পানির দামে নিচ্ছে রোহিঙ্গাদের স্বর্ণ ও মুদ্রা

0
69
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ঘিরে গড়ে উঠেছে অসাধু সিন্ডিকেট চক্র। এরা শরণার্থীদর সঙ্গে নিয়ে আসা কিয়াত (মিয়ানমারের স্থানীয় মুদ্রা) ও স্বর্ণ রেখে নামমাত্র টাকা ধরিয়ে দিচ্ছে। এক লাখ কিয়াতের বিনিময়ে দিচ্ছে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা। রোহিঙ্গাদের দুর্দশাকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির দালাল এর নেপথ্যে কাজ করছে বলে সূত্রের খবর।
এ চক্র মুদ্রা সংগ্রহ করে চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রি করছে। উখিয়ার কুতুপালং ও ঘুমদুম অস্থায়ী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, রোহিঙ্গাদের ঢল বাংলাদেশে আসতে শুরু করলে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় অনেক দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠে। নৌকা ভাড়া করে মিয়ানমার থেকে রেহিঙ্গাদের বাংলাদেশে নিয়ে আসা, যানবাহন ভাড়া করে দেয়া, বিভিন্ন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া, বসবাসের জন্য জমির ব্যবস্থা করা, রোহিঙ্গা নারীদের স্বর্ণালংকার ও জিনিসপত্র বিক্রি করে দেয়া, কম মূল্যে মিয়ানমারের মুদ্রা ‘কিয়াত’ কেনাবেচা করছে এ চক্র। পুলিশি অভিযান, গ্রেফতার ও বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করেও দমানো যাচ্ছে না দালাল চক্রকে। মূলত মিয়ানমারের মুদ্রা ও স্বর্ণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে তারা। রোহিঙ্গা নারীদের কাছ থেকে স্বর্ণ ও মুদ্রা রেখে বিনিময়ে নামমাত্র মূল্যে বাংলাদেশের টাকা দেয়া হচ্ছে। একইভাবে যাদের কাছে মুদ্রা নেই, তাদের স্বর্ণের বিনিময়ে টাকা দেয়া হচ্ছে। ফলে নাফ নদী পার হওয়ার পর একজন রোহিঙ্গার সঙ্গে থাকা শেষ সমম্বলটুকু কেড়ে নিচ্ছে দালাল চক্র।
শরাণার্থীরা বলছেন, বিকল্প না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে পানির দরে নিজেদের কাছে থাকা মুদ্রা ও স্বর্ণ তুলে দিচ্ছেন দালালদের হাতে। বিনিময়ে যা পাচ্ছে, তা দিয়ে একবেলা খাবারও জুটছে না। জানা গেছে, ট্রলারে যাত্রী বিশেষ করে রোহিঙ্গা পারাপারে জড়িত দালাল চক্র রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করছে। ঘুমধুম সীমান্তের শামলাপুরে এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছ শহীদ, মৌলভী রফিক, মৌলভী আজিজ, জহুর আলম, নুরুল আলমসহ অর্ধশত দালাল। শামলাপুর এলাকার বেশিরভাগ বোট মালিকও এখন দালালি শুরু করেছে। এদিকে কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ঘুমধুম সীমান্ত সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, আগের তুলনায় শনিবার রোহিঙ্গা স্রোত কম ছিল। তবে ২৪ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও পুলিশের হামলার পর থেকে এই সীমান্ত দিয়ে লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী রহিমা বেগম জানান, তার পরিবারের ৬ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে মিয়ানমারের সেনারা। এরপর এক কাপড়ে পালিয়ে আসেন বেঁচে থাকা পরিবার-পরিজন নিয়ে। ১১ দিন বনজঙ্গল পাড়ি দিয়ে নাফ নদীর সামনে আসার পর টাকার অভাবে নৌকা পার হতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা মূল্যের (মিয়ানমার মুদ্রা) ও নাকফুল মাঝিকে দেয়ার পর সে নৌকা পার করে দিয়েছে। এমন অসংখ্য অভিযোগ শরণার্থী রোহিঙ্গাদের। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here