নেত্রকোনায় গণ ধর্ষণের শিকার, কিশোরীর আত্মহত্যা ॥ এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

0
131

জানা গেছে, কথিত ধর্ষণকারীরা প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান। এ কারণে একটি পক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়েছে। এদিকে ধর্ষণকারী তিন যুবকই গা ঢাকা দিয়েছে।

সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা গ্রামের কিশোরী পান্না আক্তারের আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকাবাসী শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরাকোনা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। বিক্ষোভকালে পান্নার বাবা-মাসহ এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, তিন বখাটের গণ ধর্ষণের শিকার হয়ে লোকলজ্জায় মেয়েটি আত্মহত্যা করে। এ সময় তারা ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরাকোনা বাজারে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ এর ব্যানারে এলাকাবাসী এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। ঘণ্টা ব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেনঃ ঠাকুরাকোনা রহিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান, সাহতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পল্টন সরকার, যুবলীগ নেতা রাকিব হাসান, প্রাথমিক শিক্ষক আবুল কাশেম, মেয়েটির বাবা লাল চান মিয়া, মা আলপনা বেগম, ঠাকুরাকোনা রহিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার, শাপলা আক্তার, দিলোয়ার হোসেন, বাপ্পী, রনি প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বাজারের প্রধান সড়ক ঘুরে স্থানীয় কংস সেতুতে গিয়ে শেষ হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কিশোরীর অভিভাবকরা জানান, পান্না আক্তারের বাবা লালচান মিয়া একজন দরিদ্র রিকশাচালক। তারা রেললাইনের পাশের একটি খুপড়ি ঘরে থাকে। গত রবিবার সন্ধ্যার দিকে ওই গ্রামের তিন যুবক মেয়েটিকে বাড়ি থেকে ডেকে পাশের একটি মাছের খামারের ঘরে নিয়ে যায়। ফিরতে দেরি দেখে পরে তার মা ওই খামারে গেলে এক যুবক জানান তার মেয়ে সেখানে নেই। দ্বিতীয়বার রাত আটটার দিকে তিনি আবার সেখানে যান এবং অনেক অনুনয় বিনয় করে ওই তিন যুবকের কাছ থেকে বিধ্বস্ত অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। বাড়ি ফিরে মেয়েটি জানায়, ওই তিন যুবক তাকে ধর্ষণ করেছে। কিছুক্ষণ পর যুবকরা তাদের ঘরে এসে ঘটনাটি কাউকে জানালে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়ে যায়। এরই মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি জেনে যায়। এতে লোকলজ্জায় পরদিন বেলা ১১টার দিকে পাশের ঘরের আঁড়ায় ফাঁস লাগিয়ে মেয়েটি আত্মহত্যা করে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

এদিকে এলাকায় গণ ধর্ষণের ঘটনাটি জানাজানি হলেও নেত্রকোনা মডেল থানায় ঘটনাটি ¯্রফে ‘অপমৃত্যু’ মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আমীর তৈমুর ইলী বলেন, ‘মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। মেয়েটির অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতেই আমরা অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করেছি।’

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here