পদত্যাগ করা উচিত ছিল- প্রধান বিচারপতিকে প্রধানমন্ত্রী

0
68
সব সহ্য করা যায়, কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা কিছুতেই সহ্য করব না * প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির সব ক্ষমতা কেড়ে নিতে চান * দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয় দেয়া ও রক্ষা করা প্রধান বিচারপতির কাজ নয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণগুলো লেখার আগে বা পরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগ করা উচিত ছিল। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিভিন্ন অসঙ্গতির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই রায়ে নানা অসঙ্গতি, ভুল এবং স্ববিরোধিতা রয়েছে। একজন বিচারপতির দুর্নীতির তদন্ত করা যাবে না মর্মে দুদককে দেয়া প্রধান বিচারপতির চিঠি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয় দেয়া ও রক্ষা করা প্রধান বিচারপতির কাজ না।

সোমবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সরকারপ্রধান আরও বলেন, সব সহ্য করা যায় কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করলে, আমরা কিছুতেই সহ্য করব না। যে পাকিস্তানকে আমরা যুদ্ধে হারিয়ে বিজয় অর্জন করেছি, তার সঙ্গে তুলনা করা অপমানজনক, এটা এ দেশের জনগণ কিছুতেই সহ্য করবে না। বরং প্রধান বিচারপতির দেখা উচিত কী ধরনের বিচার ব্যবস্থা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে।

২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত হন। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনের বাইরে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় আওয়ামী লীগের এবং ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির সব ক্ষমতা কেড়ে নিতে চান অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন বলেই তারা (বিচারপতি) ওই পদে বসতে পেরেছেন। যে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন, সেই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে না বলেই তাদের এত রাগ ও গোস্ব্যা। দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করা তো উচ্চ আদালতের দায়িত্ব না। সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে অপমানজনক কথা বলাও তো আদালতের কাজ না। প্রধান বিচারপতি সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নিয়েও কথা বলেছেন। সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এসব সংরক্ষিত নারী এমপিও তো ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। আর নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন। তাই সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে কথা বলার আগে প্রধান বিচারপতির তো উচিত ছিল পদ থেকে সরে যাওয়া। বলতে পারতেন, যেহেতু সংরক্ষিত নারী এমপি ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন, তাই আমি এ পদে থাকব না।

শেখ হাসিনা বলেন, ষড়যন্ত্র বারবার এ দেশের গণতন্ত্রের যাত্রাকে ব্যাহত করেছে। এখন আবার আমরা দেখছি, উচ্চ আদালতের ভূমিকা এবং সেখানে যেসব বক্তব্য দেয়া হচ্ছে, আর সব থেকে যেটা অপমানজনক পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা। অনেকেই পাকিস্তানের দালালি করেছে। সেই পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করা! সব সহ্য করা যায় কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করলে এটা আমরা কিছুতেই সহ্য করব না। পাকিস্তানের রায় দেখে কেউ ধমক দেবে, এক্ষেত্রে জনগণের কাছে বিচার দাবি করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, আজ কেন পাকিস্তানের উদাহারণ দেবে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কেন তুলনা করবে? ওই হুমকি আমাকে দিয়ে লাভ নেই। আমরা আইয়ুব খান দেখেছি, জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া…।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি উচ্চ আদালত থেকে নানা ধরনের বক্তব্য, রাজনৈতিক কথাবার্তা এবং হুমকি-ধমকি। যাদের আমরাই নিয়োগ দিয়েছি, রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন। পার্লামেন্ট সদস্যদের ক্রিমিনাল বলা হচ্ছে। সেখানে ব্যবসায়ী আছে, সেটাও বলা হচ্ছে। ব্যবসা করাটা কি অপরাধ। কোনো ব্যবসায়ী মামলা করলে উচ্চ আদালত কি তাদের পক্ষে রায় দেয় না। বিচার তো তারাও পায়। তাহলে ব্যবসায়ী যদি সংসদ সদস্য হয়, তাহলে তার অপরাধটা কোথায়? সংসদকে হেয় করা এবং সংসদকে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করা এটার অর্থটা কি? আমরা অনেক সংগ্রাম করে, অনেক আন্দোলন করে, রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে এই দেশে গণতান্ত্রিক ধারা নিয়ে এসেছি। ’৭৫-র পর ১৯টি ক্যু হয়েছে। হাজার হাজার সামরিক বাহিনীর অফিসার সৈনিককে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে একটা সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ অবস্থায় নিয়ে এসেছি। আমাদের প্রধান বিচারপতির রায়, সংসদ সম্পর্কে বক্তব্য, সংসদ সদস্য সম্পর্কে বক্তব্য, এমনকি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাও নিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা- এটা কোন ধরনের কথা!

সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের সংবিধান আছে। এই সংবিধানে কোনো কোনো অনুচ্ছেদ, যেটা আমাদের মূল সংবিধানে ছিল, সেটাও উনার (প্রধান বিচারপতি) পছন্দ না। জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে মার্শাল ল’ অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে যে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল করে দিয়ে গেছেন, সেটা উনার পছন্দ। কিন্তু সংসদ দ্বারা গণপরিষদ যে সংবিধান তৈরি করে দিয়ে গেছেন, সেই ধারাও উনার পছন্দ না। সেখানে উনি চাচ্ছেন মার্শাল ল’ যেটা করে গেছে সেটা। বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করতেই কি তার জুডিশিয়াল কাউন্সিল পছন্দ? রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেড়ে নেয়া এ কোন ধরনের দাবি? বিএনপি আমলে অনেক বিতর্কিত, দুর্নীতিবাজ, ভুয়া সনদধারীদের বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে উচ্চ আদালতের পবিত্রতা নষ্ট করে গেছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল হলে তো কারোরই বিচার হবে না। বিএনপির আমলের বহু ঘটনা আছে, এমনকি ছাত্রদলের দুই নেতাকে দুই কাঁধে নিয়ে রায় পড়ে শোনাচ্ছে- এরকম জজও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কোর্টের যে, সেনটিটি (পবিত্রতা), সেটি যারা ধ্বংস করেছে, তাদের সবাইকে রক্ষা করার জন্যই কি এই সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল উনি চাচ্ছেন? ওটাও তো রাষ্ট্রপতির কাছেই যেতে হবে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাটাও হাতিয়ে নিয়ে যাওয়া, এটা কোন ধরনের দাবি। এটা কোন ধরনের কথা। তিনি আরও বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট চুরি করে যে সংসদ সদস্য হয়েছিল তার মধ্যে একজনকে তো খালেদা জিয়া বিচারক বানিয়েছেন। কই চিফ জাস্টিস তো তাকে বের করে দেননি।

আমার এখানে কথা হল, পুরো আদালতের দায়িত্ব সব উনাকে দিতে হবে। তিনি কী করবেন? জয়নাল আবেদীন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার যে তদন্ত করেছিলেন। তিনি যে রিপোর্ট দিয়েছেন, যেটা সম্পূর্ণ ভুয়া, মিথ্যা তথ্য দিয়ে, মনগড়া তথ্য দিয়ে, বলতে গেলে, বিএনপি সরকারের ফরমায়েশি তদন্ত রিপোর্ট। তার দুর্নীতির তদন্ত যখন দুদক করতে গেছে, দুদকের পক্ষ থেকে কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছিল। আর সেখানে প্রধান বিচারপতি চিঠি দিয়ে দিলেন যে, এই জয়নুল আবেদীনের দুর্নীতির তদন্ত করা যাবে না। দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করবে, তারপর যদি তদন্তে দোষী হতো, তাহলে আদালতেই বিচার চাইতে যেত, আদালতে বিচার চাইলে না হয় উনি কিছু বলতে পারতেন? কিন্তু তদন্তই করা যাবে না, এ কথাটি প্রধান বিচারপতি হয়ে কীভাবে বলেন। তার মানে একজন দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয় দেয়া। দুর্নীতিবাজকে রক্ষা করা। এটা তো প্রধান বিচারপতির কাজ নয়। এটা তো সম্পূর্ণ সংবিধানকে অবহেলা করা। সংবিধানকে লঙ্ঘন করা। তার বিচার করা যাবে না কেন? তিনি অনেক রায় দিয়েছেন, সেই জন্য। রায় দিলেই তার বিচার করা যাবে না, এটা আবার কোন ধরনের কথা। এটা কীভাবে হয়? কাজেই আমার এখানে প্রশ্ন যে, তিনি এ চিঠি লিখলেন কীভাবে? তার মানে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল হলে, সেখানে কোনো বিচার হবে না। বিএনপির আমলে এমন এমন জজ নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, কারও সার্টিফিকেট জাল। জাল সার্টিফিকেট দিয়ে বিচারক হয়ে গেছেন।

সংসদে আইন পাসের প্রক্রিয়ার ধাপগুলো তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এত যাচাই-বাছাই করে যে আইনটা আমরা করে দেই, সংবিধান সংশোধনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে, সেটা দিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। আর সেটা এক কলমের খোঁচায় নাকচ করে দেয়া? তার মানে এত সংসদ সদস্য, এত অফিসার সবাই মিলে যেটা নিয়ে কাজ করল? তাদের কারও কোনো জ্ঞানবুদ্ধি নেই, জ্ঞানবুদ্ধি ওই এক-দুইজনেরই। বিশেষ করে যে ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে এত আলোচনা, এত কথা, ষোড়শ সংশোধনী সেখানে তো আপিল বিভাগের প্রত্যেক জজ সাহেব ছিলেন, তারা কিন্তু তাদের স্বাধীন মতামত কতটুকু দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন, সেটা আমি জানি না। সেই সুযোগটা বোধহয় প্রধান বিচারপতি তাদের দেননি। কারণ রায়টা পড়লে অনেক কিছু বোঝা যায়। রায়টা পুরো আমরা পড়ছি আর কিছু বাকি আছে, পড়ব। তারপরে সংসদে আমরা অবশ্যই আলোচনা করব।

