ওবায়দুলের বিচার কেন শিশু আইনে

0
54

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আকতার রিশাকে (১৪) হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ওবায়দুল খান শিশু না হয়েও শিশু আইনের সুযোগ নিতে চাইছেন। ওবায়দুলের বয়স ৩০ বছরের মতো। এর আগে হত্যা মামলাটির বিচার নিষ্পত্তির জন্য শিশু আদালতে পাঠানো হয়।
গত বছরের ২৪ আগস্ট রাজধানীর কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের পাশে সবার সামনে সুরাইয়াকে পেটে ছুরি মারেন ওবায়দুল। চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হেরে যায় মিষ্টি মেয়েটি। পলাতক ওবায়দুলকে ৩১ আগস্ট নীলফামারীর ডোমার থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৫ সেপ্টেম্বর হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি। এরপর ১৪ নভেম্বর রমনা থানার পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়। চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল অভিযোগ গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনকে আদালতে উপস্থাপন করেছে। ছুরিকাঘাতের ওই ঘটনাটি যারা দেখেছিল, তাদের অনেকেই শিশু। যার কারণে মামলায় সাক্ষী হিসেবে চার শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সাক্ষী শিশু হওয়ার বিষয়টিকে সামনে এনে আসামি ওবায়দুলের আইনজীবীরা মামলাটিকে নিয়মিত আদালত থেকে শিশু আদালতে বদলির আবেদন করলে গত ২২ আগস্ট ঢাকার মহানগর দায়রা জজ তা মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আসামির জন্যও শিশু আইনের সুবিধাগুলো আদালতের কাছে চাওয়া হয়।
বাদীপক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির (বিএনডব্লিউএলএ) পক্ষে মামলাটি দেখভাল করছেন ফাহমিদা আক্তার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ওবায়দুল তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে শিশু আইনের সুবিধা নেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করেছেন। ওই আবেদন সংশ্লিষ্ট শিশু আদালতে দাখিল করে সুবিধা চাইলে আদালত তা নাকচ করে দেন। এ বিষয়ে ওবায়দুলের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে যাবেন বলে আদালতের কাছ থেকে সময় নিয়েছেন।
সাধারণত হত্যার মতো অপরাধের জন্য নিয়মিত আদালতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও শিশু আদালতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই। শিশু আইনের ৩৩ এর ১ ধারায় বলা আছে, অন্য আইনে যে সাজার বিধান থাকুক না কেন, শিশু আইনে কোনো শিশুকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যাবে না।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশু আইনে বলা আছে, কোনো মামলার সাক্ষী শিশু থাকলে শিশু আদালতে ওই মামলার বিচার হবে। আসামি প্রাপ্তবয়স্ক হলে সে ক্ষেত্রে কী হবে, তা শিশু আইনে বলা নেই। তাই সুযোগ চাইতেই পারি।’
শিশু আইনের ১৭ এর ১ ধারায় বলা হয়েছে, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু বা আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু কোনো মামলায় জড়িত থাকলে ওই মামলার বিচারের এখতিয়ার কেবল শিশু আদালতের থাকবে। আর ১৭ এর ২ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো মামলায় কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে কোনো শিশু জড়িত থাকলে, আইনের ১৫ ধারার অধীনে পৃথক অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে শিশু আদালতকে ওই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট শিশুর সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব একই দিনে পৃথকভাবে শেষ করতে হবে।
বিএনডব্লিউএলএর নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী প্রথম আলোকে বলেন, কোনো শিশু অপরাধে জড়িয়ে থাকলে তার বিচার শিশু আদালত করবেন ‘বা আইনের সংস্পর্শে’ এসে শিশু কোনো মামলায় জড়িত থাকলে তার বিচারও শিশু আদালতে হবে। ‘বা আইনের সংস্পর্শে’ শব্দমালার সুযোগ নিয়েছে রিশা হত্যা মামলার আসামিপক্ষ। আইনের এই ধারাটি সংশোধন হওয়া জরুরি।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here