ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন উজিরপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমিনুল ইসলাম।

0
28
ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন উজিরপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমিনুল ইসলাম।

ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেফতারের পর তার অভিভাবকের কাছ থেকে নেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন উজিরপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমিনুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার ওই যুবককে আটক ও ঘুষ নেওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হলে ওই রাতেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন তিনি।

গ্রেফতার হওয়া যুবক হলো উজিরপুরের মুণ্ডুপাশা গ্রামের মৃত মোশারফ খানের ছেলে শামীম খান (৩০)। এএসআই আমিনুল ইসলাম শিকারপুর এলাকা থেকে আটক করেছিলেন শামীমকে।

শামীমের মা রেবা বেগম বলেন, ছেলেকে আটকের খবর পেয়ে তিনি থানায় গেলে আমিনুল ইসলাম তাকে জানান, ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলা হলে শামীমের ১৪ বছর জেল খাটতে হবে। ১১ পিস ইয়াবা দিয়ে চালান দিলে সহজেই আদালত থেকে জামিন পাওয়া যাবে। তবে এ জন্য তাকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। তার কাছে টাকা নেই বলে জানালে আমিনুল ইসলাম বিষয়টি গোপন রাখার শর্তে তার ব্যবহূত মোবাইল ফোন নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলেন। পরে সুদে পাঁচ হাজার টাকা এনে ওই এলাকার রুবেল মিয়ার বিকাশের দোকান থেকে আমিনুলের নম্বরে টাকা পাঠান রেবা বেগম।

তবে বিকাশে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে এএসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শিকারপুর ইউনিয়নের মুণ্ডুপাশা গ্রামের কাজী রিয়াজের কছে আমি পাঁচ হাজার টাকা পেতাম। শুক্রবার বিকাশে সে ওই টাকা পাঠিয়েছে। এটা ঘুষের টাকা নয়।’

উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পালের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শামীমের কাছ থেকে ১১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। শামীমের মায়ের কাছ থেকে আমিনুলের ঘুষ নেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। তবে কেউ তার কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেননি।

এদিকে উজিরপুর থানার দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার রাতেই ওসি শিশির পালের মধ্যস্থতায় এএসআই আমিনুল অভিযোগকারী রেবা বেগমের বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত দিয়ে আসেন। সমকালের কাছে রেবা বেগম জানিয়েছেন, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এএসআই তার টাকা ফেরত দিয়েছেন।

ঘটনাটি তদন্তে বরিশালের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম দায়িত্ব দেন গৌরনদী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আকরামুল হাসানকে। শনিবার আকরামুল হাসান সরেজমিনে উজিরপুরে তদন্ত শেষে সমকালকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এএসআই আমিনুলের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আরও তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here