পাঁচ দিনের রিমান্ডে বড় মিজান

0
34

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদগাহের তল্লাশিচৌকিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় করা মামলায় নব্য জেএমবির ‘অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী চক্রের প্রধান’ মো. মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার কিশোরগঞ্জের ১ নম্বর আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. ইকবাল মাহমুদ এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আরিফুর রহমান বড় মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার হাজারদিঘী গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বড় মিজান নব্য জেএমবির চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী শিবগঞ্জের প্রধান দায়িত্বশীল ব্যক্তি। আগে তিনি জুনুদ আত তাওহীদ নামের একটি জঙ্গি সংগঠনের প্রধান সামরিক কমান্ডার ছিলেন। পরে তামিম চৌধুরীর মাধ্যমে নব্য জেএমবিতে যুক্ত হন। বড় মিজানের নেতৃত্বেই নব্য জেএমবি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তকেন্দ্রিক অস্ত্র ও গ্রেনেড তৈরির উপকরণ, ডেটোনেটর ও বিস্ফোরক জেল চোরাচালানের একটি চক্র গড়ে তোলে। এই চক্রই জেএমবির প্রায় সব অস্ত্র, ডেটোনেটর ও বিস্ফোরক জেল সরবরাহ করছিল। শোলাকিয়া হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেড ও পিস্তলগুলো বড় মিজানের মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়। তাই শোলাকিয়ার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ২৪ আগস্ট মামলার পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুর্শেদ জামান আদালতে বড় মিজানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। তখন আরেক শীর্ষ জঙ্গি সোহেল মাহমুদকেও গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়।
গত বছর ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন নামাজ শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অদূরে আজিমউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের কাছে পুলিশের তল্লাশির সময় জঙ্গিরা গ্রেনেড হামলা চালায়। এ ছাড়া তাদের চাপাতির কোপে দুই পুলিশ কনস্টেবল আনসারুল হক ও জহিরুল ইসলাম মারা যান। এ সময় আরও ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ঘটনাস্থলে জঙ্গি আবির রহমান মারা যান। উভয় পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে নিজ বাসায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এলাকার গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিক। আটক করা হয় জঙ্গি শফিউল ও স্থানীয় তরুণ জাহিদুল ইসলাম ওরফে তানিমকে। গত বছরের ৪ আগস্ট ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার ডাংরি এলাকায় র‍্যাবের সঙ্গে এক বন্দুকযুদ্ধে শফিউল নিহত হন। এ ঘটনায় এখনো কারাগারে আছেন জাহিদুল ইসলাম ও শফিউলের গাইবান্ধার বাড়ির মালিক আনোয়ার হোসেন
ঘটনার তিন দিন পর ১০ জুলাই পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুদ্দীন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা করেন। চাঞ্চল্যকর এ মামলায় জাহিদুল ইসলাম ওরফে তানিম ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে আটক জঙ্গি শফিউলের আশ্রয়দাতা আনোয়ার হোসেন কিশোরগঞ্জের কারাগারে আছেন।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here