ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ১১ কি.মি যানজটের পরিস্থিতি

0
150

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ধেরুয়া থেকে কদিমধল্যা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ ১১ কিলোমিটার এলাকায় ব্যাপক যানজট। ধীর গতিতে চলছে যানবাহন। ফলে ঈদের আগের দিন যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবস। তাই অফিস এবং বিশেষ করে পোশাক কারখানা ছুটির পর এই মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের ঢল নামে। আজ সকাল থেকে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে থাকে।

পুলিশ ও যানজটে আটকে থাকা যানবাহনের কয়েকজন চালক জানান সকালে গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত যানবাহনের প্রচুর চাপ থাকলেও মির্জাপুরের গোড়াই ক্যাডেট কলেজ এলাকা থেকে জামুর্কী পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করেছে। তবে দুপুরের পর থেকে যানবাহনের চাপ আরও বেড়ে যায়। বেলা দুটার পর থেকে উপজেলার ধেরুয়া থেকে জামুর্কী পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এলাকা অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে। দুই ঘণ্টার পর বেলা সোয়া চারটার দিকে আবার চলতে শুরু করে। কিন্তু গতি খুবই কম। তাই ১১ কিলোমিটার জুড়ে এখনো যানজট।

ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী গোলাম মতুর্জা জানান, গতকাল বাসে ওঠেন রাত তিনটায়। এরপর সাভার যে‌তে না যে‌তেই ফজ‌রের আজান। সকাল ১০টায় চন্দ্রা। আর যখন টাঙ্গাইল বাইপা‌সে তখন জুমার নামাজ। তিনি বলেন, দুই-আড়াই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে ১২ ঘণ্টা লেগেছে।

আজ বেলা তিনটায় মির্জাপুর বাইপাসে গিয়ে উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহনকে স্থবির অবস্থায় দেখা যায়। তখন অনেক চালককে ক্লান্ত হয়ে নিজের আসনে ঘুমাতে দেখা যায়। অনেক যাত্রীও নিচে নেমে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। তবে নারী ও শিশুদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে ঢাকামুখী যানবাহনের সংখ্যা ছিল খুবই কম।

পাবনাগামী ট্রাক চালক লোকমান হোসেন জানান, চন্দ্রা থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত মাত্র ৩০ মিনিটের রাস্তা তিন ঘণ্টায় পৌঁছান। কিন্তু মির্জাপুরে এসে এক জায়গায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বসে থাকতে হয়।

গাজীপুরের কোনাবাড়ী বিসিক এলাকায় একটি কারখানার জ্যাকেট সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, যানজটের কারণে তিনি সকাল সাতটায় কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত হেঁটে আসেন। সেখান থেকে একটি ট্রাকে ওঠেন। ট্রাকটি প্রায় তিন ঘণ্টায় মির্জাপুর পৌঁছায়। এরপর এই স্থানে (কোনাবাড়ী বিসিক এলাকায়) প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বসে আছেন।

মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোতালেব হোসেন জানান, রাস্তায় হঠাৎ প্রচুর যানবাহন দেখা যাচ্ছে। এতে ধীর গতিতে যান চলছে। পুলিশ যানজট এড়াতে কাজ করে যাচ্ছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here