কোনো দল নির্বাচনে না এলে কিংবা প্রার্থী না দিলে সংসদের বৈধতা বা অবৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে না : ‘সংসদ কতদিন চলবে তা ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত নেয়’- প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণে এ দাবি অসত্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্যাবিনেটে সংসদ কতদিন চলবে তা নিয়ে কখনই কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয় না। সংসদ সম্পর্কে এতটুকু ধারণা থাকলে এ কথা বলতে পারতেন না। ক্যাবিনেট নয়, স্পিকারের সভাপতিত্বে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, সংসদ কতদিন চলবে, কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে। এমন বহু অবান্তর কথা বলা হয়েছে পর্যবেক্ষণে। আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় ভালো করে পড়ছি এবং অসঙ্গতিগুলো নোট নিচ্ছি। সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। সময় এলে নিশ্চয় সবকিছু জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। এটা নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যরা দায়বদ্ধ দেশের জনগণের কাছে। পাঁচ বছর পরপর আমাদেরকে জনগণের আদালতের সামনে দাঁড়াতে হয়। একটি রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচনে না আসে, সেই দায়িত্ব কার? এটা তো ওই রাজনৈতিক দলেরই সিদ্ধান্তের ব্যাপার। বিএনপি তো সব সময় উত্তর পাড়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু উত্তর পাড়া তাকে কোনো সাড়া দেয়নি। আর ড. কামাল হোসেন তো কোনোদিন সরাসরি ভোটে জিততে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেয়া একটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। নিজে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আবার বড় বড় কথা বলেন কীভাবে? নির্বাচনী আইনেই রয়েছে কোনো আসনে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকলে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। কোনো দল নির্বাচনে না এলে কিংবা প্রার্থী না দিলে সংসদের বৈধতা বা অবৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে না।

দেশবাসীর ওপর বিচারের ভার ছেড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে পাকিস্তানকে আমরা যুদ্ধ করে পরাজিত করেছি, লাখো শহীদের মহান আত্মত্যাগে পেয়েছি স্বাধীনতা। যে পাকিস্তান এখন ব্যর্থ রাষ্ট্র, সেই দেশকে নিয়ে তুলনা করায় বিচারের ভার দেশের জনগণের। কারণ জনগণের আদালতই হচ্ছে, সবচেয়ে বড় আদালত। স্বাধীনতা ভালো কিন্তু তা বালকের জন্য নয়। বালকসুলভ আচরণ ভালো নয়। রাজাকার-আলবদর কিংবা শান্তি কমিটির সদস্যরা ক্ষমতায় এলে দেশের কোনো উন্নয়ন হয় না। একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকলে, দেশের উন্নয়ন হয়। আমরা তা প্রমাণ করেছি।

‘কয়েকটা ফ্লাইওভার বা রাস্তা হলেই উন্নয়ন হয় না’- এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, কয়েকটা ফ্লাইওভার কিংবা রাস্তা নয়, আমরা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করেছি। দেশের মানুষ দু’বেলা খেতে পারছে, চিকিৎসা পাচ্ছে, গ্রামের মানুষের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, দেশের ৮০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে, শতভাগ শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছে। এসব উন্নয়ন কি চোখে পড়ে না আমাদের প্রধান বিচারপতির? বিশ্ব থেকে আমরা দেশের সম্মান নিয়ে এসেছি। বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষমতা দখল করলেই কি উন্নয়ন হবে? সেই অবস্থা আর নেই। সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষমতায় এলে তার বিচার হবে। জনতার আদালত সবচেয়ে বড় আদালত, মনে রাখবেন।

ড. কামাল হোসেন ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মধ্যে আদালতে তর্কাতর্কির ঘটনা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো ভদ্রলোকের সন্তান এভাবে গালি দিতে পারে, এটা আমার জানা নেই। ড. কামাল হোসেনের মতো মানুষ অ্যাটর্নি জেনারেলকে জঘন্য ও অকথ্য ভাষায় গালি দিলেন। যে শব্দ বলছেন, তা আমি নিজেই উচ্চারণ করতে গেলে লজ্জা পাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি, আজকে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই তা করতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন, সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষমতায় এলে সেটাই উন্নয়ন হবে? সেটা হবে না এই বাংলাদেশে। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে যেটা এখন আছে, কেউ যদি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে তাহলে তার বিচার হবে।

আলোচনা সভায় অধিকাংশ বক্তাই প্রধান বিচারপতির কড়া সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেমন, জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল, কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্বজন এবং আহতদের সঙ্গে কথা বলেন। আহতদের খোঁজখবর নেন এবং নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here