কাউনিয়া উপজেলা > এক সপ্তাহে তিস্তায় বিলীন শতাধিক বসতভিটা

0
68

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তা নদীর তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা, আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তাই এলাকার লোকজন ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তার পানি বেড়ে গত মাসের মাঝামাঝি এই এলাকা প্লাবিত হয়। চলতি মাসের শুরু থেকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে। পানি নেমে যাওয়ার পর থেকে উপজেলার বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নের তিস্তা নদীতীরবর্তী পাঁচটি গ্রামে ভাঙন দেখা দেয়। গ্রামগুলো হলো বালাপাড়া ইউনিয়নের তালুক শাহবাজ, গণাই, আজম খাঁ ও নিচপাড়া এবং টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণ।

১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, তালুক শাহবাজ গ্রামের সুপারিবাগান এলাকা নদীর কিনারে এসে পড়েছে। যেকোনো সময় বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছে গ্রামবাসী। নিচপাড়া গ্রামের মানুষের আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে। এবার বসতভিটা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সেখানকার মানুষ ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।

লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর পর্যন্ত হরিচরণ গ্রামে ১৮টি পরিবার, আজমখাঁ গ্রামে ২৮, তালুক শাহবাজ গ্রামে ৩৫, নিচপাড়া গ্রামে ২০ এবং টেপামধুপুর ইউনিয়নের গণাই গ্রামে ৩০ পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া অনেক আবাদি জমিও এখন নদীগর্ভে।

ভাঙনকবলিত গ্রামবাসীর ভাষ্য, নদী যেভাবে ভাঙছে, তাতে এভাবে থাকা সম্ভব হবে না।  পাঁচ বছর আগে এসব স্থানে নদীর ভাঙন ছিল না। কিন্তু এবার বন্যার পর নতুন করে তিস্তার ভাঙন শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় এক কিলোমিটার ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে।

তালুক শাহবাজ গ্রামের কৃষক জীতেন্দ্রনাথ রায় নদীভাঙন থেকে বসতভিটা রক্ষা করতে ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হামার এ জায়গাত আগোত এমন করিয়া নদীর ভাঙন হয় নাই। এবার বান আসার পর এমন ভাঙা শুরু করিল। রাইতোত ঘুম আইসে না। কখন যে ঘরবাড়ি ভাঙি যায়!’

নিচপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল বাতেন বলেন, ‘দুই দিন আগোত আবাদি জমি ও বসতভিটা নদীত ভাঙি গেইছে। এলা হামার ঘরও নাই, আবাদি জমিও নাই। ঘরবাড়ি সরেয়া এলা অন্যের জায়গাত ঘর তুলিয়া আছি।’ একই গ্রামের আব্দুস সোবহান, মোহাম্মদ হোসেন, নওশাদ মিয়া ও নুরুল ইসলাম এবং হরিচরণ গ্রামের দীনেশ চন্দ্র বর্মণ, সুশীল চন্দ্র, ভবেশ চন্দ্র ও দীপেন চন্দ্র বলেন, তাঁরা আগে বন্যা দেখলেও এভাবে নদীর ভাঙন খুব কমই দেখেছেন। গত কয়েক দিনে নদীভাঙনে তাঁদের ভিটামাটিসহ আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। তাঁরা এখন অসহায়। তাঁদের নেই কোনো জমি। ভাঙনকবলিত অধিকাংশ মানুষ অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন।

বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনসার আলী বলেন, এবার বন্যা ছিল ভয়াবহ। এর আগে এসব এলাকায় বন্যা হয়েছিল। কিন্তু এবারের মতো নয়। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেভাবে ভাঙছে, তাতে করে আরও অনেকে গৃহহীন হয়ে পড়বেন।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here