নারীদের প্রশিক্ষণের ২৫টি কেন্দ্র বেদখল ও পরিত্যক্ত | ঝিনাইদহ সমাজসেবা অধিদপ্তর

0
118

দলে দলে নারীরা এসে মিলনায়তনগুলোয় বসে প্রশিক্ষণ নিতেন। প্রশিক্ষণ শেষে দেওয়া হতো ঋণ। প্রশিক্ষণ আর ঋণ নিয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতেন তাঁরা। ঝিনাইদহে সমাজসেবা অধিদপ্তরের এমন ২৫টি গণমিলনায়তন কেন্দ্রের সাতটি এখন বেদখলে। বাকিগুলো পরিত্যক্ত।

কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটির ঘর দখল করে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক কার্যালয় বানানো হয়েছে। একটির ঘরে থাকছে দুটি পরিবার। আরও পাঁচটি কেন্দ্রের জমি দখল করা হয়েছে। বাকিগুলোয় বাসা বেঁধেছে পোকামাকড়। পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে সেগুলো।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮১ থেকে ১৯৮৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে গণমিলনায়তন কেন্দ্রগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয়। এগুলোর জন্য জমি দেন এলাকার মানুষ। বেশির ভাগে জমির পরিমাণ ১৫ থেকে ১৬ শতক। সরকার এই জমির ওপর টিনের ছাউনি তৈরি করে। কোটচাঁদপুরে ১৫টি, মহেশপুরে ৪টি এবং শৈলকুপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ৩টি করে কেন্দ্র ছিল। এগুলোয় প্রশিক্ষণ দেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তারা।

গণমিলনায়তনে প্রশিক্ষণ নেওয়া ফুলবাড়ী গ্রামের ছালমা খাতুন বলেন, স্বামীর আয়ে সংসার চলত না। সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে ঋণসুবিধা পেয়ে তাঁর পরিবারে সচ্ছলতা এসেছে।

হরিন্দিয়া গ্রামের জহুরা খাতুন বলেন, তিনি সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এরপর সমাজসেবা অফিস তাঁকে ঋণ দেয়। তা দিয়ে সেলাইমেশিন কিনে তিনি কাজ করতেন। এখন আর সেলাইয়ের কাজ করেন না।

সমাজসেবা কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পল্লি মাতৃ প্রশিক্ষণকেন্দ্র নামের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এসব কেন্দ্রে তিন থেকে চার বছর মেয়াদি কার্যক্রম ছিল। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ে। আস্তে আস্তে মিলনায়তনগুলো পরিত্যক্ত হয়। সেখানে থাকা নানা উপকরণ সংরক্ষণ না করায় হারিয়ে যায়। এখন শুধু ঘরগুলো আছে পরিত্যক্ত ও বেদখল অবস্থায়।

সম্প্রতি কোটচাঁদপুরের ফুলবাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, মিলনায়তনের সাড়ে ১৬ শতক জমির অনেকটা প্রতিবেশীরা দখল করে নিয়েছেন। ঘরটির একপাশে মমতাজ খাতুন নামের এক নারী বাস করছেন। আরেক পাশে আছেন আলাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি।

মমতাজ খাতুন বলেন, তাঁর জায়গাজমি নেই। তাই এখানে থাকেন।

একই উপজেলার হরিন্দিয়া গণমিলনায়তন কেন্দ্রের জায়গায় সরকারি দলের কার্যালয় করা হয়েছে। এই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, জায়গাটি পড়ে ছিল, তাই তাঁরা ব্যবহার করছেন।

জালালপুর গণমিলনায়তন কেন্দ্রের সাড়ে ১৬ শতক জমির মধ্যে সাড়ে ১২ শতক অন্যরা দখল করে নিয়েছেন। সেখানে পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোমিনুর রহমান বলেন, প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো চালু থাকলে নারীরা প্রশিক্ষণ পেতেন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। কিন্তু এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জায়গা ও ভবনগুলো অন্যরা ব্যবহার করছেন। বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here