুলিয়ায় বাচ্চাসহ কিশোরীকে নিয়ে যায় সাগর। সেখানকার একটি দোকান থেকে একটি জিনিস কেনার কথা বলে আশুলিয়ার একটি রাস্তার ধারে কিশোরীকে দাঁড় করিয়ে বাচ্চা কোলে নিয়ে যায় সাগর। সেই যে সাগর গেল আর ফিরল না। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সেখানে অপেক্ষা করার পর কাঁদতে কাঁদতে বাসায় ফিরল কিশোরী। পরে নবজাতকের খোঁজে আশুলিয়ার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকে কিশোরী।

কিশোরীর তথ্যমতে, তারা সাত ভাইবোন। বাবা অনেক আগে মারা গেছেন। এক বোনের বাসায় এখন থাকছে। পরিবারের অমতে বিয়ে করায় কেউ তাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেননি। আর বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পর একমাত্র মা ছাড়া আর কেউ তাকে সহযোগিতা করছে না। এত কষ্টের পরে বাচ্চার মা হলো, সেই বাচ্চা এখন অন্যের কাছে। কাঁদতে কাঁদতে কিশোরী বলছিল, ‘দুই মাস হয়ে গেল আদালতের বারান্দায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। কিন্তু বাচ্চা ফিরে পাচ্ছি না। আমি এক কঠিন পরীক্ষায় আছি। বাচ্চার জন্য মন খুব কাঁদে। মন সব সময় বলে, কবে কাছে পাব তাকে।’

নবজাতকের মা কে, সে সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা সুমন মধু প্রথম আলোকে বলেন, শিগগিরই আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। শিশুটি এখন যুবক শাকিলের কাছে থাকলেও তাকে আজিমপুরের শিশু নিবাস কেন্দ্রে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজকালের মধ্যে তাকে সেখানে নিয়ে আসা হবে। নবজাতক কুড়িয়ে পাওয়া যুবক শাকিল বললেন, আদালত যে আদেশ দেবেন তা মাথা পেতে নেব। আর কিশোরী আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, ওই নবজাতকের মা ওই কিশোরীই। আশা করি, আদালতে তা প্রমাণিত হবে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here